ভারতের বিরোধী পক্ষ দেশের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের কাছে দরবার করেছেন যে, তিনি যেন দুর্নীতি বিষয়ে দেশের লোকসভাতে এক বিশেষ শুনানীর ব্যবস্থা করেন. এই চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি যেন দিল্লী পুলিশের কাজের মূল্যায়ণ করেন, যারা ধর্মীয় নেতা বাবা রাম দেবের দুর্নীতি দমনে মিটিং ভণ্ডুল করে দিয়েছিল. তথ্য অনুযায়ী সেই মিটিংয়ে জমায়েত হয়েছিল প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোক. প্রায় তিরিশ জন লোক পরে আহত হয়েছে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ভরা গ্রেনেড আঘাতে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    দেশের বিরোধী পক্ষ বাবা রাম দেবের মিটিং ভণ্ডুল হওয়ার পরের পরিস্থিতিকে নিজেদের ক্ষমতা লাভের যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে. অল্প কিছুদিন আগে ভারতের চারটি রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু, কেরালা, আসাম এবং সংযুক্তাঞ্চল পন্ডিচেরীতে লোকসভা নির্বাচন প্রমাণ করে দিয়েছে যে, বিরোধী পক্ষের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কে নির্বাচনে হারিয়ে ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ রয়েছে. বিগত কিছু সময় ধরে দেশকে কাঁপিয়ে দেওয়া দুর্নীতি স্ক্যাণ্ডাল সেই খড়ির গণ্ডি হতে চলেছে, যা মনমোহন সিংহের সরকারকে ডুবিয়ে দিতে পারে.

    বাবা রাম দেবের নেতৃত্বে যে প্রতিবাদ তৈরী হতে চলেছিল, তার ভণ্ডুল করে দেওয়াটা কিছু একটা ভয়ের সঙ্কেত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ভারতে কিছু প্রশাসন ও সমাজের মধ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এই কথা মনে করেছেন রাশিয়ার কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ, তিনি বলেছেন:

    "সরকার ও সমাজের মধ্যে আলোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে – এটা অবশ্যই খুব খারাপ সঙ্কেত. এর অর্থ হল যে, একটি চ্যানেল, যা সমাজ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ব্যবহার করতো, আর ভারতে সমাজের বহু দিনের অহিংস আন্দোলনের ইতিহাস যা প্রমাণ করে, তা নষ্ট হয়েছে. ব্রিটিশ শাসিত ভারতে এই ধরনের আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাত্মা গান্ধী ও আরও বহু স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা. সরকার এখন নিজেদের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের আন্দোলনের বিরুদ্ধ আচরণ করছে. এটাই এক মাত্রা অনুযায়ী সীমানা পার করার লক্ষণ. এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তার ওপরে যখন এই দল নিজেরাই আগে অহিংস আন্দোলনের পথ ব্যবহার করেছে বলে জানা আছে. এখন তারা নিজেরাই সেই ব্রিটিশ আমলের মতো কাজ করছে, পুলিশ দিয়ে মিটিং ভণ্ডুল করে. এই মূহুর্ত আতঙ্কিত করে তোলে".

    বিগত সময়ের দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যাণ্ডাল দেশের ভিতরের রাজনৈতিক অবস্থাকে খুবই নাড়া দিয়েছে. জেলে রয়েছেন মন্ত্রীরা, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারী. বিগত সময়ে ভারতের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী হওয়া এ. রাজা বর্তমানে জেলে বিচারাধীন রয়েছেন. ভোডাফোন সংস্থার ভারতীয় প্রতিনিধি আত্মহত্যা করেছেন এই ঘটনায়. সরকার এখনও অবধি ঠিক করে এই দুর্নীতি জনিত অপরাধের সঙ্গে কিছু করতেই পারে নি, যেগুলি কমনওয়েলথ গেমস, আরও অনেক বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িত.

    বিরোধী পক্ষ দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যাণ্ডাল কে সরকারের প্রতি অভিযোগ করার জন্য ব্যবহার করছে ও ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দেশের সমস্ত রকমের খারাপ অবস্থার জন্য দায়ী বলেই দোষারোপ করছে – মূল্যবৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের দাম বেড়ে যাওয়া, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও তার সঙ্গে আগে কখনও দেখা যায় নি এমন আকারে তহবিল তছরুপের ঘটনা.

    ভারতের মতো আর কোথাও দুর্নীতি নিয়ে এত লেখালেখি হয় না, যদিও অন্যান্য দেশে দুর্নীতি রয়েছে কিছু কম পরিমানে নয়. সেই চিনেই যেমন, তা কম নয়. তবে চিনে এই বিষয়ে জনসমক্ষে আলোচনা কমই করা হয়. ভারতে যে এই সমস্যা নিয়ে খুবই উত্তেজিত ভাবে সমাজে আলোচনা হয়ে থাকে. এটা – স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ.

    একই সঙ্গে শান্তি পূর্ণ আন্দোলনের ওপরে শক্তি প্রয়োগ করে ভণ্ডুল করা খুবই খারাপ ভাবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্রের ছবির উপরে পড়েছে...