কাজাখস্থানের রাজধানী আস্তানা – ১৪- ১৫ই জুন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার জয়ন্তী বর্ষের শীর্ষ সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাচ্ছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আজ আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক মূখ্য কুশীলব ও মধ্য এশিয়া এলাকায় স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গ্যারান্টি. রাশিয়া, কাজাখস্থান, চিন, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্থানের নেতারা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অধিবেশনে শুধু বিগত দশ বছরের কাজকর্মের এক মূল্যায়নই এখানে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন না, তাঁরা এই সংস্থার দীর্ঘস্থায়ী উন্নতির প্রসঙ্গেও নীতি নির্ধারণ করতে চলেছেন.

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকে বর্তমান কালের বিপদের এক ইউরোএশিয়া জোড়া জবাব বলে মনে করা হয়েছে. আর সেই বিপদের সংখ্যা যথেষ্ট. এটা – আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত পার হওয়া অপরাধ, মাদক ব্যবসা, মানুষ বিক্রয় ও অস্ত্র বিক্রয়, অর্থনৈতিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিপদের হাত থেকে এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলির নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্ন. আর এই রকম লোকের সংখ্যা কমও নয়, বেশীও নয় - বর্তমান বিশ্বের মোট লোকসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা তৈরী করা হয়েছিল এক জটিল সময়ে, যখন বিশ্ব এক মেরুর আর রইল না ও তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছিল শুধু পশ্চিমের ধারণা অনুযায়ী দৃষ্টিভঙ্গী এবং অন্তর্দেশীয় অর্থনীতি ও সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে পশ্চিমের মডেলকেই চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছিল. আজ ভরসা যোগ্য অবস্থানে দাঁড়িয়ে বলা যেতে পারে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের এক গ্যারান্টি. এই সংস্থা শুধু নিজের এলাকাতেই স্থিতিশীলতা রক্ষা করছে না, বিশ্বের ক্ষেত্রেও করছে.

    আসন্ন সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক- বিনিয়োগ মেরুতে রূপান্তরিত হতে চলেছে. গত দশ বছরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এক আঞ্চলিক কাঠামো পার হয়ে বেরিয়ে আসা প্রভাবশালী সংস্থায় পরিনত হয়েছে. তার অংশগ্রহণ ছাড়া বহু আন্তর্জাতিক সমস্যায় ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়না, এই কথা উল্লেখ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কার্যকরী পর্ষদে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি লিওনিদ মইসেয়েভ বলেছেন:

    "দশ বছরে সংস্থা অনেক দূর চলে এসেছে. একেবারে শূণ্য থেকে শুরু হয়েছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ দিকে সহযোগিতা. বর্তমানে এই রকমের সহযোগিতার ক্ষেত্র হয়েছে প্রায় সমস্ত দিকেই, যা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য রাষ্ট্র গুলির জন্য আগ্রহজনক. আমরা সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করছি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সহযোগিতা হচ্ছে. একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা শুরু হয়েছে".

    আগামী শীর্ষবৈঠকের সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির নেতাদের এক খুবই সঙ্কট জনক বিষয়ে আলোচনা করতে হবে- মাদক বিরোধী স্ট্র্যাটেজি, যা আফগানিস্থানের মাদক পাচার চক্রের পথে বাধা দেওয়ার এক সর্বজনীন ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়াবে, যে কারণে বিভিন্ন দেশের বহু লক্ষ মানুষ আজ কষ্ট পাচ্ছেন. তাছাড়া, তাঁদের নজরের মধ্যে থাকবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী কাঠামোর উন্নতি, আফগানিস্থানের পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রয়াসের উন্নতি.

    এই শীর্ষ বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু গুলির মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকছে – সংস্থার প্রসার. বিগত কিছু সময় পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া ছিল স্থাণু অবস্থায়, কিন্তু আসন্ন ভবিষ্যতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় সম্ভবতঃ নূতন সদস্য দেশের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যাবে. এই কাজের উপযুক্ত আইন সঙ্গত পদ্ধতি তৈরী করা হয়েছে. প্রাথমিক ভাবে এই সংস্থার সদস্য পদ পেতে চলেছেন সেই সমস্ত দেশ, যাঁরা এখানে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন, যেমন, ভারত, ইরান, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া. এই ধরনের মর্যাদা পেতে আরও চেয়েছে আফগানিস্থান. কথা প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে যে, এই শীর্ষবৈঠকের অঙ্গনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভাবে দেখা করার কথা রয়েছে আফগান নেতা হামিদ কারজাইয়ের. কিন্তু এমনকি বর্তমানের কাঠামোতেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিশ্বে সবচেয়ে উচ্চ মূল্যায়ণ পেয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে লিওনিদ মইসেয়েভ বলেছেন:

    "বিগত দশ বছরের একটি প্রধান সাফল্য হয়েছে বিশ্ব সমাজের কাছ থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্য এশিয়া অঞ্চলে বিশিষ্ট ভূমিকার স্বীকৃতী. এটা প্রকাশ হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে নেওয়া বিশেষ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েও, যেখানে বলা হয়েছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা মধ্য এশিয়াতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এক মূখ্য সংস্থা".

    এই সংস্থার ফলপ্রসূ হওয়া নিয়ে প্রামাণ্য বিষয় হল – কিরগিজিয়াতে গত বছরের গণ বিক্ষোভের সময়ে সেই দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে সফল ভাবে সুরক্ষিত করা. জানা আছে যে, রাশিয়া এই সময়ে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল এই বিরোধকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য. এই ধরনের উদাহরণ কিছু কম নেই. যোগ করবো যে, কাজাখস্থানের পরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সভাপতিত্ব যাবে চিনের হাতে, সেই দেশের হাতে, যারা এই সংস্থা নির্মাণের জন্য এক অন্যতম ভূমিকা নিয়েছে. সম্ভবতঃ এই সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ছয় দেশের কাঠামোর বাইরে প্রসারিত হতে চলেছে.