১৪ই জুন – বিশ্ব রক্ত দান দিবস. এই দাতা আন্দোলনের সমস্ত রকমের অর্থ স্বত্ত্বেও উত্সব কিন্তু বেশী দিন আগে পালন করা শুরু হয় নি – সবে ২০০৫ সাল থেকে. বিশেষজ্ঞরা রক্ত দান বিষয়ে প্রচার করার গুরুত্ব নিয়ে উল্লেখ করেছেন, কারণ বিশ্বে প্রতি মুহূর্তে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে.

    ১৪ই জুন তারিখ কিন্তু এমনি বাছা হয় নি. এই দিনে ১৮৬৮ সালে জন্মেছিলেন অস্ট্রিয়ার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বিষয়ে চিকিত্সক কার্ল ল্যান্ডশ্টেইনের. ১৯০০ সালে তিনি নির্ধারণ করেছিলেন যে, মানুষের রক্ত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত. এই আবিষ্কার রক্ত দেওয়া বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশী সফল ও নিরাপদ করতে পেরেছিল. ২০০৫ সাল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এই বিজ্ঞানীর জন্মদিনকে বিশ্বের বিনামূল্যে রক্ত দান দিবস হিসাবে ঘোষণা করার, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রেড ক্রস সংস্থার রক্ত দাতা প্রকল্পের রাশিয়া শাখার কোঅর্ডিনেটর ইরিনা উরসু বলেছেন:

    "১৪ই জুন সারা পৃথিবী জুড়েই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে – বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন সংস্থা এটা আয়োজন করে. এটা যেমন রক্ত পরিষেবা, তেমনই রেড ক্রস ও অন্যান্য দাতা সংস্থারা. যেমন আমরা ১৪ থেকে ১৬ই জুন সমস্ত রক্ত দাতাদের উপহার দেবো, যাঁরাই আমাদের রক্ত দান শিবিরে এসে রক্ত দেবেন, এই ভাবেই তাদের মধ্যমে প্রচার করা হবে বিনা মূল্যে রক্ত দেওয়ার কথা".

    প্রথম বিনা মূল্যে রক্ত দান কবে হয়েছিল তা কেউ জানে না. বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে বিশ্বের সর্বত্রই রক্ত দান করা রাষ্ট্রীয় আয়তনে শুরু হয়েছিল. সেই সময়ে সোভিয়েত দেশে সবচেয়ে উন্নত ব্যবস্থা ছিল রক্ত দানের বিষয়ে. মহান পিতৃভূমির যুদ্ধের সময়ে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষের ও বেশী রক্ত দাতা বিশেষজ্ঞদের মতে সত্তর লক্ষ লোকের প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিলেন. ১৯৪৪ সালে এক বিশেষ সাম্মানিক পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছিল, যাঁরা নিয়মিত রক্ত দান করতেন, তাঁদের জন্য. সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ার পরে রক্ত দান করার বিষয়েও সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতির মতো ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যেতে লক্ষ্য করা গিয়েছিল. কিন্তু গত দশ বছরে ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে ইরিনা উরসু বলেছেন:

    "বিগত দশ বছরে প্রতি হাজার লোকের মধ্যে রক্ত দাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে. যদি ২০০১ সালে প্রতি হাজারে সাত জন মাত্র রক্ত দিতেন, তবে এখন চোদ্দ জন দিয়ে থাকেন. অনেক দেশেই এই সংখ্যা তিরিশ থেকে পঞ্চাশ – সুতরাং আমাদের এখনও উন্নতি করার দরকার রয়েছে, তবুও বর্তমানে আমরা রক্তের প্রবল অভাব বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি. এ ব্যাপারে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় অবদান হল যুবক, যুবতী ও ছাত্র সমাজের – যাঁরা সক্রিয় ভাবে রক্ত দান করে থাকেন".

    ২০০৮ সাল থেকে বিনা মূল্য রক্ত দান বিষয়টিকে রাশিয়াতে একটি সরকারি ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সমান করা হয়েছে. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে রক্ত পরিষেবা বিষয়ে আধুনিকীকরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু রক্ত সব সময়েই প্রয়োজনের চেয়ে কম হয়েছে – আর এটা বর্তমানে সারা বিশ্বেরই সমস্যা, এই কথা বলে রাশিয়ার পিরাগোভ রক্ত দান তহবিলের কার্যকরী পরিষদের সদস্য পাভেল ভরোবিয়ভ বলেছেন:

    "আজকের দিনে সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, তৈরী হয়েছে চলমান রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র. কিন্তু রক্ত সংক্রান্ত নানা জিনিসের প্রয়োজন খুবই বেশী. এই প্রসঙ্গে অবশ্যই রক্ত পরিষেবার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে. বিগত বছর গুলিতে তা দ্রুত উন্নতি করছে. সব চেয়ে বড় সাফল্য হয়েছে – টাটকা প্লাজমা কে সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা. অর্থাত্ লোকে রক্ত দিচ্ছে, সেই রক্তের প্লাজমা ছয় মাস ধরে জমিয়ে রেখে দেখা হচ্ছে, তাতে হেপাটাইটিস বা এইডস রোগের কোন সংক্রমণ রয়েছে কি না. যদি এই রকম কিছু থাকে, তবে সেই প্লাজমা নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে, যা নীতিগত ভাবেই রোগীদের সংক্রমণের ভয় কমিয়ে দিচ্ছে. এটা খুবই বিরাট অগ্রগতি".

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি তৃতীয় পৃথিবীর বাসিন্দারই জীবনে একবার অন্ততঃ রক্ত প্রয়োজন পড়ে. দাতা শব্দের ইংরাজী দানের বিশেষ্য থেকেই থেকে এই শব্দ রুশী ভাষায় এসেছে. রেড ক্রস ও অন্যান্য সংস্থা ১৪ই জুন – অন্ততঃ এক দিনের জন্য হলেও – রক্ত দিয়ে কারও প্রাণ রক্ষায় আবেদন করেছে. এটা একেবারেই নিরাপদ ব্যাপার, যা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে করা হয়ে থাকে, সময় লাগে মিনিট পনেরো. প্রসঙ্গতঃ চিকিত্সকেরা বলে থাকেন যে, যাঁরা নিয়মিত রক্ত দেন, তাঁরা অন্ততঃ পাঁচ বছর বেশী বেঁচে থাকেন.