গরমের প্রথম দিনটি বিশ্বে শিশু রক্ষা দিবস উপলক্ষে পালিত হয়ে থাকে. অনেক দিন আগেই ১৯২৫ সালে প্রথম এই দিনটিকে পালন করা শুরু হয়েছিল, তারপরে বর্তমানে তা প্রায় সব দেশেই পালিত হয়, যাতে বড়দের আর একবার মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে বাচ্চাদের অধিকার রক্ষার কথা.

    বিশ্বের নানা কোনে বাচ্চারা নানা রকম ভাবে রয়েছে আর তাদের কষ্ট হয় নানা কারণে. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তা হয় টেলিভিশনের কুপ্রভাবে বা কম্পিউটারে অতিরিক্ত খেলা করায়, তবে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশেই মূল কষ্টের কারণ অনাহার, এইডস রোগ, অশিক্ষা ও যুদ্ধ. বিশ্বের গড় পড়তা শিশু মৃত্যুর হারের চেয়ে সবচেয়ে কম উন্নত দেশ গুলিতে হার প্রায় দ্বিগুণ বেশী. কিছু সমস্যা আবার সকলেরই, ইউনিসেফ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী অর্ধেকেরও বেশী বাচ্চা এমন সব সংসারে বড় হচ্ছে, যেখানে অত্যাচার সাধারন ব্যাপার.

    রাশিয়াতে বাচ্চাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, গত পনেরো বছরে তিন কোটি আশি লক্ষ থেকে কমে দুই কোটি ষাট লক্ষ হয়েছে. তাদের মধ্যে আবার একেবারে সুস্থ বাচ্চা শতকরা বারো শতাংশ. যাতে এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, সরকারের পক্ষ থেকে শিশু ও পরিবার কল্যাণে একসাথে বহু ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে. তার মধ্যে রয়েছে দেড় বছর পর্যন্ত বয়সের বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য মাসিক অনুদান বৃদ্ধি, আর তার সঙ্গে দ্বিতীয় বাচ্চার জন্মের সাথে সাথেই মায়ের নামে এক কালীণ বড় অঙ্কের অনুদান জমা করা, যা শুধু শিশু ও মায়ের কল্যাণেই খরচ করা যেতে পারে. ২০০৬ সাল থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার সুফল আজ শিশু মৃত্যু হার স্থিতিশীল ভাবে কমার ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র নতুন করে আবার তৈরী হচ্ছে, দেশে বহু আঞ্চলিক প্রসব কালীণ কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে.

    একই সঙ্গে সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় নি, অংশতঃ অনাথ শিশুদের সমস্যা. ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়াতে প্রায় সাত লক্ষ অনাথ এবং জীবিত বাপ মা থাকা স্বত্ত্বেও তাঁদের স্নেহ ও কর্তব্য থেকে বঞ্চিত শিশু ছিল. এই তথ্য উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত পাভেল আস্তাখভ বলেছেন:

    "তাদের সংখ্যা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সোভিয়েত দেশে অনাথ বাচ্চাদের থেকেও অনেক বেশী. এর কারণ হল, বিগত কিছু বছর ধরে, সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ার পরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক যাঁতাকলে দিক হারানোর জন্য তথাকথিত সামাজিক ভাবে অনাথ হয়ে যাওয়া বাচ্চা, যারা বাবা মা জীবিত থাকা স্বত্ত্বেও বড়দের অসামাজিক কুকর্মের ফলে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের অধিকার হারানোর জন্য আজ অনাথ হতে বাধ্য হয়েছে".

    এই ধরনের বাপ মায়েদের সাহায্যের চেষ্টা করা দরকার, পাভেল আস্তাখভ অন্ততঃ তা বিশ্বাস করেন. সামাজিক সমস্ত পরিষেবার এখন কাজ হওয়া দরকার প্রতিটি পরিবারের জন্য আলাদা করে, মানবিক গুণে সমৃদ্ধ হয়ে, স্রেফ সরকারি খাতা লেখার কাজ নয়. কারণ এই মানবাধিকার কর্মীর মতে, অন্য কিছু নয়, সবচেয়ে মুখ্য রাষ্ট্রীয় কাজ হওয়া উচিত্ বংশের পরম্পরা রক্ষা. আর যদি সব কিছু স্বত্ত্বেও বাবা মায়েরা আবার সামাজিক ভাবে দায়িত্বশীল না হয়, তবে সেই সব বাচ্চাকে অনাথ আশ্রমে না দিয়ে উচিত্ হবে, যাঁরা বাচ্চা মানুষ করতে তৈরী, তাঁদের পরিবারে দেওয়া. তিনি যোগ করেছেন:

    "আমাদের সামনে আজ যে, কাজ রয়েছে, যা দুঃখের হলেও শেষ অবধি সমাধান করা সম্ভব হয় নি, যদিও ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা হল বাচ্চাদের পরিবারে পুনঃস্থাপন করা. আমাদের যত কষ্টই হোক না কেন বাপ মায়েদের আলাদা করে এনে, তৈরী করে, শিখিয়ে পড়িয়ে – সত্, স্নেহ শীল ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন করতেই হবে. যদি আমরা যাদের বাবা মা নেই, পরিবার নেই, সেই সব বাচ্চাদেরই ঠিক মতো করে ব্যবস্থা করতে না পারি, নতুন করে সংসারে দিতে না পারি, তাহলে আমরা কোন দিনও আমাদের সামাজিক অনাথ অবস্থা থেকে বের হতে পারবো না. আমাদের এই ভাবেই অনাথের কনভেয়ার বেল্ট চালু থেকে যাবে".

    শিশুদের রক্ষার সমস্যাও বর্তমানে খুব প্রকট. তারা অত্যাচার, যৌন অত্যাচার, আক্রমণ উদ্যত সংবাদ মাধ্যমের চাপে কষ্ট জর্জর হয়েছে. গত বছরের হেমন্ত কালে রুশ দেশে বাচ্চাদের জন্য, কিশোর দের জন্য ও তাদের বাপ মায়েদের জন্য একটি আলাদা দূরভাষের নম্বর চালু করা হয়েছে. এই নম্বরে ফোন করে দিন ও রাতের যে কোন সময়ে প্রত্যেক শিশু রুশ নাগরিক আস্বস্ত থাকতে পারে যে, তার কথা শুধু মন দিয়ে শোনাই হবে না, তাকে অবশ্যই সহায়তা করা হবে.