ন্যাটো জোট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা ব্যখ্যা করেছে এবং তারা একটি গোষ্ঠীর পক্ষের হয়ে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধে মধ্যবর্তী হিসাবে কাজ করছে।এই মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সেরগেই ইভানভ,যিনি আজ রোববার  সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘শানগ্রিলা সংলাপ’এ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সিঙ্গাপুরের এই সম্মেলনকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘রণকৌশল বিষয়ক বিশ্ব দাভোস সম্মেলন’ হিসাবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।বিশেষত,বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এ সম্মেলনে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।তাছাড়া একই সাথে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। ‘শানগ্রিলা সংলাপ’এ নিয়মিতভাবেই অংশগ্রহন করেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সেরগেই ইভানভ।২০০২ সাল থেকে এ সম্মেলন সিঙ্গাপুরের লন্ডন আন্তর্জাতিক কৌশল গবেষনা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত হয়ে আসছে।

এদিকে সিঙ্গাপুরের সম্মেলন উপলক্ষ্যে স্টকহোমের বিশ্ব সমস্যা গবেষনা ইনস্টিটিউট জানায়,অস্ত্র কেনা-বেচার দৌঁড় প্রতিযোগিতায় এশিয়া বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে।অস্ত্র আমদানীতে উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর তালিকার মধ্যে রয়েছে-ভারত,চীন,দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তান।মূলত,‘শানগ্রিলা সংলাপ’ এর আলোকে এই বিষয়টি এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূখন্ডের অনেক দেশের কাছেই  আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।এ অঞ্চলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক বৈরী মনোভাবকে আরও বৃদ্ধি করেছে।রেডিও রাশিয়াকে এমনটিই জানালেন দূরপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি মাসইয়াকভ।তিনি বলছেন,দুইটি দেশের মধ্যে আজ সত্যিকার অর্থেই পরস্পরবিরোধী সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে যা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পুরো ভূখন্ডকেই ভাবিয়ে তুলেছে।একদিক থেকে চীন এগিয়ে যাচ্ছে।চীনের উন্নয়ন যা বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট বহন করছে এবং যা সবার আগে চীনের আধুনিকায়নের সাথেই জড়িত।তাছাড়া রয়েছে দেশের অভ্যন্তরে স্থিতিশীল পরিবেশ।অন্যদিকে এই অঞ্চলে মার্কিনীদের প্রভাব বিস্তার বজায় রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র অত্র অঞ্চলের সবধরনের নিরাপত্তার প্রশ্নে সহযোগি দেশ হিসাবে জাপানের সাথে তুলনামূলক অধিক হারে সম্পর্ক বজায় রাখছে। যার কারণে চীন অনেকটা অসন্তুষ্ট।

ওদিকে ‘শানগ্রিলা সংলাপ’এ অংশগ্রহনকারীদের চিন্তামুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেইটস বলেছেন যে,যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে না।একই সাথে তিনি বলেছেন,পেন্টাগন এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূখন্ডে সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে।তিনি চীনের পূবাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সাগরের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আহবান জানিয়েছে।অন্যদিকে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিইয়ান গুআনলে উল্লেখ করেন যে,জাপান,ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশের সাথে দ্বীপ সংক্রান্ত ভৌগলিক সীমানা নিয়ে দ্বন্ধ থাকলেও প্রতিটি দেশের সাথেই চীনের রয়েছে দ্বিপাক্ষিক বিশেষ সহযোগি চুক্তি।তিনি আরও বলেন,তাই ৩য় কোন দেশের পক্ষে এই দ্বন্ধে ইন্ধোন যা কোন সুফল বয়ে আনবে না।লিইয়ান বলেন,মার্কিন নীতির সাথে আমরা পাল্টাপাল্টি খেলতে যাচ্ছি না।

এদিকে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী সেরগেই ইভানভ গুরুত্বতার সাথে বলেছেন,রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনাকে উপেক্ষা,সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের কারণে অস্থিরতার উদ্বেগ যা বিশ্ব পরিস্থিতির ‘সাধারণ চিত্র’ ফুটিয়ে তুলেছে।তিনি বলেন,উজ্জ্বল উদাহরণই হচ্ছে লিবিয়া।লিবিয়া প্রশ্নে এর সাথে জড়িত সাবইকে আলোচনার সাপেক্ষে সমাধানের জন্য ইভানভআহবান জানান।তিনি বলেন,এই কাজে সহায়তা করতে পারে জাতিসংঘ ও  আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ।

ভূখন্ড সংক্রান্ত যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়ে সেরগেই ইভানভ ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোসিমি কিতাদজাবা উত্তর দিয়েছেন।দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার সময় তোসিমি কুরিল দ্বীপে সম্প্রতি রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফরেকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ননা করেছেন।এর পেক্ষিতে,সেরগেই ইভানভ উল্লেখ করেছেন,কুরিল দ্বীপ হচ্ছে রাশিয়ার সার্বভৌম এলাকা এবং কাউকে ‘উত্ত্যক্ত’ করার জন্য  তিনি সেখানে যান নি।স্থানীয় অবকাঠামো ও শিল্প কলকারখানাকে আধুনিকায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের তদারকির জন্যই তিনি কুরিল দ্বীপ সফর করেন।