বর্তমানে বহু পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক কারখানাই যেমন, ধাতু উত্পাদন, রসায়ন, চর্ম শিল্প ও বস্ত্র বয়ন শিল্প, ঔষধি উত্পাদন, আরও বেশী করে পশ্চিমের একচেটিয়া কোম্পানী গুলি উন্নতিশীল দেশ গুলিতে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, অংশতঃ ভারত ও চিনে. আর এখানে শুধু কারণ এই নয় যে, সেখানে সস্তা শ্রমিক শক্তি রয়েছে. কারণ হল, সেই সমস্ত দেশে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে কম মনোযোগ দেওয়া হয়ে তাকে, আইন গুলিও এই সমস্ত দেশে যথেষ্ট উদার. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    শিল্প উত্পাদনের বর্জ্য পদার্থ প্রায়ই এই সমস্ত জায়গার স্থানীয় জলাধার গুলিতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকে. উন্নতিশীল দেশ গুলিতে দামী পরিশোধন করার যন্ত্রপাতির জন্য সাধারণতঃ অর্থব্যয় করা হয় না, আর বিদেশী একচেটিয়া কোম্পানী গুলি এই কাজের জন্য অর্থ ব্যয় করতে চায় না. শিল্পোত্পাদনের পরে বর্জ্য পদার্থ এক সময়ে গলে পচে মাটিকেই বিষাক্ত করে. ব্যাকটেরিয়া অভিযোজিত হয়, নতুন ধরনের ক্ষতিকারক গুণ লাভ করে. চিকিত্সকেরা প্রায়শই নতুন ধরনের অসুখ বয়ে আনা জীবাণুর সামনে উপস্থিত হচ্ছেন, যা একেবারেই বহু এবং খুবই শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়েও সারানো যাচ্ছে না. এখানে গ্যারান্টি কোথায় যে, আগামী কাল কোন নতুন ভয়ঙ্কর ভাইরাসের উদ্ভব হবে না, যা আধুনিক ওষুধের ক্ষমতা পার করবে না? নতুন এইডস রোগের সম্ভাবনা একেবারেই বাস্তব.

    গ্যেটেবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ভারতে ওষুধের কোম্পানী গুলির থেকে বর্জ্য জল নিকাশী ব্যবস্থার জল নিয়ে পরীক্ষা করে একেবারে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন. কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পরিমান এই জলে কিছু জায়গায় রোগীর শরীরে এই ওষুধ ব্যবহার করলে যে রকমের ঘনত্ব হয়, তার থেকে প্রায় তিরিশ গুণেরও বেশী. এই ধরনের অবস্থা একেবারেই চলতে পারে না, এই কথা মনে করে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা গ্রীন লাইটের প্রধান ও রাশিয়ার তরফ থেকে ইউনেস্কো পরিষদে সদস্য ভ্লাদিমির গ্রাচেভ বলেছেন:

    "পরিস্কার জল বর্তমানে একটি খুবই অভাবের বস্তুতে পরিনত হয়েছে, আর তা আগামী দিনে আরও বড় সমস্যাতে পরিনত হবে. জলের গুণের উপরে মানুষের জীবনের দৈর্ঘ্য নির্ভর করছে. বিখ্যাত সব ইনস্টিটিউট ও বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, যদি মানুষ পরিশ্রুত জল পান করে, তবে আরও পাঁচ – সাত বছর বেশী বাঁচে. কিন্তু এদের অনেকেই খুবই বাজে জল পান করতে বাধ্য হন, তা নোংরা আর সঠিক বললে এটা ক্ষতিকারক. এই সমস্যা খুবই উদ্বিগ্ন করেছে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বিগ্ন সমাজকে.

    ভারতের সরকার, দেশের সমাজ, একই ভাবে অন্যান্য উন্নতিশীল দেশ গুলির প্রশাসন ও সমাজের মতই খুবই উদ্বিগ্ন এই পরিস্থিতি নিয়ে. ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছিল ভারতীয় নদী গুলির সংস্কারের কাজ নিয়ে, অংশতঃ দেশের অন্যতম প্রধান পবিত্র নদী গঙ্গা সম্বন্ধে. তখন জল পরিস্কার করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল. এই কাজের জন্য কুড়ি কোটি ডলার আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সমস্যা রয়ে গিয়েছে সমাধানের অপেক্ষায়. এই নদীর বহু জায়গায় জল শুধু পানের অযোগ্য নয়, এমনকি তাতে স্নান করাও চলতে পারে না".

    আমাদের সময়ে ভারত সরকার রাষ্ট্রসংঘের সহায়তায় আবার করে প্রচেষ্টা করছে গঙ্গার পরিবেশ দূষণের সমস্যা সমাধানের. এই নদীর উদ্ধারের জন্য পরিকল্পনা হয়েছে দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশী খরচ করার, আর তার জন্য এক বিলিয়ন দেওয়া হবে দেড়শটি গঙ্গা তীরবর্তী শহরে জল পরিশোধনের জন্য ব্যবস্থা করতে, আর তারই সঙ্গে এই নদীর বহু সংখ্যক শাখা প্রশাখার পরিস্কার করার কাজে. এই পরিকল্পনা বেশ কয়েক দশকের জন্য নেওয়া হয়েছে.

0    কিন্তু শিল্পোত্পাদনের কারখানার গুলির জন্য যদি পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত দাবী আরও কঠিন না করা হয়, তবে সমস্যা আসন্ন ভবিষ্যতে মনে তো হয় না যে, তার তীব্রতা হারাবে. ভারত ও চিনের মত আরও অন্যান্য দেশে বহুজাতিক সংস্থা গুলি নিজেদের কাজ কারবার সেই ভাবে করতে বাধ্য, যা তারা করে থাকে নিজেদের দেশে – আর অন্ততঃ কম করে হলেও দামী পরিশোধনের যন্ত্রপাতির জন্য অর্থ ব্যয় করতে যেন কুন্ঠিত না হয়.