রাশিয়া ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে নতুন করে সৃষ্ট হওয়া রকেট বিরোধী ব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের মনোভাব ন্যাটোর সহকর্মী দেশ গুলিকে প্রস্তাব করতে চলেছে. আজ, ৮ই জুন, ব্রাসেলস শহরে রাশিয়া- ন্যাটো পরিষদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে আনাতোলি সেরদ্যুকভ তাঁর জোটের সহকর্মীদের রাশিয়ার প্রস্তাব হিসাবে ইউরোপ্রো ব্যবস্থা যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লক্ষ্য করা হবে না, সেই বিষয়ে আইন সঙ্গত ভাবে বাধ্যতা মূলক চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য বোঝানোর প্রচেষ্টা করবেন.

    রাশিয়া চেয়েছে খুবই কঠোর আশ্বাস যে, এই ইউরোপে আমেরিকার রকেট বিরোধী ব্যবস্থা রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাক করা হবে না. মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, এই ধরনের গ্যারান্টি হতে পারে শুধু আইন সঙ্গত ভাবে পালনের উপযুক্ত চুক্তি. তাতে ভবিষ্যতের ইউরোপ্রো গঠনের নিয়ে সমস্ত খুঁটি নাটি ও ধারণা থাকতে হবে. এখানে কথা থাকা দরকার, সমস্ত ধরন ও সংখ্যার রকেট বিরোধী মিসাইল সম্বন্ধে, সেগুলির দূরত্ব ও গতিবেগ আর তার সঙ্গে কোথায় রাডার ও রকেট গুলি রাখা হবে তাও. বাস্তবে ব্রাসেলস শহরে আনাতোলি সেরদ্যুকভ চেষ্টা করবেন ন্যাটো পর্যন্ত রাশিয়ার ইউরোপ্রো সংক্রান্ত অবস্থান পৌঁছে দিতে, যা বিগত কয়েক মাসে যথেষ্ট পাল্টে গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার লোকসভার পররাষ্ট্র পর্ষদের প্রধান কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন:

    "যদি মনোযোগ দিয়ে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট দেখা হয়, যাঁদের বর্তমানে এই আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, তবে খুবই আগ্রহোদ্দীপক এক সিদ্ধান্ত সামনে দাঁড়ায়: আমেরিকার অবস্থান রয়েছে আগের মতই, আর আমাদের অবস্থান এই একই সময়ে অভিযোজিত হয়েছে ও লক্ষ্য হয়েছে যাতে, শেষ অবধি আমাদের সহকর্মীদের এমন একটা গঠন প্রস্তাব করার, যা একই সঙ্গে আগ্রহ জনক ও কার্যকরী হতে পারে. যদি এই আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায় গুলিতে রাশিয়া, নীতিগত ভাবে কোন রকমের আমেরিকা বা ইউরোপীয় দের সঙ্গে একত্রিত ভাবে ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠনের  ধারণারই বিরুদ্ধে ছিল, তবে বর্তমানে, চাইছে এই দিকে মনোযোগ দেওয়াতে, যে রাশিয়া তার অবস্থান থেকে আর নিজেদের ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা কারীদের প্রতিপক্ষ নয়, শুধু নিজেদের জন্য নব গঠিত রকেট বিরোধী ব্যবস্থার সূচক গুলি জেনে নিতে চায় ও গ্যারান্টি পেতে চায় যে, এই ব্যবস্থা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না".

    পূর্ব ইউরোপ ও বাল্টিক পূর্ব দেশ গুলিতে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানোর উদ্যোগ, যা কিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো জোটের সহযোগী দেশ গুলিকে ইরান, ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার দিক থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরী হচ্ছে, তার সম্বন্ধে মস্কো এই কারণেই অসন্তুষ্ট যে, এই ব্যবস্থা নিজের দেশের সীমান্তের খুব কাছেই তৈরী করা হচ্ছে, তাই প্রস্তাব করেছে একত্রিত ভাবে তৈরী করার. রাশিয়া ইউরোপকে সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করবে, পশ্চিমের কাছ থেকে সেই ধরনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি পেলে. এই ধরনের নির্দিষ্ট আঞ্চলিক চিন্তাধারা গত বছরে লিসবন শহরে ন্যাটো – রাশিয়া শীর্ষবৈঠকের সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছিলেন.

    ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস রাশিয়ার উদ্যোগ সম্বন্ধে কোন সরকারি উত্তর এখনও দেয় নি. একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরী চালিয়ে যাচ্ছে, মস্কোর দিকে লক্ষ্য না করেই. আর যদি পোল্যান্ডে রকেট বিরোধী মিসাইল ব্যবস্থা স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন বর্তমানে প্রত্যাহার করে নেওয়াও হয়ে থাকে, তবে তা রুমানিয়াতে উদয় হতে চলেছে. এটাও রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোন সমর্থন পায় নি. যৌথ রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সবচেয়ে যুক্তিসম্মত গঠন হতে পারতো বলে মনে করে কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন:

    "রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের ও রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু, হুমকি, সমস্যা ও বিপদ একই, এই কথা মনে করলে যৌথ ভাবে তৈরী করা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা হতে পারতো সবচেয়ে যুক্তিসম্মত গঠন. কিন্তু এটা সেই রকমের ঘটনা, যখন আগের গঠন, সেই গঠন, যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় থেকে, আমি এখানে বলতে চাইছি ন্যাটো জোটই, নতুন ধরনের সহযোগিতাকে নিজের প্রাপ্য জীবন দিতে তৈরী নয়. আমাদের যৌথভাবে কোন কিছু করার প্রস্তাবের উত্তরে আমাদের বলা হয়ে থাকে, যে এটা ন্যাটো জোট গঠন নিয়ে ওয়াশিংটন চুক্তির ও সম্মিলিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তির বিরুদ্ধে, যে এটা ন্যাটো জোটের দেশ গুলির প্রতি জোট বদ্ধ হওয়ার দায়িত্বের বিরুদ্ধে, যা তারা এক সময়ে একে অন্যের সামনে গ্রহণ করেছে.আর আমাদের প্রচেষ্টা যে, তারা যেন খেয়াল করে যে, এই জোটের বিষয়ে দায়িত্ব তৈরী হয়েছিল সম্পূর্ণ অন্য পরিস্থিতিতে, অন্য যুগে, অন্য বিপদের সামনে, যার শত্রু আগের সোভিয়েত দেশও ছিল, তা হলে কি দাঁড়াচ্ছে, এই দায়িত্বও নিশ্চয়ই ফুরিয়ে গিয়েছে – এটা আমাদের যুক্তি, আর তা দুই কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, সেটা না শোনার ভান করা হচ্ছে. সব স্বত্ত্বেও এর অর্থ হল, বোধহয়, যে, বর্তমানের রাশিয়াকে আগের মতই শত্রুই ভাবা চলছে, বিপদ মনে করা হচ্ছে, বন্ধু মনে করা হচ্ছে না".

    কনস্তানতিন কোসাচেভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানের আলোচনাতেও কোন দারুণ নূতনত্ব হয়তো দেখা যাবে না. এখনও অবধি রাশিয়ার পক্ষ থেকে করা সমস্ত যৌথ ভাবে কাজ করার আহ্বানই আমেরিকার দিক থেকে এক নির্বিকার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরেছে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে, এটা তাও কোন বিপর্যয় নয়, আপাততঃ একই ধরনের নজর তৈরী করা সম্ভব হয় নি, এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল গঠন মূলক মানসিকতা কে বাঁচিয়ে রাখা আর কোন ধরনের প্রতিপক্ষ হওয়ার বিতর্কে না জড়িয়ে পড়া.