ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেননের সঙ্গে আলোচনার পরে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন যে, ভারত ও রাশিয়া স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা বিষয়ে উন্নতি করতে তৈরী. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

নিকোলাই পাত্রুশেভ যে এক দিনের সফরে ভারত গিয়েছিলেন, তা অনেকেরই নজর কেড়েছে. নতুন প্রজন্মের প্রচুর যুদ্ধ বিমান সংক্রান্ত ভারতীয় টেন্ডারে হেরে যাওয়ার পরে রাশিয়ার কোন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মচারীর এই প্রথম ভারত সফর. একই সঙ্গে এই বিমান সংক্রান্ত টেন্ডারে হারের ঘটনার সাথে সাথেই ভারতে প্রত্যাশিত রুশ – ভারত নৌবাহিনীর মহড়া ও একই সাথে আগে ঐতিহ্য মেনে হয়ে আসা ইন্দ্র নামের সম্মিলিত পদাতিক বাহিনীর মহড়া এই বছরে হয় নি. ভারতে অনেকেই এই সব ঘটনা গুলিকে একে অপরের সাথে জড়িয়ে নিয়ে তার মধ্যে রাশিয়া ভারতের সম্পর্কের উষ্ণতা কমে আসতে দেখেছিল এবং ধারণা করতে শুরু করেছিল রাশিয়ার ভারতের বাজার থেকে সরে আসা সম্বন্ধে.

নিকোলাই পাত্রুশেভের ভারত সফর, তাঁর দিল্লী শহরে আলোচনা আবার করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এটা একেবারেই সেই রকমের নয়. ভারতীয় বিমান বাহিনীর টেন্ডারে রাশিয়ার অসফল হওয়া ও সামরিক সামুদ্রিক ও পদাতিক মহড়া বাতিল হওয়া একে অপরের সঙ্গে কোন রকমের সংযোগই রাখে না ও তা হয়েছে সম্পূর্ণ অন্য কারণে. আর রাশিয়া ও ভারতের সম্পর্ক সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল দুই দেশই এখন বিশ্বাস করে যে, স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে একে বারেই অন্য স্তরে নিয়ে গিয়েছে, সেটা নতুন ও অনেক উচ্চ প্রযুক্তির বিষয় এবং তা দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও সফল ভাবে পারস্পরিক কাজ কর্ম করা যায়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রফেসর ভাসিলি মিখিয়েভ বলেছেন:

"আমাদের দুই দেশেরই সোভিয়েত দেশের সময় থেকে খুব খারাপ সম্পর্ক নয় এবং পারস্পরিক স্বার্থ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই একই রকমের ও সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আগ্রহ ও যোগাযোগ খুবই উচ্চ স্তরের. কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে, কারণ মার্কিন এবং ইউরোপের অস্ত্র উত্পাদকের পক্ষ থেকে ভারতের বাজারে উপস্থিতি বেড়েছে. রাশিয়া চাইছে এই সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রবেশ করতে, যা আজ ভারতে সম্ভাবনা রয়েছে – পারমানবিক শক্তি, মহাকাশ. আমরা চেষ্টা করছি ভারতীয় বাজারে অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও পৌঁছতে".

রাশিয়া ও ভারতের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও খুব বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে. তাদের অবস্থান বহু বাস্তব সমস্যার ক্ষেত্রেই এক. প্রাথমিক ভাবে, এটা মধ্য এশিয়ায় সন্ত্রাস ও আফগানিস্থানের মাদক পাচারের ক্ষেত্রে. কিন্তু অন্য পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সমস্যাও রয়েছে, - এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞানী ভাসিলি মিখিয়েভ. এই সমস্যা খুবই জটিল, কারণ পাকিস্তান রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ সন্ত্রাস বিরোধ বিষয়ে ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও. পাকিস্তানের বাজার ভারতের চেয়ে অনেক ছোট হলেও বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট সম্ভাবনা রাশিয়া থেকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে. তাহলে রাশিয়ার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কি করে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার সঙ্গে মেলানো যাবে? মধ্য এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার বন্ধ করা ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য এই সম্পর্কের ত্রিভুজ কি করে ব্যবহার করা হবে? এখানে আপাততঃ অনেক বেশী প্রশ্নই রয়ে গিয়েছে, ফলের চেয়ে. বোধহয়, নতুন গুণমান সম্পর্ক কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রয়োজন পড়বে.

রুশ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ দিল্লীতে তাঁর আলোচনার পরে বলেছেন যে, বহু বিষয়ে রাশিয়া ও ভারতের অবস্থান একই জায়গায় রয়েছে. আরও পরবর্তী কালে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে কথাও হয়েছে. ২০ শে জুলাইয়ের পরে এই উদ্দেশ্য নিয়ে মস্কো আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সহকারী উপদেষ্টা. আলোচনা চলতেই থাকবে.