২০৩০ সালে বিশ্বের প্রাথমিক খাদ্য বস্তুর মূল্য, আন্তর্জাতিক অনুদান ও অবিচার থেকে রক্ষা করার সংস্থা অক্সফোর্ড দুর্ভিক্ষ নিবারণ সংগঠন, যা আজ বিশ্বের বহু জায়গায় কাজ করছে, তাদের বিশেষজ্ঞদের মতে এখনকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশী হবে জন সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে বলে. বিশেষজ্ঞরা এই কথা উড়িয়ে দিতে পারেন নি যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বিশ্বে প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য নতুন করে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে.

    ২০৩০ সালের মধ্যে প্রধান খাদ্য দ্রব্য গুলির মূল্য বাড়তে পারে দ্বিগুণের বেশী ও তার মধ্যে থাকবে দানাশষ্য – যার দাম বাড়বে ১২০ থেকে ১৮০ শতাংশ. যদি দেশগুলির প্রশাসন ও নেতৃত্ব এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেন, তাহলে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী বলেছে অক্সফ্যাম সংগঠন.

    এই সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশ্বের নেতৃত্বকে খাদ্য শষ্যের বাজারে নিয়ন্ত্রণ আনতে আহ্বান করা হয়েছে, আর পরিবেশ পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাপী তহবিল তৈরী করতে বলেছেন.

    খাদ্য শষ্য বন্টনের ব্যবস্থা আবার করে দেখা উচিত্, যদি আমরা চাই পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে উদ্ভূত সমস্যা গুলিরও মোকাবিলা করতে, দ্রুত মূল্য বৃদ্ধি, জমির অভাব, জল ও শক্তির অভাবের সঙ্গেও পাঞ্জা লড়তে. এই কথা ঘোষণা করেছেন অক্সফ্যাম সংগঠনের প্রধান বারবারা স্টকিং.

    তাঁর মতের সঙ্গে একমত হয়ে বিখ্যাত ইতালিয় সামাজিক কর্মী ও প্রবন্ধকার জুলিয়েত্তো কিয়েজা বলেছেন:

    "আমি মনে করি, সমস্ত তথ্যই, যা আমাদের কাছে আজ রয়েছে, তা পরিস্কার করেই বলছে যে, প্রাকৃতিক সম্পদ ফুরিয়ে আসছে. খনিজ তেল থেকে শুরু হয়েছে. আর বাকী গুলিও আগামী কিছু কালের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে. আর আমরা – আমি বাস্তবে সারা বিশ্ব সমাজের কথাই বলছি – এখন একেবারেই তৈরী নই এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য. আমাদের সভ্যতা দাঁড়িয়ে রয়েছে পুনর্পূরণ অযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহারের ভিত্তিতে. আর যখন তা ফুরিয়ে যাবে – একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হবে, ট্র্যাজেডি হবে. আর সবচেয়ে বড় লোভ হবে, আমার মতে, শক্তি প্রয়োগ করার, যাতে যেখানে থাকবে সেখানের প্রাকৃতিক সম্পদকে দখল করা যায়. অর্থাত্ ছোট করে বললে যুদ্ধ লাগবে. প্রসঙ্গতঃ এর জন্য আমেরিকাতে তৈরী হওয়া চলছে, চিনও তৈরী হচ্ছে, অন্যান্য দেশ গুলিতেও তা হচ্ছে. কিন্তু বেশীর ভাগ লোকই এর সম্বন্ধে কিছু জানে না".

    অক্সফ্যাম সংস্থা এই সম্বন্ধে যে আহ্বান গুলি করেছে, সেগুলি হল: বড় কুড়িটি অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশকে বিশ্বের খাদ্য বাজারে সংশোধন করতে বলেছে, বড় কৃষি উদ্যোগের বদলে অর্থ মঞ্জুরি করতে বলেছে অনুন্নত দেশের ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য. খাদ্য বস্তু নিয়ে দুর্নীতি ও কৃত্রিম ভাবে বাজার গরম করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কোম্পানী গুলির লাভ বন্ধ করতে আহ্বান করেছে. এপ্রিল মাসেই এক বছরের আগের চেয়ে খাদ্য বস্তুর দাম বিশ্বের বাজারে এক তৃতীয়াংশ বেড়েছিল এই দুর্নীতির কারণেই, তার উপরে আফ্রিকার উত্তর ও নিকট প্রাচ্যের বর্তমান বৈপ্লবিক পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী.

    বিশ্বে বর্তমানে প্রতি সপ্তম ব্যক্তি অনাহারে রয়েছেন, অথচ খাবার রয়েছে সকলের হয়েও উদ্বৃত্ত.

    দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী ডিসেম্বর মাসে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে শীর্ষ বৈঠক হতে চলেছে, তার আগেই অক্সফ্যাম প্রস্তাব করেছে বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষণ তহবিল গঠনের, বিভিন্ন দেশে দেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্য শষ্য ভাণ্ডার তৈরী করার, ছোট বিনিয়োগ করার ক্ষুদ্র কৃষি প্রকল্পে. জৈব জ্বালানীর জন্য কাঁচামাল তৈরী করতে চাষের উপযুক্ত জমি ব্যবহার বন্ধ এবং কাঁচামালের বাজারেও স্বচ্ছতা আনার.