রাশিয়ার লোকসভার পররাষ্ট্র পরিষদের সভাপতি কনস্তানতিন কোসাচেভ ঘোষণা করেছেন যে, ইউরোপের রকেট বা মিসাইল বিরোধ ব্যবস্থা রাশিয়ার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ না থাকলে ব্যর্থ হতে বাধ্য. তিনি রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গে এক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কার্যকরী কমিটির সঙ্গে সাক্ষাত্কারের ফলাফল এই ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের দ্বারা তৈরী রকেট প্রতিরোধের আড়াল সফল হতে পারে না, কারণ তা ওয়াশিংটন ও জোটের সদস্য দেশ গুলির নিরাপত্তাকে শতকরা একশ ভাগ গ্যারান্টি দিতে পারে না, এই ব্যাখ্যা লোকসভার এই সদস্যের. একই সময়ে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘের বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, নূতন ইউরোপের রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরীর প্রশ্নের সমাধানও প্রয়োজন – এর অন্য কোনও বিকল্প নেই, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের পারস্পরিক সহযোগিতা রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ. এই ধরনের সম্মিলিত কাজ শুধু সামরিক ব্যবস্থা গুলির আরও উন্নতি করার জন্যই নয়, তা পরবর্তী কালে সন্ত্রাসের মোকাবিলা, গণহত্যার অস্ত্র প্রসার নিরোধ এবং অন্যান্য বিশ্ব জোড়া বিপদ ও হুমকির মোকাবিলা করতেও এই পক্ষ গুলিকে আরও বেশী করে সহায়তা করতে পারে".

    রকেট বিরোধী ব্যবস্থা সম্মিলিত ভাবে তৈরী করা সম্বন্ধে আলোচনা যে এখনও শুরু হওয়ার আগেই থেমে যাচ্ছে, সেই ঘটনা খুবই স্বাভাবিক ও এই পরিস্থিতিকে নাটকীয় করার কোনও প্রয়োজন নেই, মনে করেছেন কোসাচেভ. তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, জানাই আছে, সামরিক জোট তৈরী করা ও তার উপরে প্রাক্তন শত্রু পক্ষের সঙ্গে একত্রে তা করা খুব সহজ কাজ নয়.প্রাথমিক পর্যায়ে স্থির করতে হবে কে সত্যিকারের বিপদ ইউরোপের ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৈরী করতে পারে. রাশিয়াতে বিশ্বাস তৈরী হতে হবে যে, ইউরোপীয় রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তব বিপদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করা হবে, কোন কল্পিত বিপদের বিরুদ্ধে নয়, তাই কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন:

    "আমি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কার্যকরী পরিষদে আমাদের সঙ্গে আলোচনা কারীদের কে তিনটি প্রশ্ন করেছি. শুধু একটি প্রশ্নে – তা হল রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সহযোগিতা সম্বন্ধে পারস্পরিক ভাবে একটা বোধগম্য অবস্থানে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে. পরবর্তী প্রশ্ন ছিল পূর্ব ইউরোপে সত্যই কি কোনও বিপদ রয়েছে, যার জন্য একেবারে তড়িঘড়ি করে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করতে হবে. আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, তা রয়েছে. এটা কোনও ভাবেই রাশিয়ার পরিস্থিতির মূল্যায়ণের সঙ্গে মেলে না. অন্য প্রশ্ন ছিল যে, বিশ্ব জোড়া রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা কি ন্যাটো জোটের দেশ গুলির বাস্তব নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারবে. শুধু রুশ বিশেষজ্ঞদেরই নয়, বরং বহু আমেরিকার বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ণ অনুযায়ী – না. বিশাল অর্থ, যা আমেরিকার লোকেরা আজ এই ব্যবস্থার পিছনে খরচ করতে চলেছে, তা শুধু শতকরা একশ ভাগ তো নয়ই, এমনকি শতকরা পঞ্চাশ ভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি ও দিতে পারছে না".

    রাজনীতিবিদ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিষয়ে সহযোগিতা করার কথা ন্যাটো জোট ও রাশিয়া গত বছরের লিসাবন শহরের শীর্ষ বৈঠকেই স্থির করেছে. তার পর থেকে ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনে তর্ক চলছে এই প্রকল্পে মস্কোর অংশগ্রহণের স্তর নিয়ে. এই ধরনের জোট বেঁধে কাজ করার ক্ষেত্রে কি ভাবে তা হবে – আপাততঃ বোঝা যাচ্ছে না. কনস্তানতিন কোসাচেভ মনে করেন যে, এখন রকেট প্রতিরোধের আড়াল নিয়ে সীমান্ত নির্ণয় করা খুবই সম্ভব. তাই তিনি বলেছেন:

    "প্রয়োজন পড়েছে রকেট ছোঁড়া ও অন্যান্য সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে তথ্য বিনিময় করার কেন্দ্র তৈরীর বিষয়ে বাস্তব সহযোগিতা করার, আর তারই সঙ্গে বিভিন্ন একক তৈরী করা, যা দিয়ে পরবর্তী কালে ভবিষ্যতের সম্মিলিত রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সকলে মিলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে. এটা অন্ততঃ সেই সামান্য অংশ, যা নিয়ে এখনই চুক্তি করা সম্ভব ও যা পরে আরও উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা করার জন্য শুরুর ধাপ হতেই পারে".

    এই সময়েই রাশিয়া ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস শহরের নেতৃত্বের সঙ্গে একসাথে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করতে রাজী আছে, যদি আমেরিকা যে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউরোপে তৈরী করতে যাচ্ছে, তা আইন সঙ্গত ভাবে গ্যারান্টি যোগ্য হয় যে কখনোই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যাবে না. যদি রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনা দেখা যায় যে, রাশিয়ার স্বার্থের কথা বিচার না করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট তাদের পরিকল্পনা তৈরী করছে, তবে মস্কোর পক্ষে প্রত্যুত্তর যোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না. আর এটা মোটেও পেশী প্রদর্শন করার খেলা নয়, বরং খুবই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ যে, এই জাতের কাজ বিশ্বের পারমানবিক শক্তি কাঠামোর ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে. বর্তমানে সব পক্ষেরা মিলে বিশ্বকে আরও নিরাপদ করার সুযোগ নিতে পারে কি না – সেটা দেখতে পাওয়া যাবে ন্যাটো জোট ও রাশিয়া পরিষদের শীর্ষ বৈঠকে, যা জুন মাসের শুরুতেই ব্রাসেলস শহরে হতে চলেছে.