১৩ মে সোমবার ইয়েমেন থেকে রাশিয়ার জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয়ের দুইটি বিমানে ৫৯ জন শিশুসহ মোট ১৭৫ জন রুশিকে মস্কোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইয়েমেনে গৃহযু্দ্ধ চলায় এই যাত্রীরা সবাই নিজের ইচ্ছায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন।

এর পূর্বে রাশিয়া ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এবং আদেনের কনসূল শাখায় কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমিয়ে এনেছে। বর্তমানে ইয়েমেনে মাত্র ১০০০ জন রুশ নাগরিক অবস্থান করছেন। এদের অধিকাংশই সরকারি এবং বেসরকারি চুক্তিভিত্তিক প্রোকৌশল বিশেষজ্ঞ।  রুশিদের বহনকারি জরুরি সহায়তা মন্ত্রনালয়ের বিমান যদিও শুক্রবার অথবা শনিবার অবতরনের কথা ছিল।কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই সরকারি ও বিরোধী দলের কর্মীদের সাথে ব্যপক সংঘর্ষ বাঁধায় বিলম্ব ঘটে। এছাড়া  আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধের হুঁমকিও দেয়া হয়েছিল।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে আল-কায়দা জঙ্গি গোষ্ঠীর তত্পরতার কারণেই বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সমস্যা দেখা দেয়।জিনজিবার শহরে ইয়েমেন প্রেসিডেন্টের সামরিক বাহিনীর সাথে মুখমুখি সংঘর্ষে আল-কায়দার একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে। এরপরই ধারনা করা হয় যে,জঙ্গিরা হয়ত বিদেশি নাগরিকদের বন্দি করতে পারে। প্রথমে পশ্চিমা দেশসমূহের নাগরিকরা ইয়েমেন ত্যাগ করতে শুরু করে।

থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সিরিয়ায়। চলতি সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দেশটির ইদলিব প্রদেশের জিসির-এশ-শুগুর শহরের উপকন্ঠে সরকারি সামরিক বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ বাঁধে। সোমবারও দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। বিগত কয়েকদিনের আন্দোলনে অন্তত ১০০ জনেরও  অধিক মানুষ নিহত হয়েছে।এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেক অসহায় মানুষ আশ্রয় নিতে পাশ্ববর্তী তুরস্কে ছুটছে। গত কয়েকদিনে সেখানে ৫ হাজারেরও অধিক মানুষ পালিয়ে যায়। এখনও সিমান্ত পথে ১০ হাজারেরও অধিক সিরিয়া নাগরিক অপেক্ষা করছে যে কখন তুর্কী সিমান্তরর্ক্ষী বাহিনী তাদের প্রবেশের অনুমতি দিবে।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আহবানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ যেমন,ফ্রান্স,যুক্তরাজ্য,জার্মানি ও পর্তুগাল এখন সিরিয়া সংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রক্লপ তৈরীতে ব্যস্ত রয়েছে । প্রথম দিকে তৈরী করা দুইটি খসড়া প্রস্তাবের একটিও কার্যকর করার সম্ভবনা নেই। সিরিয়াবিরোধী প্রস্তাবকে পুরোপুরি বিরোধিতা রয়েছে রাশিয়া,চীন,দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত ও ব্রাজিল। এ বিষয় কথা হয় রাশিয়া বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক ভিতালী নাউমকিনের সাথে। তিনি বলেন,রাশিয়া মনে করছে যে,নিরাপত্তা পরিষদের সিরিয়া বিষয়ে ঐ ধরনের নিষেধাজ্ঞা যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। এছাড়া রয়েছে লিবিয়ার উদাহরন। তাই,দেশের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করাই শ্রেয়। নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধানের সুযোগ করে দেয়া উচিত।

সিরিয়ায় আন্দোলনরত বিরোধী দল যারা এখন পর্যন্ত সরকারের সাথে কোন প্রকার আলোচনায় যেতে চাচ্ছে না, হয়তবা তারা নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব ভুলক্রমে মেনেও নিতে পারে। আর তা শুধুমাত্র সিরিয়া সংকটকে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের  উত্তরন করবে। লিবিয়ার অনুরুপ সিরিয়ার চিত্র হোক তা কেউই চাচ্ছে না,এমনকি তা চাচ্ছে না পশ্চিমা দেশসমূহ ।