রাশিয়া দুই প্রান্তিক অবস্থানে থেকে বর্তমানে যুদ্ধ রত লিবিয়ার সমাজে "সেতু বন্ধনের" কাজে সহায়তা করতে পারে. এই বিষয়ে মস্কোতে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আফ্রিকার দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ, তাঁর বেনগাজি শহরে এক দিনের সফরের শেষে.

    বেনগাজি – লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের ঘাঁটি – মিখাইল মার্গেলভ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশে সফরে গিয়েছিলেন. দোভিল শীর্ষ সম্মেলনে "বড় আট" দেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশিয়াকে লিবিয়ায় বিরোধের মধ্যে মধ্যস্থতা কারীর ভূমিকা নিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে.

    মিখাইল মার্গেলভ বেনগাজি শহরে লিবিয়ার বিরোধী পক্ষের গঠিত অস্থায়ী জাতীয় প্রশাসনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন. একই সঙ্গে তিনি লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির সম্পর্কে ভাই হন এমন একজনের সঙ্গে মিশরের রাজধানী কায়রো শহরে গিয়ে কথা বলে এসেছেন. "এখানে সবচেয়ে প্রধান ব্যাপার হল, আমি নির্দিষ্ট অবস্থান শুনতে পেয়েছি, কি ভাবে দুই পক্ষ লিবিয়ার ভবিষ্যতকে দেখছেন" – এই কথা উল্লেখ করে মিখাইল মার্গেলভ বলেছেন:

    "আমার মনে হয়েছে যে, আমার বেনগাজি শহরের ও কায়রো শহরের আলোচনার সঙ্গীরা সকলেই লিবিয়ার দেশপ্রেমী লোক, যাঁরা লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক, আধুনিক রাষ্ট্র হিসাবেই দেখতে চান, যে রাষ্ট্র সংশোধনের পথে ও আধুনিকীকরণের পথে চলবে. তাঁরা আগ্রহী যাতে লিবিয়া আরব, ঐস্লামিক ও আফ্রিকা মহাদেশের এক সুযোগ্য সদস্য হয়েই থাকতে পারে. এই প্রসঙ্গে বলতে চাই যে, রাশিয়ার আগের মতই সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে মধ্যস্থতা করার, অন্ততঃ সেই বিষয়ে সহায়তা করার, যাতে জাতীয় পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া ও ঐক্যের সম্ভাবনা বর্তমানে দ্বিধা বিভক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে শুরু হতে পারে ও তা উন্নতির পথেই অগ্রগামী হয়. আমরা মনে করি যে, যে কোন রকমের লিবিয়াকে ভাগ করার কথাবার্তাই একেবারেই গ্রহণ যোগ্য নয় ও নীতিগত ভাবেই গুরুত্ব দিয়ে তার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে না".

    মুহম্মর গাদ্দাফির ভবিষ্যত সম্পর্কে লিবিয়ার বিরোধী পক্ষ বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে, তাঁরা গাদ্দাফির রক্ত চায় না, কিন্তু খুব পরিস্কার ভাবেই বুঝতে পারছেন যে, নিজের দেশের লোকের উপরে বোমা বর্ষণ করার পরে তিনি সর্বকালের জন্যই নৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছেন দেশের নেতৃত্বে থাকার, আর তাই পদত্যাগ করতেই বাধ্য.

    ন্যাটোর বোমা বর্ষণ অবিলম্বেই বন্ধ করা প্রয়োজন – এই রকমের শর্ত উপস্থিত করেছেন গাদ্দাফির ভাই. পশ্চিমের জোট মার্চ মাস থেকেই লিবিয়াতে সামরিক অপারেশন চালাচ্ছে, যার ফলে দেশের শান্তিপূর্ণ মানুষের মধ্যেও বহু লোক প্রাণ হারিয়েছেন. এই বিষয়ে মিখাইল মার্গেলভ বলেছেন:

    "আমার গভীর বিশ্বাস যে, রাজনৈতিক সমস্যা বোমা বর্ষণ, বিশেষ বাহিনীর অপারেশন, অথবা সামুদ্রিক নৌবাহিনীর সেনাদলের প্রয়োগে সমাধান করা যায় না. যে কোন ধরনের বোমা বর্ষণই শেষ হয় আলোচনার মাধ্যমে, যে কোন যুদ্ধের শেষই হয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে. এটা লিবিয়ার ঐক্য ও দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য এক অন্যতম শর্ত. ন্যাটো জোট, হাল্কা করে বললে, খুবই বাড়াবাড়ি করছে, বোমা ফেলা, সে যতই নিখুঁত হোক না কেন, তার ফলে পার্শ্ববর্তী ক্ষতি রোধ করা যায় না. আমরা এটা জানি বিগত সময়ের সব কটি যুদ্ধ থেকেই".

    মিখাইল মার্গেলভ তৈরী আছেন ত্রিপোলি শহরে যেতে. তাঁর যাওয়ার তারিখ ঠিক হয় নি, সবই নির্ভর করছে কখন ন্যাটো জোট পরিবহনের উপযুক্ত আকাশ পথের রাস্তা ঠিক করে দেবে, তার উপরে. লিবিয়ার উপরে আকাশ আগের মতই রয়েছে বন্ধ. লিবিয়ার রাজধানীতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আফ্রিকার দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি দেখা করবেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি মাহমুদীর সঙ্গে, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে, অন্যান্য মন্ত্রীসভার- মন্ত্রীদের সঙ্গেও ও এমনকি সেই রকমের নির্দেশ থাকলে, ব্যক্তিগত ভাবে গাদ্দাফির সঙ্গে. তার পরে যখন ত্রিপোলি তাদের অবস্থান জানিয়ে দেবে, রাশিয়া তৈরী হবে লিবিয়ার বিরোধ মেটানোর জন্য "পথ নির্দেশ" প্রস্তাব করার জন্য. "আমরা চেষ্টা করবো, সমস্ত পক্ষের অবস্থান মেনে একটা সর্বজনীন অবস্থানে পৌঁছনোর", উল্লেখ করেছেন মিখাইল মার্গেলভ.