রাশিয়া ভারতকে বছরে ৭৫ লক্ষ টন অথবা অন্যভাবে বললে ১০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে. প্রাথমিক বোঝাপড়ার চুক্তি দিল্লী শহরে রাশিয়ার "গাজপ্রম" কোম্পানীর প্রতিনিধি ও একদল ভারতীয় খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানীর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পরিকল্পনা রয়েছে যে, "গাজপ্রম" আগামী ২৫ বছর ধরে ভারতে প্রতি বছরে তিনটি প্রধান তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার কারী কোম্পানীর প্রতি টিকে ২৫ লক্ষ টন করে গ্যাস দিতে পারে.এই কোম্পানী গুলি হল – গেইল ইন্ডিয়া লিমিটেড, গুজরাট স্টেট পেট্রোলিয়াম কোম্পানী ও পেট্রো নেট এল এন জি লিমিটেড. ২০০৭ সালে "গাজপ্রম" ভারতে নিজেদের স্থানীয় এজেন্ট কোম্পানীর মাধ্যমে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সাফল্যের সাথে সরবরাহ করার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা একটি স্বাভাবিক অগ্রগতি. এটি অবশ্যই রুশ ও ভারতীয় খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানী গুলির মধ্যে নূতন অধ্যায় বলে মনে করে রাশিয়ার জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ফেইগিন মস্কো শহরে বলেছেন:

    "ভারত আমাদের সীমান্তবর্তী দেশ নয়, যথেষ্ট দূরেই রয়েছে, কিন্তু যখন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কথা হয়েছে, তখন বড় কোন বাধা দেখতে পাওয়া যায় নি. সমুদ্র পথে দূরের অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন পাইপ লাইনে পরিবহনের চেয়ে সস্তাই হয়ে থাকে. এই পরিবহন করা হয়ে থাকে নিরপেক্ষ সামুদ্রিক অঞ্চল দিয়ে ও কোন দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক নির্ভর নয়. এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত অবশ্যই খুব আগ্রহের ও ভবিষ্যত সম্ভাবনাময় বাজার. ভারতে এখন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে "সাখালিন – ২" প্রকল্প থেকে. ভবিষ্যতে পরিকল্পনা রয়েছে "সাখালিন – ৩" প্রকল্প ও ভ্লাদিভস্তকের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কারখানা থেকে গ্যাস পাঠানোর".

    "গাজপ্রম" ভারতকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করার উপযুক্ত এক প্রধান বাজার বলে দেখে, জাপান, চিন ও অন্যান্য এশিয়ার দেশ গুলির মতোই. আসন্ন কয়েক মাসের মধ্যেই এই গ্যাস কেনা বেচার চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে. এই চুক্তির জন্য মূল্য নির্ধারণের ফরমুলা বর্তমানে আলোচিত হচ্ছে – এই কথা ব্যাখ্যা করে ভ্লাদিমির ফেইগিন বলেছেন:

    "ভারত, চিনের মতই – উন্নতিশীল অর্থনীতির দেশে. তাঁরা খুবই মনোযোগ দিয়ে মূল্য নির্ধারণের বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও গ্যাস বর্তমানে বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, আর ভারত এক্ষেত্রে কোন ব্যতিক্রম নয়. ভারতীয় কোম্পানী গুলি বহু দিন ধরেই তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়াতে খনিজ তেল ও গ্যাস আহরণের বিষয়ে, অর্থাত্ এই ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চেয়েছে. কিছু প্রকল্পে তারা অংশও নিয়েছে, যেমন, সেই "সাখালিন ১" প্রকল্পেই. যদি ভারতে বড় মাপের সরবরাহের কথা বলতে হয়, তবে আমরা রাশিয়াতে ভারতীয় কোম্পানী গুলির খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবো ও কিছু নির্দিষ্ট প্রকল্পে চাইব ভারতীয় অংশগ্রহণ".

    রাশিয়াও ভারতে সেই সমস্ত প্রকল্পে অংশ নিতে চেয়েছে, যেখানে রুশ গ্যাস ব্যবহার করা হবে. এই বিষয় যথেষ্ট সম্ভাবনাময়. ভারত চিনের মতই কার্বন যৌগের বিষয়ে খুব ধনী দেশ নয়. তারা আগ্রহী নিজেদের দেশে অন্য দেশ থেকে আমদানী করা গ্যাস ও তেলের বিষয়ে আগে থেকে নির্ণয় করা পরিমান অবশ্যই পেতে. আর প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হল এই ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার উপায়.

    প্রসঙ্গতঃ, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের মধ্যেই রুশ ভারত খনিজ তেল গ্যাসের বিষয়ে সহযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকছে না. বর্তমানে আলোচনা চলছে মধ্য এশিয়া থেকে ভারতে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতা, প্রথমতঃ তুর্কমেনিয়া থেকে. এই পাইপ লাইন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে যাবে. কিন্তু এই দেশ গুলির মধ্যে সম্পর্ক খুব সাধারন নয়. সুতরাং পাইপ লাইন নির্মাণ, ট্রানজিটের শর্ত নির্ণয়, বিনিয়োগে অর্থ বরাদ্দ বিষয়ে কাজ খুব সহজ হবে না. আর এখানে রাশিয়া সহজেই সক্রিয় অংশীদার হতে পারে, যে অংশীদারদের স্বার্থের বিষয় নিয়ে সহমতে পৌঁছে দিতে পারে. আমাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ও এই দেশ গুলির সঙ্গেও স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে. তাছাড়া এই প্রকল্পে রুশ কোম্পানী গুলি সরাসরি ভাবেই পাইপ লাইন তৈরীতে অংশ নিতে পারে.