"অনুভব করতে পারছি, আমার আত্মার শক্তি সম্পূর্ণ ভাবে বিকশিত হয়েছে, আমি সৃষ্টি করতে পারি".এই রকমের আত্ম স্বীকৃতী এক দিন বিখ্যাত রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিন নিজেদের বংশের খাস তালুক "মিখাইলভস্কোয়ে" জমিদারীতে থেকে করেছিলেন. আজ থেকে ১০০ বছর আগে, ৬ই জুন, কবির জন্মদিনে, যা আজকের রাশিয়াতে পুশকিন দিবস হিসাবে পালিত হয়, "মিখাইলভস্কোয়ে" সাহিত্য যাদুঘর উদ্যানের উদ্বোধন করা হয়েছিল.

    বর্তমানে এটি রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ঐতিহাসিক- সাহিত্য ও প্রকৃতি – পরিবেশ স্থাপত্য যাদুঘর ও সংরক্ষিত উদ্যান. আর এর বিস্তীর্ণ প্রান্তর প্রাচীন রুশ শহর পস্কোভ থেকে কয়েক শো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত.

    এই যাদুঘর সংরক্ষিত উদ্যান "মিখাইলভস্কোয়ে" তে নতুন করে তৈরী করা হয়েছে ও তৈরী করা হচ্ছে সেই সমস্ত অনেক কিছুই, যা প্রাদেশিক জমিদারীতে রুশ জমিদারদের জীবন ও অভ্যাসকে মনে করিয়ে দিতে পারে. "কয়েক বছর আগে আমাদের এমনকি কাজ করে এমন জলের স্রোতে ঘোরা কাজ করে এমন যাঁতাকল লাগানো হয়েছে", - রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এই সংরক্ষিত উদ্যানের ডিরেক্টর গিওর্গি ভাসিলিয়েভিচ বলেছেন:

    "রাশিয়াতে এই রকমের সব মিলিয়ে তিনটি দুষ্প্রাপ্য বস্তু রয়েছে. আমাদের যাঁতাকলে সত্যিকারের গম পেষাই করার যাঁতা রয়েছে. সেখানে গেলে দেখতে পাওয়া যায়, কি করে আগে গম পেষা হতো. এখানে বহু রকমের দারুণ সব প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়ে থাকে, যা লোক জীবনের গন্ধ বয়ে আনে, যেগুলি না হলে পুশকিনের সম্বন্ধে বা উনবিংশ শতকের জমিদারদের জীবনের সম্পর্কে কিছুই জানা যেত না. এখানে যাঁরা পর্যটক হয়ে আসেন, তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে যে, "ইভগেনি অনেগিন" নাট্য কাব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্ক – প্রধান নায়কদের মধ্যে ডুয়েল – হয়েছিল যাঁতা কলের পিছনেই. "মিখাইলভস্কোয়ে" তে আমরা শিখি নিজেদের সম্পূর্ণ আত্ম শক্তিতে বেঁচে থাকা ও প্রতিভার বিকাশ করা ও আনন্দিত হয়ে থাকি যে, এটা আমাদের অতিথিরাও করে থাকেন. এটা সবচেয়ে বিরক্তি পরিবর্জিত ও সবচেয়ে বিস্ময়কর জায়গা! এখানে নিজের জন্য রুশ প্রাকৃতিক পরিবেশের বিরল সৌন্দর্য্য কে আবিষ্কার করা সম্ভব হয়, রুশ ইতিহাসের মূলে যাওয়া যায় – এই সবই পুশকিনের কবিতায় যুক্ত রয়েছে ওতপ্রোত ভাবে. হতে পারে এর মধ্যেই রয়েছে "মিখাইলভস্কোয়ে" জায়গার রহস্য, যেখানে নিয়মিত ভাবে রয়েছে শুধু স্মৃতিই নয়, শিল্প সৃষ্টিও".

    এখানে অতিথিদের সৃষ্টি করতে আহ্বান করে যেমন, যাদুঘরের পোস্ট অফিস. এই যাদুঘরের একটি খাবার ঘরের ভিতরে এক ঘরে এক বিশেষ পোস্ট অফিস খোলা হয়েছে, যার নিজের সীল রয়েছে, সেখানে চিঠি লেখার জিনিসপত্র রয়েছে. "এখানে প্রত্যেকেই টেবিলের কাছে বসে পালক বা লোহার কলম দিয়ে চিঠি লিখতে পারে" – এই কথা বলে গিওর্গি ভাসিলিয়েভিচ যোগ করেছেন:

    "এই পোস্ট অফিস মানুষদের সত্যিকারের চিঠি লেখার অভ্যাস তৈরী করবার জন্য করা হয়েছে, ইন্টারনেটের চিঠির চেয়ে তা অনেক বেশী আবেগ ও দুঃখ বোধ সম্পন্ন. এটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয় যে, এই রকমের চিঠি পাঠানোর ইচ্ছা অনেকেরই হয়েছে: আজ এই রকমের চিঠি শুধু রাশিয়ার ভিতরের ঠিকানাতেই পাঠানো হচ্ছে না, বাইরের বহু দেশেই যাচ্ছে. কিছু চিঠিতে লেখকেরা লেখেন তাঁরা কি পড়েছেন, কেন একটি বা অন্য আরেকটি রচনা তাঁদের নাড়া দিয়েছে. এই সবই – জীবনের পূর্নতা..."

    জীবনের পূর্নতা, স্বাধীনতার ইচ্ছা ও সৃষ্টির আবেগ সব সময়েই "মিখাইলভস্কোয়ে" তে মানুষকে আকর্ষণ করেছে বিখ্যাত সাহিত্যিক দের. ঐতিহ্য মেনেই এই পুশকিন দিবসের দিন গুলিতে এখানে বিরাট মাঠে, যেখানে বহু হাজার লোক জমায়েত হত, সেখানে কবিতার উত্সব হচ্ছে.

    "মিখাইলভস্কোয়ে" যাদুঘর উদ্যানের ১০০ বছরের উপলক্ষে এবারে খুবই ধূমধাম করে এই পুশকিন দিবস পালন করা হচ্ছে. ৩রা জুন থেকে সেখানে শুরু হয়েছে কবিতার উত্সব, যা পালন করতে এখানে জড়ো হয়েছেন সারা রুশ দেশ থেকে কবিতা প্রিয় মানুষেরা ও বহু কবি.