সন্ত্রাসবাদীদের যে কোন রকমের পারমানবিক পদার্থ পাওয়ার চেষ্টাকে রুখে দিতে হবে. এটা আন্তর্জাতিক প্রয়াসের সবচেয়ে মুখ্য লক্ষ্য ও যার নেতৃত্বে থাকা উচিত্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউট এবং আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলফার বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের একত্রে প্রকাশিত "পারমানবিক সন্ত্রাসের বিপদ সম্বন্ধে আমেরিকা- রাশিয়ার যৌথ মূল্যায়ণ" নামে প্রবন্ধের প্রধান পরামর্শ হয়েছে উপরোক্ত সিদ্ধান্ত. এই প্রামাণিক প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে বোস্টন ও মস্কো শহরে একই দিনে ৭ই জুন.

    "আল- কায়দা" ও চরমপন্থী দলেরা, যারা আজ রাশিয়ার উত্তর ককেশাসে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে, তারা চেষ্টা চালাচ্ছে পারমানবিক অস্ত্র আয়ত্ত্ব করার এবং এমনকি তা পাওয়ার লক্ষ্যেও পৌঁছেছিল.এটা, এই প্রবন্ধের লেখকদের মতে সেই সমস্ত ঘোষণার ব্যাখ্যা থেকে বোধগম্য হয়েছে, যা এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদীরা করেছে.

    এই গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথাকথিত পারমানবিক নিরাপত্তার বাস্তব স্তর (অর্থাত্ পারমানবিক পদার্থের সুরক্ষা) বিগত সময়ে বৃদ্ধি হয়েছে. একই সঙ্গে লেখকেরা জোর দিয়েছেন কিছু দ্রুত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা সম্বন্ধে, যাতে অস্ত্রে ব্যবহার যোগ্য পদার্থ সম্পূর্ণ ভাবে বিপদ মুক্ত করা যায়. সমস্ত পারমানবিক অস্ত্র, উচ্চ স্তরে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম প্রয়োজন সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত করা দরকার, আর যে সমস্ত জায়গায় এই ধরনের অস্ত্র ও পদার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে, তার সংখ্যা একেবারে খুব কমানো, এই বিষয়ে দুই দেশের বিজ্ঞানীরাই একমত.

    বর্তমানে এই সব জায়গার সংখ্যা সবচেয়ে কমের থেকে অনেক দূরে. স্টকহোম বিশ্ব নিরাপত্তা সমস্যা অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট, যা এই মঙ্গলবারেই প্রকাশিত, তাতে বলা হয়েছে আজ বিশ্বে ২০, ৫ হাজারটি পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে. সেই অস্ত্র রয়েছে বিশ্বের আটটি দেশের কাছে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, চিন, ভারত, পাকিস্তান ও ইজরায়েল. ৫ হাজারেরও বেশী পারমানবিক অস্ত্র এখন ব্যবহারের জন্য তৈরী আছে, আর বাকী গুলি রয়েছে ভাণ্ডারে.

    এই রকমের পরিসংখ্যানে পারমানবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সন্ত্রাস বিরোধী মনোযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে, এই কথা মনে করে সামাজিক – রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ বলেছেন:

    "রাশিয়া ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সুবিধা করে দেবে পারমানবিক অস্ত্র ও পদার্থ নিয়ে ব্যবহারের নিরাপত্তা বাড়ানোর. আর কমাবে সন্ত্রাসবাদী দল গুলির দ্বারা এই জিনিসের আয়ত্ত্ব করার প্রচেষ্টা. এই ধরনের সম্ভাব্য ক্ষমতা, দুঃখের হলেও আজ রয়েছে. তথ্য পাওয়া গিয়েছিল যে, এই ধরনের প্রচেষ্টা চিচনিয়ার জঙ্গীরা করেছিল. তাদের মধ্যে "আল- কায়দা" দলের লোকও ছিল – তারা তৈরী পারমানবিক অস্ত্র লুঠ করারও চেষ্টা করেছিল. আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে লেখকদের প্রবন্ধ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই স্বার্থ সিদ্ধি করে".

    বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন, পারমানবিক অস্ত্রেরই শুধু কঠোর নিয়ন্ত্রণ করলেই চলবে না, অস্ত্র তৈরী করায় উপযুক্ত পারমানবিক পদার্থেরও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে. অর্থাত্ সেই ধরনের পদার্থ, যা থেকে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করা যেতে পারে. এত বিপজ্জনক কাঁচামালের উপরে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করার শ্রেষ্ঠ উপায় – বাড়তি পারমানবিক পদার্থের পরিমানকেই অন্য উপযুক্ত ক্ষেত্রে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সবচেয়ে কম করা.

0    মঙ্গলবারে ক্রেমলিনের তথ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাড়তি অস্ত্রে ব্যবহারের উপযুক্ত প্লুটোনিয়াম বিপদ মুক্ত ভাবে পুনর্ব্যবহারের চুক্তি ও তার প্রোটোকলে নিজে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছেন. এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রস্তাবিত প্লুটোনিয়াম কম তেজস্ক্রিয় করার জন্য বে এন – ৮০০ ধরনের রিয়্যাক্টর ব্যবহার করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল. এই রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ গৃহীত চুক্তি অনুযায়ী দুই পক্ষই তাদের পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ২০১৮ সালের আগেই চালু করবে. রিয়্যাক্টর বে এন – ৮০০ ২০১৩ - ২০১৪ সালে চালু করার পরিকল্পনা আছে.