মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের কাছে জুলাই মাসের মধ্যে উত্তর ওয়াজিরস্থান সন্ত্রাসবাদী মুক্ত করার দাবী করেছে. এই বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আফগানিস্থানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জোটের বাহিনীকেও কাজে লাগানো যাওয়ার সম্ভাবনাও বাতিল করা হয় নি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যে, আমেরিকার সামরিক নেতৃত্ব আফগানিস্থানের কায়দায় পাকিস্তানেও সমস্যা সমাধানের পথ ধরতে চেয়েছে. যদিও এখানে বলা দরকার যে, আফগানিস্থানের সন্ত্রাস বিরোধী কাজ কারবারও অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে. কারণ সেই অঞ্চলে এখনও কোন রকমের শান্তি বা স্থিতিশীলতা নেই. কাবুলে সরকারি নেতৃত্ব দেশের সমস্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না. অনেক জায়গাই আগের মতই রয়েছে তালিব দলগুলির নিয়ন্ত্রণে. দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, বিনিয়োগের জন্য কোনও অর্থ নেই, ভবিষ্যতের কোন সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়. কিন্তু ওয়াশিংটন চায় তার মতেই সব হোক আর এগুলির দিকে কোনও মনোযোগ না দিতে.

    ইসলামাবাদে কয়েকদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন পৌঁছে ছিলেন মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের প্রধান মাইকেল মাল্লেন কে সঙ্গে নিয়ে, তিনি পাকিস্তানের নেতৃত্বের কাছ থেকে কথা আদায় করেছেন যে, তারা এবারে হাক্কানি দলের তালিবদের সঙ্গে উত্তর ওয়াজির স্থান অঞ্চলে লড়াই করতে যাবে. আর ব্যাপারটা এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখনই চলে গিয়েছে যুদ্ধে. পাকিস্তানের বিমান বাহিনী তালিবদের উপরে প্রথম বিমান হানা সাঙ্গ করেছে, তবুও পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে ঘাঁটিতে থাকা ১১ নম্বর ডিভিশনের নেতা জেনেরাল লেফটেন্যান্ট আসিফ ইয়াসিন মালিক আগের মতই ঘোষণা করেছেন যে, পাকিস্তান উত্তর ওয়াজিরস্থানে সামরিক অভিযান তখনই শুরু করবে, যখন তা করার দরকার মনে হবে. পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি মেজর জেনেরাল আখতার আব্বাস ঘোষণা করেছেন যে, পাকিস্তানের সামরিক শক্তি যা এই অঞ্চলে রয়েছে, তা খুবই বিস্তৃত জায়গায় ছড়ানো আর তারা বর্তমানে অর্কাজাই, কুর্রাম ও মোমান্দ নামের জায়গা গুলিতে যুদ্ধ করছে. তাই খুব একটা সম্ভব নয়, তাদের হাক্কানি দলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাওয়ার. এই ধরনের ঘোষণা অন্যান্য সামরিক বাহিনীর নেতারাও করছেন. এর অর্থ হল পাকিস্তানের লোকেদের এখন হাক্কানি দলের সঙ্গে ওয়াজিরস্থানে আসন্ন ভবিষ্যতে লড়াই করতে যাওয়ার ইচ্ছা নেই.

    এই ধরনের অপারেশন বিশেষজ্ঞদের মতে অঞ্চল থেকে বৃহত্ সংখ্যক পুস্তুন প্রজাতির লোককে উদ্বাস্তু করে দিতে পারে, এমনিতেই তাদের অবস্থা শোচনীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই করুণ. এর ফলে পাকিস্তানের পুস্তুনদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব চাড়া দেবে. রাশিয়ার কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ এই ধরনের অপারেশনের ভবিষ্যত খুবই হতাশা জনক মনে করে বলেছেন:

    "এর আগের অপারেশন গুলির উদাহরণ দেকে হাক্কানি দলের সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়াক কথা মনে করা ঠিক হবে না. জঙ্গীরা স্রেফ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারে পাশের আফগানিস্থানে. এই ধরনের বিশাল জঙ্গী বাহিনীকে এক জায়গায় আটকে ধ্বংস করা খুব একটা সহজ কাজ নয়.সুতরাং এই ধরনের অপারেশনের ফলে হাক্কানির দলকে মোটেও আমেরিকা বিরোধী, পশ্চিম বিরোধী ও কারজাই বিরোধী লোকেদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না".

    কিন্তু ওয়াশিংটন তাড়া দিচ্ছে. আল- কায়দা দলের নেতাকে যে মারা সম্ভব হয়েছে পাকিস্তানের অ্যাবত্তাবাদে. কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবী করেছে উত্তর ওয়াজির স্থান ও দেশের অন্যান্য এলাকাতে লুকিয়ে থাকা তালিব ও আল- কায়দা দলের পাঁচ সবচেয়ে কুখ্যাত নেতাকে ধরতে, তাদের মধ্যে রয়েছে আইমান আল- জওয়াহিরি, যাকে ওসামা বেন লাদেনের উত্তরাধিকারী বলে ভাবা হয়েছে, তার সঙ্গে মোল্লা ওমার, ইলিয়াস কাশ্মীরি. পাকিস্থানের লোকেরা ধরতে বাধ্য আরও সিরাজুদ্দিন হাক্কানি কেও, যে এই দলের এক নেতা ও যার কথা ভেবে এতদিন পাকিস্তান আফগানিস্থানে প্রভাব বিস্তারের কথা ভেবেছিল, আমেরিকার জোটের সেনাদের চলে যাওয়ার পরে. তা স্বত্ত্বেও আমেরিকার রাজনীতির স্রোতে ভেসে যেতে গিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ ভাবে অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও সামরিক বিষয়ে ক্রোক হয়ে গিয়ে, পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব আমেরিকার মাপ মতই কাজ করতে বাধ্য হয়েছে. ২রা জুন বৃহস্পতিবারে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের এবারে যৌথ ভাবে গোয়েন্দা দল তৈরী হচ্ছে, যারা পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের ধরবে ও ধ্বংস করবে.