পশ্চিমের দেশ গুলিকে নিজেদের অভ্যস্ত ব্যবহারের মডেল পাল্টাতে হবে. এই রকমই বিষয়কে রাশিয়ার রাজনীতিবিদেরা ব্লুমবর্গ সংস্থাকে দেওয়া রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের সাক্ষাত্কারের মূল অর্থ বলে মনে করেছেন. লিবিয়ার ঘটনার পারিপার্শিক, ইরান ও প্যালেস্টাইনের পরিস্থিতি পশ্চিমের সাংবাদিকদের সঙ্গে সের্গেই লাভরভের আলোচনার প্রধান বিষয় বস্তু ছিল.

    রাশিয়া লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির জন্য আলাদা করে কোন রকমের অস্পৃশ্যতার চুক্তি ব্যবস্থা করার জন্য আলোচনা করছে না, ঘোষণা করেছেন সের্গেই লাভরভ. একই সময়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য দেশের নেতারা, যাঁরা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারেন, বহু রকমের উপায়ের সন্ধান করছেন. কর্নেলের সম্ভাব্য ভবিষ্যত নিয়ে বড় আট দেশের শীর্ষ বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে. প্রস্তাবিত উপায় গুলির পরিধি খুবই প্রসারিত: লিবিয়ার মরুভূমিতে এক সাধারন বেদুইনের শান্ত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিচারালয় পর্যন্ত. সেখানে ফরাসী দেশের দোভিল শহরে, আমেরিকা ও ফ্রান্সের দুই নেতা বারাক ওবামা ও নিকোল্যা সারকোজি, রুশ রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভকে আহ্বান করেছেন লিবিয়া প্রসঙ্গে মধ্যস্থতা করার. অর্থাত্ চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য, যা আফ্রিকা সঙ্ঘ, লিবিয়ার বিরোধী পক্ষ ও ন্যাটো জোটের শক্তির পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে. ফলে রাশিয়া বর্তমানে কূটনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে দুটি দিকেই: গাদ্দাফির সঙ্গে আলোচনা করা ও ন্যাটো জোটের সঙ্গেও. জোটকে বোঝানো দরকার যে সামরিক কাজকর্ম বন্ধ করা চাই. একই সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি তাঁর লিবিয়া প্রসঙ্গে বিশেষ দূত মিখাইল মার্গেলভকে বন্দর শহর বেনগাজিতে পাঠিয়েছেন বিরোধী পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে. এই প্রসঙ্গে মস্কো চাপ দিয়েছে যে, সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তা লিবিয়াতে বর্তমানে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের সকলের জন্যই গ্রহণযোগ্য হতে হবে.

    মস্কো যে এখন গাদ্দাফির গ্যারান্টির জন্য কোনও কথা বলতে চায় না তা খুবই বোধগম্য. নিজেদের নেতার ভবিষ্যত লিবিয়ার জনগনই স্থির করুন, কোন বাইরের শক্তি নয়, এই বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের রাজনীতিবিদ আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

    "গাদ্দাফির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত লিবিয়ার জনগন নির্বাচন প্রক্রিয়া মাধ্যমেই নিজেরা নিতে পারেন. লিবিয়ার সরকারি নেতৃত্ব এক সময়ে এই নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছিল. এই পরিকল্পনা তথাকথিত জঙ্গীরা প্রত্যাখ্যান করেছিল – কি কারণে তা বোঝা যায় নি. যদি পশ্চিমের দেশ গুলি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য চাপ দেয়, যদি তারা লিবিয়ার জনগনের পক্ষে গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে, যারা বর্তমানে নাকি স্বৈর তান্ত্রিক দেশে রয়েছে, তবে নির্বাচন – সবচেয়ে ভাল পথ এই সঙ্কট থেকে বের হওয়ার".

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে ইরান সম্বন্ধে কথা হয়েছিল. লাভরভের কথামতো, রাশিয়া একেবারেই গররাজি নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের বিরুদ্ধে জারী করার বিষয়ে. গত বছরের রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত সমস্ত সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে ইরান পারমানবিক বোমা বানাতে না পারে. নতুন কোন সিদ্ধান্ত এর সঙ্গে কিছুই যোগ করবে না, শুধু দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবই ফেলবে. লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া কোন রকমের প্রমাণ এখনও পায় নি যে, ইরান পারমানবিক বোমা বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘের রাষ্ট্রসংঘকে এড়িয়ে আলাদা করে নেওয়া একতরফা ইরান সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে যৌথ প্রয়াসকে খালি নষ্টই করেছে.

    পশ্চিমের সাংবাদিকেরা রাশিয়ার বর্তমানের প্যালেস্টাইন প্রশ্নে অবস্থানও জানতে চেয়েছেন. মার্চ মাসের শেষে প্যালেস্টাইন জাতীয় প্রশাসনের নেতা মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই আশা করেন প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা  ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব স্বীকার আশা করেন. এই বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ঘোষণায় সেই কথা যে, তিনি এই বছরের হেমন্তেই প্যালেস্তানীয় রাষ্ট্রের সৃষ্টি দেখতে চান, আর প্রসঙ্গতঃ ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের সীমান্ত হওয়া উচিত্ ১৯৬৭ সালের সীমান্ত রেখা বরাবর, অর্থাত্ পূর্ব জেরুজালেম শহরে প্যালেস্টাইনের রাজধানী হবে, তা মাহমুদ আব্বাসের ঘোষণার জন্য একটা জোরালো যুক্তি হয়েছে. এছাড়া, নিকট প্রাচ্য সমস্যা নিয়ে আলোচনাকারী চার মধ্যস্থ পক্ষ ঘোষণা করেছে যে, সেপ্টেম্বর মাসেই আলোচনার ইতি দেখতে চায়.

    তেল- আভিভ শহরে ১৯৬৭ সালের সীমান্ত ও পূর্ব জেরুজালেম শহরে প্যালেস্টাইনের রাজধানী নিয়ে কথা বলতে একেবারেই কিন্তু প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে. তারই মধ্যে সের্গেই লাভরভের কথামতো, শান্তি প্রয়াস – কারও নিজের কল্পনা নয়, সেটা চুক্তি, যা আন্তর্জাতিক সমাজ সমর্থন করবে.

    বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনার বিকল্পকে খুবই সন্দেহজনক বলে মনে করেছেন. রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ণকারিনী ইরিনা জ্ভিয়াগেলস্কায়া মনে করেন যে, ইজরায়েলের প্যালেস্টাইন জাতীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকার করা এক তরফা ভাবে এই রাষ্ট্র ঘোষণাতে বাধ্য করতে পারে. অথবা এই প্রশ্ন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ কাজ করবে, যা ইজরায়েলের বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞা নিতে বাধ্য করতে পারে.