রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর সরকারের প্রধান কাজ বলে মনে করেন রুশ অর্থনীতির গুণগত পরিবর্তন, শুধু সংখ্যায় বেশী করাই নয়. ব্যবসায় পরিমণ্ডলের জন্য প্রকাশিত এক জার্নালে দেওয়া বড় সাক্ষাত্কারে  তিনি এই কথা বলেছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন, কেন প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সমাকলনের জন্য এত অর্থ ব্যয় করার দরকার রয়েছে, আর তারই সঙ্গে ঠাণ্ডা যুদ্ধ সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়কে শেষ করতে আহ্বান করেছেন.

    রাশিয়ার প্রশাসনের প্রধান প্রায়ই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে থাকেন, কিন্তু খুব কমই সৌভাগ্য হয়েছে একেবারে একান্ত সাক্ষাত্কার পাওয়ার. আর "ভি আই পি প্রিমিয়ার" নামের এই জার্নালে দেওয়া সাক্ষাত্কার মনে থেকে যাবে, প্রথমতঃ, বেশ কিছু উদ্ধৃতি যোগ্য উজ্জ্বল বাক্যের জন্যও. সবচেয়ে মনে রাখার মতো হয়েছে তাঁর "গাড়ী টানা ঘোড়ার" মত বিশেষণ. প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি নিজেকে দেশের ভিতরে ও বাইরে সফরের সময় বিশিষ্ট ব্যক্তি বলে মনে করেন কি না. প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, তিনি নিজের উচ্চ অবস্থানের বিষয়ে কখনোই ভাবেন না এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নিজেকে মনে করেন "গাড়ী টানা ঘোড়ার" মতো.

    উল্লেখযোগ্য যে, রাজনীতিবিদদের বেশী আগ্রহের কারণ হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে দেওয়া উত্তর গুলি, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিষয়ে দেওয়া উত্তর গুলির চেয়েও অনেক বেশী. আর এখানে পুতিন আবারও প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ক্রেমলিন ও মন্ত্রীসভার হোয়াইট হাউসের নীতির মধ্যে একক যোগসূত্রের. তিনি রুশ দেশের সব কিছু নিয়ে আধুনিকীকরণের নীতিকে নাম দিয়েছেন অন্যতম প্রাথমিক কাজ বলে. প্রসঙ্গতঃ, বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই আধুনিকীকরণের ভিত্তি হওয়া দরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োগেই. রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ বেলকোভস্কি মনে করেছেন যে, এই প্রশ্ন গুলিতে জোর দিয়ে বলা একেবারেই হঠাত্ করে নয়, তাই তিনি বলেছেন:

"এটা নির্বাচনের জন্য কোন বিষয় নয়, এই বিষয়, সেই দিকেই লক্ষ্য দেওয়ার জন্য যে, মেদভেদেভ ও পুতিনের মধ্যে বা তাঁদের যৌথ নেতৃত্বের ভিতরে কোন রকমের আভ্যন্তরীণ বিরোধ অনুপস্থিত ও যা রটনা হচ্ছে তা মিথ্যা. পুতিন বুঝতে দিয়েছেন যে, তিনিও আধুনিকীকরণের পক্ষে ও পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনের স্বপক্ষে. আর এমনকি যদি তিনি ক্রেমলিনে ফিরে ও আসেন – যা অনেকেই দেশে বিদেশের লিবারেল দল গুলিতে ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতিপ্রদ বলে মনে করেছেন, তাহলেও যা আজকের রুশ দেশের এই ধরনের রাজনীতিতে করা হচ্ছে, তার কোন পরিবর্তন হবে না".

অর্থনীতি এই সাক্ষাত্কারের প্রধান জায়গা নিয়েছে. প্রধানমন্ত্রী রাশিয়াকে শুধু আলাদা শিল্প ও ক্ষেত্রেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপযুক্ত দেখতে চান না, তিনি বিশ্বাস করেন, রুশ দেশ হবে প্রাথমিক ভাবে মানবিক ধনে, উত্পাদন শিল্পে, বিজ্ঞানে ও চারু শিল্পে এক অগ্রণী দেশ. প্রয়োজন পড়েছে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সংখ্যায় প্রচুর হওয়ার বদলে গুণে অধিক হওয়ার, আর দেশের অর্ধেক মানুষেরই হওয়া দরকার মধ্য বিত্ত শ্রেনীর. রাজনীতিবিদ দিমিত্রি অরেশকিন প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্ব গুলির সঙ্গে একমত, কিন্তু উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন আরও নির্দিষ্ট ঘোষণা, শুধু সরকারের পরিকল্পনা ও নীতি নয়, তাই তিনি বলেছেন:

"পুতিন সম্পূর্ণ ভাবে ঠিক, যখন তিনি বলেন যে, আধুনিকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে, আরও সাফল্যের হওয়ার উচিত্ অর্থনীতি, শেষ অবধি এই কাঁচামাল রপ্তানীর ভরসার শূল থেকে আমাদের নেমে আসা দরকার – এই কথা তাঁর বক্তব্যের মাঝেই শুনতে পাওয়া যাচ্ছে. কিন্তু অনুরোধ থাকবে যাতে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কি করে আমাদের এটা করা উচিত্, যদি গত দশ বছরে রাশিয়ার বাজেটের মধ্যে খনিজ তেল ও গ্যাস থেকে আয় একের তৃতীয়াংশ থেকে বর্তমানে অর্ধেক হয়ে থাকে তাহলে"?

প্রধানমন্ত্রী বৈদেশিক রাজনীতির প্রশ্নেও উত্তর দিয়েছেন. ভ্লাদিমির পুতিন, যদিও সোজা করে নয়, তবুও সেই সমস্ত সমালোচক দের উত্তর দিয়েছেন কেন রাশিয়া বহু সহস্র কোটি অর্থ ব্যয় করেছে প্রাক্তন সোভিয়েত রাজ্য ও বর্তমানে স্বাধীন দেশ গুলির জন্য. এই খরচ তিনি মনে করেন যথার্থ, মস্কো আগ্রহী, যাতে তার দেশের সীমান্তের চারপাশে প্রতিবেশী দেশ গুলি হয়, সুপ্রতিবেশী, মিত্র, স্থিতিশীল ও দ্রুত উন্নতিশীল দেশ. আলাদা করে শুনতে পাওয়া গিয়েছে তাঁর তত্ত্ব, পশ্চিমের দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে. সঠিক ভাবে বলা উচিত্, সেই বিষয়ে, যে কিছু দেশে এখনও ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের তুলনা করা হয়েছে আধুনিক সময়ের সাথে. প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন বিদেশী বিনিয়োগ কারীরা যেন বুঝতে পারেন যে, রাশিয়া – সোভিয়েত দেশ নয়, "আর এক উন্মুক্ত দেশ যেখানে সকলের জন্যই সম্ভাবনার পথ খোলা".