যৌথ উদ্দোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে মস্কোতে “বিল্ড ওউন অপারেট” বা নিজস্ব নির্মাণ পরিচালনা নামে নতুন একটি কোম্পানী নিবন্ধন হতে যাচ্ছে।নতুন প্রকল্পের অংশ হিসাবে বিশ্বের ১০টিরও অধিক দেশে পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এই কোম্পানীর কার্যক্রম যা যন্ত্রপাতি ক্রয়,প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ কাজে নতুন ধারার সূচনা করবে।

এই প্রকল্পের অংশ হিসাবেই তুরষ্কে “আক্কাউইউ” পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।বর্তমানে রাশিয়ার পক্ষথেকে তুরষ্কের এই পারমানবিক কেন্দ্রের চারটি চুল্লি নির্মাণের জন্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ তহবিল গঠন করা হয়েছে।এই ধারাবাহিকতা আর্মেনিয়ায় ও জর্দানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।আন্তর্জাতিক পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ বাজারে রাশিয়ার জন্য বিষয়টি একটি নতুন পরিকল্পনা।যদিও রাশিয়া পৃথিবীর একমাত্র দেশ যা কিনা ১০টিরও অধিক দেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ কাজে সরাসরি জড়িত আছে।এমনটি জানালেন পেট্রো ইউনিয়ন ইন্ডাসট্রিজের সভাপতি গেনাদি শমাল।তিনি বলছেন,বিশ্বে বিভিন্ন পেক্ষাপটে এই কার্যক্রমটি বেশ ব্যবহার করা হয়।নিজেই তৈরী করছেন,নিজেই অর্থ যোগান দিচ্ছেন এবং কিছু সময়কাল ঐ কেন্দ্রের তত্বাবধায়কের কাজ করছেন।যতদিন না পর্যন্ত নির্মাণ খরচের পুরো অর্থ ফেরত না পাওয়া যাবে ততদিন পর্যন্ত ঐ কেন্দ্রের মালিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানই থাকবে।তারপরই কেন্দ্রের যাবতীয় সবকিছু স্ব-স্ব দেশের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।প্রক্লপ উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।রাষ্ট্র অর্থ বিনিয়োগ না করেই অবকাঠামো পাচ্ছে।অন্যদিকে কোম্পানী বিশ্ব বাজারে নিজের প্রভাব আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে।

রাশিয়া ইরানে,চীনে ও ভারতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে মূলত “আন্ডার কিই” বা প্রযুক্তি,প্রক্রিয়াকরণ-নির্মাণ ফর্মুলায়।এই পদ্ধতিতে নির্মাণ খরচ কিছুটা কম।তবে জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা ফান্ডের মহাপরিচালক কনস্তানতিন সিমোনভ বলেন,পুরানো এই প্রকল্প ব্যপক অর্থে ব্যবহারের প্রয়োজন হবে।তিনি বলছেন,সম্প্রতি রসআতোম বিশ্ব  বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বহুগুন বৃ্দ্ধি করার ঘোষনা দিয়েছে।তাছাড়া বহির্বিশ্বে অর্থ মজুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত,কারণ নিজ দেশের অভ্যন্তরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য রসআতোমের রয়েছে বিশাল প্রকল্প।একই সাথে প্রশ্ন আসতে পারে যে, রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি কার্যক্রম বৃদ্ধি করেই বহির্বিশ্বে “বিল্ড ওউন অপারেট” প্রক্লপ অনুযায়ি অন্যসব পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে।অন্যদিকে জাপানের সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে এখন থেকে পারমানবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা বহুগুন বৃদ্ধি করতে হবে।সেই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার অনেক  পুরানো পারমানবিক কেন্দ্র বন্ধ করার প্রয়োজন হবে যা অতীতে দীর্ঘ সময়কাল ধরে ব্যবহারের চিন্তা করা হয়েছিল।

জাপানে “ফুকুসিমা” পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দূর্ঘটনার পর রাশিয়ার ভূখন্ডে সবগুলো পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরী  পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।ঐ পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় যে,রাশিয়ার অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে রাশিয়ার কোম্পানীর নির্মিত সব পারমানবিক কেন্দ্রই সুরক্ষিত রয়েছে।যদি এইসব পারমানবিক কেন্দ্র “ফুকুসিমা”-তে নির্মাণ করা হত তাহলেও যেকোন ভূমিকম্প ও সুনামীর আঘাতে কেন্দ্রসমূহ থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা নেই।তাছাড়া জাপানের পারমানবিক বিপর্যয়ের পর রাশিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন সহযোগি রাষ্ট্র পারমানবিক শক্তির শান্তিময় ব্যবহারের  ক্ষেত্রে নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নি।তাছাড়া পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্রকে সাধারণ জনগনের সমর্থন পাওয়া অনেক জরুরি।

প্রসঙ্গত,“ফুকুসিমা” দুর্ঘটনার পর পারমানবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে বিধিনিষেধ আরোপের মাত্রা বৃদ্ধির প্রস্তাব জানায়।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ফ্রান্সের দুভিলে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া জি-৮ সম্মেলনে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।আশাকরা যাচ্ছে যে,পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি বৃদ্ধির কার্যক্রমে এই প্রস্তাবসমূহ ব্যবহার করা হবে।আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রের সাধারণ সম্মেলনে এই প্রশ্ন প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসাবে স্থান পাবে।