"রেডিও রাশিয়া" এক নতুন প্রকল্প শুরু করতে চলেছে, এখন থেকে প্রত্যেক দিন নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের লোকেদের জন্য সরাসরি প্রচার শুরু হতে চলেছে বেতার তরঙ্গে. আজ ওয়াশিংটনের জাতীয় প্রেস ক্লাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই নতুন কায়দায় রুশী ও মার্কিন সাংবাদিকদের দলগত ভাবে প্রস্তুত অনুষ্ঠান প্রচার করার বিষয়ে এক উপস্থাপনা হয়েছে. রেডিও রাশিয়ার চেয়ারম্যান আন্দ্রেই বিস্ত্রিতস্কি উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রথম আমাদের অনুষ্ঠান উত্তর আমেরিকার শ্রোতাদের জন্য সেখানেই তৈরী হবে.

    আধুনিক আমেরিকার শ্রোতাদের জন্য "রেডিও রাশিয়া" খুবই দ্রুত বেতার তরঙ্গে উপস্থিত হয়েছে. গত বছরের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে এফ এম তরঙ্গে প্রচার শুরু হয়েছিল – প্রতি দিন মাত্র চার ঘন্টা. ২০১১ সালের শুরুতেই এই দুই শহরে ২৪ ঘন্টা ধরে সম্প্রচার শুরু হয়েছিল মধ্যম তরঙ্গে. এই অনুষ্ঠান গুলি শুধু রাশিয়ার ঘটনা নিয়েই করা হচ্ছে না, বরং সেই সমস্ত বিষয় নিয়েই হচ্ছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বাস্তবিক ভাবে প্রয়োজন.

    এখন "রেডিও রাশিয়ার" অনুষ্ঠান এই প্রকল্পের নতুন এক পাতা উল্টেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর গুলিতে টানা ২৪ ঘন্টার অনুষ্ঠানের মধ্যে ছয় ঘন্টা দেওয়া হয়েছে আমেরিকার সাংবাদিকদের জন্য. হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র দুই কদম দূরত্বের অফিস থেকেই এখন রেডিও রাশিয়া প্রচার করতে পারবে. "রেডিও রাশিয়ার" ইংরাজী ভাষায় বিশ্ব সম্প্রচার দপ্তরের প্রধান সম্পাদক ম্যাক্সিম ক্রাসোভস্কির ভাষায় এই মার্কিন সাংবাদিকেরা সেই ওয়াশিংটন থেকেই সরাসরি প্রচার করে থাকেন. আগে এই সাংবাদিকেরা কাজ করতেন আমেরিকার বহু বিখ্যাত মিডিয়া কোম্পানীতে. এরা পেশাদার, যাঁরা আমাদের, যা আগে শুধু মস্কো থেকেই প্রচার করা হত, সেই প্রচারের মধ্যে তাজা হাওয়া এনেছেন. তাঁরা সরাসরি শ্রোতাদের সঙ্গে কাজ করছেন. আপাততঃ এটা ছয় ঘন্টার অনুষ্ঠান – সকাল ও বিকেলে ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় সময়ে.

    এর পরে সময়ের সঙ্গে রেডিও স্টেশন তার প্রচারের প্রসার বাড়াতে চায়, সারা আমেরিকা জুড়ে নিজেদের প্রতিনিধি বাড়াতে চায়, বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এর ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া আরও বাড়বে.

    এই বিষয়েই অংশতঃ অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের গোল টেবিল বৈঠকে কথা হয়েছে. এই অনুষ্ঠানের নাম ছিল ঠাণ্ডা যুদ্ধ থেকে আবার নতুন করে শুরু করা অবধি. রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে জনগণের কূটনীতিকে আলাদা করে উদ্বুদ্ধ করার জন্য. বহু রকমের সংবাদ মাধ্যমের উদ্ভব হওয়াতে বিশ্ব খুবই পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আন্দ্রেই বিস্ত্রিতস্কি বলেছেন:

    "বর্তমানে সংবাদ মাধ্যমের প্রাচূর্য্য, বহু লক্ষ তথ্যের সাইট, বহু সহস্র সর্ব ক্ষণ চালু চ্যানেল শুধু ইংরাজী ভাষাতেই এমন একটা জায়গায় আমাদের এনে ফেলেছে, যে, সাধারন লোকের পক্ষে বোঝা অসম্ভব কোথায় সত্য আর কোথায় মিথ্যা. আমরা কোন রকমের বাধা দেওয়ার কথা ভাবছি না, বরং ভাবছি কি করে এর মধ্যেই তথ্যের প্রতি দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করা যায়, তাই আমাদের এই প্রকল্প ও উদ্যোগের কারণ আমেরিকার মানুষদের কাছে রাশিয়া সম্বন্ধে একটা ধারণা পৌঁছে দেওয়া, যা সত্য ও একে অপরকে বুঝতে সাহায্য করে".

    এই গোল টেবিল অনুষ্ঠানে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা রুশ – মার্কিন সম্পর্কের উন্নতি নিয়েও আলোচনা করেছেন ও আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা করেছেন. এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল আমেরিকার শ্রোতাদের কাছে রুশ দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা, এই কথা মনে করে ইউরেশিয়া, রুশ ও পূর্ব ইউরোপ নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর অ্যঞ্জেলিনা স্টেন্ট বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুব একটা রাশিয়া সম্বন্ধে লোকে জানেন না, আমরা রুশ দেশকে আরও ভাল করে জানতে চাই, আর আমি মনে করি যে, আমাদের কাছে স্বাধীন, বাস্তব কোন মাধ্যম নেই, যেখান থেকে আমরা রুশ ও মার্কিন সরকারের যে সমস্ত বিষয়ে আলাদা মত রয়েছে তার বিষয়ে স্পষ্ট করে জানতে পারি. কিন্তু মনে করছি যে, আপনাদের এই নতুন উদ্যোগ হয়ত এর শুরু করবে".

    এখানে যোগ করবো যে, "রেডিও রাশিয়া" দেশের একটি সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্ব সম্প্রচারের একটি পথ নির্দেশক কোম্পানী. সবই শুরু হয়েছিল ১৯২৯ সালে শর্ট ওয়েভ তরঙ্গে প্রচার দিয়ে. আর আজ, শর্ট ওয়েভ বজায় রেখেও, সব কটি মহাদেশের ১৬০ টিরও বেশী দেশে এই কোম্পানী প্রচার করে থাকে, "রেডিও রাশিয়া" সক্রিয়ভাবে নতুন তরঙ্গ ও উপায়ে প্রচার করে চলেছে, নতুন প্রযুক্তি আনা হয়েছে প্রচারের জন্য. আজ বিশ্বের ১২০টিরও বেশী দেশে আমাদের অনুষ্ঠান এফ এম তরঙ্গে শোনা যায়. তার মধ্যে ২০০৯ সালের শেষ থেকেই "রেডিও রাশিয়া" ভারতের এফ এম তরঙ্গে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছতে পেরেছে. এই অনুষ্ঠান "উইথ লাভ ফ্রম রাশিয়া" বর্তমানে প্রত্যেক দিন দিল্লী মুম্বাই ও কলকাতাতে হিন্দী ভাষায় ও বাঙ্গালোরে কন্নড় ভাষাতে প্রচার করা হয়ে থাকে মোট দুই ঘন্টা ধরে. এছাড়া "রেডিও রাশিয়া" ব্যবহার করছে উপগ্রহ মারফত চ্যানেল, মোবাইল টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিট্যাল সম্প্রচার. "রেডিও রাশিয়া" বিশ্বের প্রথম পাঁচটি রেডিও কোম্পানীর একটি. ৮০টি দেশের বিদেশী শ্রোতাদের মন্তব্য থেকে বলা যেতে পারে "রেডিও রাশিয়া" – এটি একটি সহজ, গণতান্ত্রিক মাধ্যম রাশিয়ার জীবন সম্বন্ধে জানার জন্য.