১২ই জুন – দেশের একটি সবচেয়ে নবীন রাষ্ট্রীয় উত্সবের দিন – রাশিয়া দিবস. এই দিনেই ১৯৯০ সালে রুশ প্রজাতন্ত্রের গণ প্রতিনিধিদের প্রথম সভায় এক ঘোষণা গৃহীত হয়েছিল – রুশ সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সম্বন্ধে. দলিলে ছিল একটি খুবই উল্লেখ যোগ্য বক্তব্য – রাশিয়া সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক সংযুক্ত প্রজাতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না.

    এই জটিল পদক্ষেপ ছিল সেই সময়ের অন্যান্য প্রজাতন্ত্র গুলির একের পর এক সার্বভৌমত্ব ও স্বতন্ত্রতা ঘোষণার এক ধরনের উত্তর. কিন্তু তার কিছু সময় পরেই এই দিন থেকেই – ১২ই জুন থেকেই শুরু করা হয়েছিল নতুন রুশ রাষ্ট্রের স্থাপনের দিন হিসাবে, যার ভিত্তি হয়েছিল সাংবিধানিক যুক্তরাষ্ট্র গঠনের নীতি. এই কথা উল্লেখ করে নতুন ইউরোএশিয়া তহবিলের সভাপতি আন্দ্রেই করতুনভ বলেছেন:

    "প্রথমের দিকে এই উত্সব ছিল যথেষ্ট পরস্পর বিরোধী অনুভূতির. যখন কথা হয়েছিল স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের – তখন সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছিল কার কাছ থেকে পাওয়া এই স্বাধীনতা. কিছু লোক ছিলেন, যাঁরা এই দলিল গ্রহণকে মনে করেছিলেন এমন এক ঘটনা বলে, যার ফলে সোভিয়েত দেশের পতন ঘটেছিল. সুতরাং প্রাথমিক ভাবে এই উত্সবের প্রতি সম্পর্ক একেবারেই এক রকমের ছিল না. আজ এই ধরনের আবেগ কমে এসেছে, আর উত্সব, যাকে বলা হচ্ছে, তা শেষ অবধি পালিত হচ্ছে".

    এক বছর পরে এই দিনেই রাশিয়াতে প্রথম স্বাধীন ব্যতিক্রমী আলাদা করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল. বয়স্ক লোকেরা, যাঁদের যৌবন কেটেছে এই রাষ্ট্র গঠনের প্রথম দিকের সময় গুলিতে, তাঁরা এই সময়কে খুবই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন, সেই যুদ্ধের সঙ্গে, যা হয়েছিল সোভিয়েত দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি মিখাইল গরবাচভ ও রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিনের সমর্থকদের মধ্যে. আন্দ্রেই করতুনভ গল্প করে বলেছেন:

    "১৯৯১ সালে সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ার আগে, এই ১২ই জুনই হয়েছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রথম নির্বাচন, যেখানে বরিস ইয়েলতসিন বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন. তাই বোধহয়, প্রথম রুশ রাষ্ট্রপতির পক্ষের লোকেদের আরও একটি ভিত্তি রয়েছে মনে করার যে, এই দিন উত্সবের দিন".

    রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিন নিজে ১২ই জুন দিনটি রাষ্ট্রীয় উত্সব বলে ঘোষণা করার প্রস্তাব করেছিলেন ও তার নাম দিয়েছিলেন রাশিয়া দিবস. এই বিষয়ে নির্দেশ স্বাক্ষর করেছিলেন ১৯৯৪ সালে.

    ঐতিহ্য মেনেই এই দিনটিকে বেশ বড় আকারেই পালন করা হবে. কোথাও হবে সঙ্গীত অনুষ্ঠান, বাজি পোড়ানো, কোথাও হবে খেলাধূলার প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশ নিতে আসবে যুবক ও কিশোর খেলোয়াড়েরা, যারা তাদের প্রথম পা রাখছে বড় প্রতিযোগিতায়. তাদের উত্সাহ দিতে থাকছেন বিশ্বে নাম করা খেলোয়াড়েরাও. প্রসঙ্গতঃ, এই বছর অনুষ্ঠান রাশিয়ায় দেশের সীমানার বাইরেও করা হবে. ইতালির রোম শহরে ১২ই জুন "নাভোন" স্কোয়ারে রাশিয়ার জাতীয় সংস্কৃতির উত্সব "রাশিয়ার তারকারা" নামে অনুষ্ঠান রাশিয়া দিবস উপলক্ষেই আয়োজন করা হয়েছে.