পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবী অনুযায়ী ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাই হামলার পরিকল্পনা যারা করেছিল, সেই সন্ত্রাসবাদী দল "লস্কর- এ – তৈবা" ("ধার্মিক বাহিনী")র নেতাদের বিচার করতে অস্বীকার করেছে. এর আগে একই রকমের দাবী নিয়ে পাকিস্তানের সরকারের কাছে একাধিকবার ভারত এসেছিল, কিন্তু সবই বিফল হয়েছে. কেন পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের বিচার করতে অস্বীকার করছে? বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    "লস্কর এ তৈবা" দলের হামলা কারীদের বহু লক্ষ মানুষের শহর মুম্বাই আক্রমণ – একটি সবচেয়ে রক্তাক্ত ও দুঃসাহসী কাণ্ড, যা পাকিস্তানের এই সন্ত্রাসবাদী দলের লোকেরা করেছিল. এই অতর্কিত আক্রমণের ফলে ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন. তারই মধ্যে এই দলের নেতারা এখনও স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে. তাদের মধ্যে "লস্কর এ তৈবা" দলের নেতা রেহমান লকভী ও সামরিক অপারেশনের নেতা মুজামিল্লা ভাট রয়েছে, যে সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী নিজেই এই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল.

    পাকিস্তানের লোকেরা খুবই অদ্ভূত ব্যাখ্যা করেছে. তারা বলতে চাইছে যে, "এই সব সন্ত্রাসবাদীদের বিচার করতে গেলে নাকি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে". তাই এই সব সন্ত্রাসবাদী দলের নেতাদের নাকি স্বাধীন ভাবে থাকতে দেওয়াই ভাল, যাতে তারা ধীরে চরমপন্থী ঐস্লামিক দল থেকে শান্তির পথে ফিরে আসে. এখানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর আক্রমণে নিহত "আল- কায়দা" নেতা ওসামা বেন লাদেনের হত্যার সমান্তরাল খোঁজা হচ্ছে, বলা হচ্ছে যে, লাদেনের পরে পাকিস্তানে এক গাদা বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা ("প্রতিহিংসা পর্ব") হতে দেখা গিয়েছে. রাশিয়ার রাজনীতিবিদ গিওর্গি মিরস্কি মনে করেন যে, এখানে আসল ব্যাপারটা অন্য, তিনি বলেছেন:

    "পাকিস্তান রেগে ছিল এই কারণে যে, আমেরিকা তাদের খবর না দিয়ে দেশের ভিতরে ঢুকে সামরিক কাজ কারবার করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজে স্থানীয় লোকেরা খুবই ক্ষিপ্ত. এই রাগ পাকিস্তানের সরকার আমেরিকার বিরুদ্ধে করতে দিচ্ছে, যাতে নিজেরা ভাল সাজা যায়. কিন্তু এই সব কাজ করেই পাকিস্তান সব সময়ের মতো এখনও দু নম্বরী করে চলেছে, যাতে নিজের কাজ হাসিল করা যায়".

    গিওর্গি মিরস্কি যেমন উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি ভাবে ইসলামাবাদ দেশে বহু সশস্ত্র দলের উপস্থিতি এই ভাবে দেখে, যে, দরকারে পড়লে, তাদের ব্যবহার করা যাবে, যুদ্ধের উপযুক্ত সেনা বাহিনী হিসাবে. ১৯৯৯ সালে ভারতের বিরুদ্ধে কারগিল যুদ্ধ মনে করলেই দেখতে পাওয়া যাবে যে, তা শুরু করেছিল প্রথমে চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী দলেরাই, তারপরে যোগ দিয়েছিল সরকারি পাকিস্তানী বাহিনী, যাদের ভারত পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করে দিয়েছিল.তাই তো মনে হয় যে, এই পাকিস্তানী চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের বিচার করতে না চাওয়ার কারণের ব্যাপারে উত্তর খুব কাছেই কোথাও একটা লুকিয়ে রয়েছে?