মূল্যবোধ ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে রুশ আমেরিকা বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছিল মস্কো শহরে আমেরিকার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ কেন্দ্র ও রাশিয়ার গণতান্ত্রিক, সামাজিক পরিকল্পনা ও সহযোগিতা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউট গুলির যৌথ উদ্যোগে. এখানে জড়ো হওয়া রাজনীতিবিদেরা, বৈজ্ঞানিক ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা, যাঁদের মধ্যে রেডিও রাশিয়া থেকেও প্রতিনিধি ছিলেন, বহু প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করার সময়ে, বিশেষত যেগুলি নিয়ে করেছেন, তার মধ্যে ছিল: মানবিক কারণে অনুপ্রবেশ কি আইন সঙ্গত ও নৈতিক ভাবে করা যেতে পারে, সার্বভৌমত্ব ও জনসাধারনের রক্ষা প্রয়োজনের মধ্যে কোনও যোগ কি রয়েছে?

মূল্যবোধের সমস্যা পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে, তা যেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, তেমনই সর্ব বিস্তৃত আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও. বিভিন্ন ধরনের প্রসার ও অর্থ অনুযায়ী ঘটনা আরও একবার ঘোষিত মূল্যবোধ গুলি ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অধিকারের সামঞ্জস্য রক্ষার প্রশ্নে বাস্তব বলে দেখা যায়. এটা যেমন, লিবিয়াতে মানবিকতার স্বার্থে অনুপ্রবেশ, যা আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো জোটের সরিক দেশ গুলি করছে, আর কিছু রুশ উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে, যাঁরা নিজেদের দেশে কিছু লোকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় জড়িত, তাঁদের সম্বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা নিতে চাইছে অথবা এখনও অবধি বিভিন্ন ছুতো করে বহু আগেই নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতির প্রসঙ্গে নেওয়া রুশ দেশ সম্বন্ধে মার্কিনীদের নেওয়া জ্যাকসন – ভেনিক আইন সংশোধন প্রত্যাহার না করা, এই সব কিছুকেই দেখা যায়. এই সমস্ত কাজের ভিত্তিতে প্রত্যেক দেশের মেনে নেওয়া কিছু মূল্যবোধ রয়েছে, যা বাস্তবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং খুবই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য রাখে. আজ যখন বহু উপরিল্লিখিত সমস্যার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও পশ্চিমের দেশ গুলির মধ্যে একেবারেই পৃথক দৃষ্টিকোণ রয়েছে, তখন এটার অর্থ কি হয় যে, আমাদের মূল্যবোধ গুলিও পৃথক? এই প্রশ্ন নিয়ে রেডিও রাশিয়া রাজনীতিবিদ আন্দ্রোনিক মিগ্রানিয়ান কে মন্তব্য করতে বলেছিল, তিনি উত্তরে বলেছেন:

"আমাদের মূল্যবোধ আগের তুলনায় পশ্চিমের মূল্যবোধ গুলির খুবই কাছাকাছি. কিন্তু এটা নিয়ে যেমন রাশিয়া তেমনই আমেরিকার তরফে অন্য মত রয়েছে. সোভিয়েত সময়ে ছিল সম্পূর্ণ অন্য ধরনের মূল্যবোধের ব্যবস্থা ছিল, সত্যিকারের যুদ্ধের বিপদও ছিল. আজ এটা আর নেই. সকলেই একমত যে, বাজার নির্ভর অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক নিয়ম ও রীতি – এটা এমন বিষয়, যা সকলের জন্যই গ্রহণযোগ্য ও সর্বজনীন. এটা সেই দিক, যা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সফল ও গঠন মূলক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য রয়েছে".

অনের রুশ লোক এবং অংশতঃ মস্কো বিতর্কে অংশগ্রহণকারীরা আগের মতই মনে করেন যে, আমেরিকার লোকেরা খুব একটা অন্য দেশের স্বার্থ দেখতে আগ্রহী নয় এবং তারা চেষ্টাও করে না বুঝতে অথবা মূল্যায়ণ করতে অন্যের মূল্যবোধ গুলি, এই কথা বলেছেন আন্দ্রোনিক মিগ্রানিয়ান. কিন্তু এই পরিস্থিতি বদল হতে শুরু করেছে. আজকের বিশ্বে নতুন সমস্ত রাষ্ট্র উঠে দাঁড়িয়েছে – রাশিয়া, ভারত, চিন, আর আমেরিকার লোকেদের আরও বেশী করে তাদের স্বার্থের কথাও ভাবতে হচ্ছে. আর, এর অর্থ হল, বিশ্ব আরও বেশী জটিল অধ্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে এবং হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিগত দশ বছর আগের সময়ের তুলনায় আরও বেশী করে বহুমাত্রিক.