"ফুকুসিমা" পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দূর্ঘটনার পর থেকে এই প্রথম মস্কোতে আয়োজিত "অ্যাটমএক্সপো" সম্মেলনে বিশ্বের প্রথম সারির পারমানবিক শক্তি উত্পাদকেরা বিশ্বের পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের উন্নয়নের বিষয়ে সহমতে পৌঁছে এক গুচ্ছ পরামর্শ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন. এই সাক্ষাত্কারের অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন, যেখানে তিনি এক আন্তর্জাতিক ভাবে গ্রহণযোগ্য দলিলের কথা বলেছেন, যাতে এই ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির নিরাপত্তার বিষয় নিয়ম অনুযায়ী করা হবে.

    এই সাক্ষাত্কারের প্রধান সিদ্ধান্ত – পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন উন্নতি করবে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির ভরসা যোগ্য নিরাপত্তা রক্ষার শর্ত মেনেই. জাপানের "ফুকুসিমা" বিদ্যুত কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এক সার দূর্ঘটনার পরে এক সঙ্গে বেশ কিছু দেশ কয়েক দশক আগে তৈরী হওয়া পারমানবিক কেন্দ্র গুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. বিশেষজ্ঞদের মতে প্রথম প্রজন্মের রিয়্যাক্টর গুলিই জাপানে ধ্বংস হয়েছে, আর এই যন্ত্র বর্তমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তের অনেক অংশেরই উপযুক্ত নয়. রাশিয়ার জন্যও পুরনো হয়ে যাওয়া রিয়্যাক্টরের সমস্যা রয়েছে: শুধুশুধুই তো আর রাষ্ট্রীয় সংস্থা "রসঅ্যাটম" কোম্পানীর প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো ঘোষণা করেন নি যে, রাশিয়া আরও দ্রুত প্রথম প্রজন্মের পুরনো রিয়্যাক্টর গুলিকে কার্যকরী অবস্থা থেকে থামিয়ে দেওয়ার বিষয় খতিয়ে দেখতে তৈরী. প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে পুরনো ইউরেনিয়াম গ্রাফাইট ব্লক গুলির কথা মনে করা হয়েছে, পুরনো আর এম বে কা ধরনের রিয়্যাক্টর গুলি ও প্রাচীন হয়ে যাওয়া ভে ভে এ আর – ৪৪০ ধরনের রিয়্যাক্টর গুলিকে. চেরনোবিল পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দূর্ঘটনার পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বিশাল পরিমানে কাজ করেছেন বর্তমানে কার্যকর কেন্দ্র গুলির নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য, এই কথা উল্লেখ করে সামাজিক রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ বলেছেন:

    "যথেষ্ট পরিমানে কাজই করা হয়েছে, আর এর ফলে বলা যেতে পারে যে, এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিকে ব্যবহার করা চলতে পারে, যদিও পশ্চিমের থেকে খুবই জোর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, প্রথমতঃ ইউরোপ থেকে, যাতে এই ধরনের পুরনো বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়. বর্তমানে রাশিয়া, সম্ভবতঃ দেখিয়ে দিতে চায় যে, রাশিয়া আধুনিক পথেই চলেছে, যেখানে শক্তি উত্পাদনের রিয়্যাক্টর গুলির নিরাপত্তার প্রশ্নে খুবই কঠোর ভাবে কাজ করে থাকে, কিন্তু একই সময়ে বুঝতে পারে যে, এই শক্তি উত্পাদনের যন্ত্র গুলিকে দ্রুত পাল্টাতে গেলে তা নতুন রিয়্যাক্টর দিয়েই করতে হবে".

    আজ সারা বিশ্বে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির রিয়্যাক্টর গুলির ব্যবহারের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কাজ হচ্ছে, কিন্তু ব্যবহারের মেয়াদ অনন্তকাল হতে পারে না, এই কথা মনে করেন বিশেষজ্ঞরা. এখানে ধাতু ও পদার্থের পুরনো হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে, তাছাড়া এই ধরনের রিয়্যাক্টর গুলিতে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসানো ও সম্ভব নয়. তাই পুরনো যন্ত্র পাল্টাতেই হবে. আর এই পথেই চলেছে রাশিয়া, থামিয়ে দেওয়া কেন্দ্রের জায়গায় নতুন কেন্দ্র তৈরী করার মধ্যে দিয়ে, উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রীয় সংস্থা "রসঅ্যাটম" কোম্পানীর প্রকল্প প্রধান সের্গেই বইয়ারকিন, তিনি বলেছেন:

    "চেরনোবিলের পরে রাশিয়াতে পারমানবিক কেন্দ্র গুলিতে বিশ্বের সমস্ত জায়গার চেয়ে খুবই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল. এই সমস্ত নিয়ম মেনে চলার জন্য আমরা যখন নতুন প্রকল্প তৈরী করেছি, তখন আমাদের সহকর্মী দেশের লোকেরা বলেছিল, তা খুবই বাড়াবাড়ি রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জর্জরিত. ইউরোপের কায়দায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে চারটি সক্রিয় নিরাপত্তা চ্যানেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে নিষ্ক্রিয় বা প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে. রাশিয়ার প্রকল্পে রয়েছে যেমন চারটি সক্রিয়, তেমনই সব কটি নিষ্ক্রিয় নিরাপত্তা চ্যানেল. এটা তৈরী করতে অনেক খরচ হয়, কারণ যন্ত্র লাগে বেশী. আজ আমাদের সেই নিরাপত্তা জর্জরিত ব্যবস্থাই আমাদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছে ও নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে".

    রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে পরপর অনেকগুলি ইউরেনিয়াম গ্রাফাইট রিয়্যাক্টর বন্ধ করে দিতে চলেছেন, যে রিয়্যাক্টরের ভিত্তিতেই আর এম বে কা রিয়্যাক্টর তৈরী করা হয়েছিল, যাকে পরে চেরনোবিলের রিয়্যাক্টর নামে ডাকা হত. এই রিয়্যাক্টর গুলি থামানোর কথা হয়েছে লেনিনগ্রাদ, কুরস্ক রাজ্যের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে. তার পরেই আসছে নিজেদের বাধ্যতা মূলক সময় ধরে কাজ করে ফেলা ভে ভে এ আর – ৪৪০ রিয়্যাক্টর গুলির কথা. তাদের জায়গায় আধুনিক রূপান্তর করা আরও অনেক শক্তিশালী রিয়্যাক্টর বর্তমানে কাজ করছে রাশিয়া ছাড়া সেই সমস্ত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে, যেখানে রাশিয়ার প্রযুক্তি মেনে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেটা বুলগারিয়া, ফিনল্যাণ্ড, চেখিয়া ও স্লোভাকিয়া দেশ. পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে আধুনিক ভে ভে এ আর রিয়্যাক্টর সফল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ১৪০০ রিয়্যাক্টর বছরের চেয়েও বেশী.