ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানী ও পর্তুগাল তৈরী হয়েছে রাষ্ট্র সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত প্রস্তাব করার জন্য. মনে করা হয়েছে এই প্রস্তাব আজ ৭ই জুন করা হতে পারে.

    ফ্রান্সের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান অ্যালেন ঝ্যুপে মনে করেন যে, এই প্রস্তাব রাষ্ট্র সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১১ জনই সমর্থন করতে পারেন. এই দলিল বলা হচ্ছে যে, পরিষদ সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের কড়া কাজকর্মের নিন্দা করেছে ও দাবী করেছে সিরিয়ার শহরগুলিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলির নিয়ন্ত্রণের জন্য উন্মুক্ত করতে. রাশিয়া সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে দিয়েছে যে, এই দলিল সমর্থন করবে না. এই রকমের অবস্থান রয়েছে চিনেরও. মস্কো ও বেইজিং দুই জায়গাতেই মনে করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত কোন এক পক্ষের জন্য মানসিক সাহায্য হয়ে দাঁড়াবে, যার ফলে বিরোধ আরও বাড়বে ও শুধু নতুন করে রক্তপাতই হবে.

    একই সময়ে সিরিয়াতে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে. সোমবার দেশের উত্তর পশ্চিমে জঙ্গীরা ১২০ জন দেশের সুরক্ষা বাহিনীর কর্মীকে হত্যা করেছে. তারা যাচ্ছিল ঝিসের-এশ-শুগুর শহরের সাধারন লোকেদের হিংসার হাত থেকে রক্ষা করতে, যেখানে সশস্ত্র যোদ্ধারা ঢুকে পড়েছে. দামাস্কাস থেকে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই ধরনের সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে. দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুহামেদ ইব্রাহিম আশ- শার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার দেশের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করছে ও অংশতঃ ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এখুদ বারাকের ঘোষণা যে, বাশারের নেতৃত্বে চলা সরকার আইন বহির্ভূত ও খুব শীঘ্রই তার পতন হবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়.

    ইজরায়েলের রাজনীতিবিদ আরও মনে করেন যে, লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফি ও ইয়েমেনের নেতা আলি আবদাল্লা সালেখের ভবিষ্যত আগে থেকেই ঠিক করা রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর মত মানা হয়েছে. হোয়াইট হাউসের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের সচিব জে কার্নি অংশতঃ মত প্রকাশ করেছেন যে, ইয়েমেনে ক্ষমতা হস্তান্তর অবিলম্বে করা প্রয়োজন.

    ইয়েমেনের বিরোধী পক্ষ তাদের দেশের আহত রাষ্ট্রপতির সৌদি আরবে চিকিত্সার জন্য যাত্রাকে ধরে নিয়েছে যে, তাঁর রাজত্বের শেষ বলেই. তারা ঘোষণা করেছে যে, তারা আর কোনদিনই সালেখ কে দেশে ফিরতে দেবে না. তার মধ্যে দেশের উপ রাষ্ট্রপতি, যিনি সাময়িক ভাবে দেশের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ও যাঁকে বিরোধ পক্ষ বিশ্বাস করে, তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আলি আবদাল্লা সালেখ সেরে উঠছেন ও কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন. দেখা যাচ্ছে যে, তাঁর আহত হওয়াতেও দেশের সামরিক বাহিনীতে তাঁর প্রভাব কমে নি. মঙ্গলবার ভোর রাতে এই বাহিনী তাদের প্রধান নেতার নির্দেশে জঙ্গীদের জিঞ্জিবার থেকে হঠিয়ে দিয়েছে. আক্রমণে ৭ জন সেনা মারা গিয়েছেন ও ১২ জন আহত হয়েছেন. জঙ্গীদের মধ্যে কত জন নিহত তা জানা যায় নি.

    ইয়েমেনে বিপ্লব চলছে ফেব্রুয়ারী মাস থেকেই, কিন্তু কখনোই তা সমাধানের অবস্থা এখনকার মতো এত কাছাকাছি হয় নি. এমনকি যদিও আগে বেশ কয়েকবার তাঁর পদ থেকে সালেখ পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, তবু তিনি এই আশ্বাস পালন করেন নি. এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, গৃহযুদ্ধ এই দেশে হবে খুবই রক্তক্ষয়ী. কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফিনল্যান্ডের পরেই ইয়েমেন বিশ্বে তৃতীয় দেশ, যেখানে মানুষের হাতে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র সর্বাধিক. আর বেসরকারি হিসাবে সেই পরিসংখ্যানে হয়তো তারা প্রথমেই রয়েছে. আর রাজনীতিবিদ আলেকজান্ডার ত্কাচেঙ্কো মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন দেশের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিরোধের বিষয়ে, আর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি বহু প্রজাতির লোকেদেরই অনাস্থা নিয়ে, তিনি বলেছেন:

    "প্রজাতি বিষয়ক ব্যাপারটাই – এটা সেই বারুদের ড্রামের সলতে, যা যখন দেশে সরকার দোলায়মান, তখন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে. এটাই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি. যে কোন রকমের ঘটনার দিক পরিবর্তনে, যা দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন আনবে ও কেন্দ্রীয় সরকারে বদল ঘটাবে, প্রজাতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বিরোধ বাড়তেই থাকবে".

    একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে এই রকমের ইয়েমেনের পরিস্থিতি দেশে সঙ্কটে থেকে বের হওয়ার একটা পথও হতে পারে, তাই ত্কাচেঙ্কো বলেছেন:

    "সন্দেহ নেই যে, সালেখের অনুপস্থিতি নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে ও আরও বেশী রকমের সম্ভাবনা রয়েছে নানা ধরনের অবস্থা পরিবর্তনের. যদি তিনি সৌদি আরবেই থেকে যান, তবে খুবই সম্ভবতঃ বিরোধী পক্ষ ও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিরা নিজেদের মধ্যে কোন একটি পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছতে পারবে. রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি খুবই সম্ভাব্য উপায়ে রাজনৈতিক ভাবে এই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করার পথ দেখাচ্ছে ও গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে".

    আর এটা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও প্রয়োজনীয়. কারণ বর্তমানে রাজনৈতিক লোভ ও বিরোধী মতে বিশ্বাসী সামরিক বাহিনীর লোকেদের খুবই কৌশলে নিজেদের কবলে নিয়েছে "আল- কায়দা" সংস্থা. তাদেরই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সাহায্যে, বিরোধী পক্ষ দক্ষিণের শহর জিঞ্জিবার দখল করেছে. সেখানে সোমালি দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমান্ত অঞ্চল রয়েছে. যদি "আল- কায়দা" দলের প্রভাব দেশের দক্ষিণে আরও বেশী করে পোক্ত হতে পারে, তবে তাদের সোমালির ঐস্লামিক চরমপন্থী দল "আল – শাবাব" দলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাওয়াকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না. আর এর অর্থ হল, সোমালিতে সম্মিলিত ভাবে জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলবে ও জলদস্যূ সমস্যা আরও বাড়বে. ইয়েমেনের সোমালির মতই রাষ্ট্র হিসাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া তাদের তীর বরাবর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পশ্চিমে খনিজ তেল বহনের পথে নিরাপত্তার জন্য এক বড় বিপদ হয়েই দাঁড়াবে.