রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক শক্তিকে সোমালির সমুদ্র তট ভূমিতে পাহারা দেওয়ার কাজে এক করা দরকার, যাতে জলদস্যূদের খোলা সমুদ্রের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়. এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের জেনেরাল ডিরেক্টর সতীশ অগ্নিহোত্রী বক্তৃতা দিয়েছেন. ভারতের সামুদ্রিক জলদস্যূদের সক্রিয় মোকাবিলা করার কাজে আগ্রহ দেখাই যাচ্ছে. বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বিগত বছর গুলিতে ভারত মহাসাগরের জল, যা ভারতের ও এই অঞ্চলের আরও নানা দেশের সমুদ্র উপকূল অঞ্চলকে ধুয়ে দিচ্ছে, তা খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে জাহাজ চলাচলের জন্য. আর সেখান দিয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যা এশিয়ার দেশ গুলিকে নিকট ও মধ্য প্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে যোগ করেছে. জলদস্যূদের বাণিজ্য তরণীর উপরে হামলা, মানুষের জীবনের জন্য বিপদের হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্তরায় হয়েছে ও নেতিবাচক ভাবে এই দেশ গুলির অর্থনৈতিক উন্নতিকে প্রভাবিত করছে. কিন্তু জলদস্যূদের সঙ্গে কি ভাবে লড়াই করা যায়, কোথায় এবং কিভাবে তাদের বিচার করা যায় ও শাস্তি দেওয়া যায় – এই প্রশ্নগুলি আপাততঃ রয়েছে অসমাপ্ত অবস্থায়. এই সমস্যার সমাধান করতে রাশিয়ার উদ্যোগ, যা আজ থেকে এক বছর আগে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচিত হয়েছিল, তা সহায়তা করতে পারে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক আইন সংগঠনের সভাপতি ওলেগ খ্লেস্তভ বলেছেন:

    "সবাই মিলে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে এবং তা চাই. শুধু সমস্ত দেশের মধ্যে একত্রিত কোন সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না. জলদস্যূদের সঙ্গে লড়াই করার কথা সকলেই বলছেন. কিন্তু একসাথে কোন কাজই করা হচ্ছে না, এটাই বর্তমানের আন্তর্জাতিক সমাজের নিরুপায় অবস্থা. জলদস্যূদের বা সন্ত্রাসের সাথে লড়াই করার জন্য প্রয়োজন হল সম্মিলিত রাজনৈতিক ইচ্ছা. তা না হলে জলদস্যূতা বাড়তেই থাকবে. এখন তা শুধু সোমালির উপকূল অঞ্চলেই হচ্ছে না, বরং তার থেকে সহস্র কিলোমিটার দূরে হচ্ছে. এখানে রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে, শক্তিশালী সামুদ্রিক রাষ্ট্র, যারা জলদস্যূদের বিরুদ্ধে নিজেদের একত্রিত শক্তি নিযুক্ত করতে পারবে, তাদের আয়োজকের শক্তি প্রয়োগ করার প্রয়োজন আছে".

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশেরা সকলেই জলদস্যূ মোকাবিলাতে রাশিয়ার প্রস্তাবের সমর্থন করেছে. এই দলিলে দেশ গুলিকে আহ্বান জানানো হয়েছে নিজেদের আইনে জলদস্যূতার বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনের ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে. একই সময়ে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিকে এই সমস্যার সমাধানে আরও সংশোধন করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. এই বিষয়ের অনুপস্থিতি খুবই সীমিত করেছে ইউরোপীয় সংঘ, ন্যাটো জোট, রাশিয়া, ভারত ও চিনের একত্রিত কাজকর্ম. আর তা না হলে সমুদ্রের গুণ্ডাদের তাদের লঘু সাফল্যের পথ বন্ধ করা যাবে না.

    জলদস্যূতার বিরুদ্ধে সক্রিয় লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল বিষয় হল সোমালির বাইরে থাকা জলদস্যূদের সহায়তা কারীদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারী করা, এই কথা সতীশ অগ্নিহোত্রী ও বলেছেন. তিনি মনে করেন ভারত মহাসাগরের বুকে দুই হাজার জলদস্যূর পিছনে দৌড়ে বেড়ানো বাজে কাজ. এটা প্রথমতঃ এই কারণে যে, তারা স্রেফ সাধারন জঙ্গী. তাদের জন্য তট ভূমিতে পাহারাদারী করাই যথেষ্ট, যাতে তারা সমুদ্রে বারই না হতে পারে. আসল প্রয়োজন হল এই জলদস্যূ ব্যবসার সত্যিকারের মালিকদের খুঁজে বের করা, ভারতের জাহাজ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান এই বিষয়ে একেবারে নিশ্চিত. জলদস্যূরা যে সমস্ত বিশাল অর্থ আজকাল তাদের ধরা জাহাজ গুলির মুক্তিপণ হিসাবে পাচ্ছে, তার পরিমান বছরে নানা হিসাবে প্রায় সাতশো থেকে এক হাজার পাঁচশ কোটি ডলার.

0    সোমালির সমুদ্র তটে আন্তর্জাতিক পাহারাদার প্রেরণের উদ্যোগ জলদস্যূদের সমুদ্রে বের হওয়ার পথ বন্ধ করবে কি না – এই প্রশ্ন এখনও উত্তর বিহীণ রয়েছে. কিন্তু একেবারেই সহজ বোধ্য যে, জলদস্যূ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ভাবে যোগাযোগ করে একত্রে কাজ করার, আর সমুদ্রে ডাকাতি করার শাস্তিও হওয়া দরকার এড়ানোর পক্ষে অসম্ভব.