ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতির বিমান বাহিনী জিঞ্জিবার শহরে বোমা ফেলছে. দেশের মধ্যে তৃতীয় বড় শহর ঐস্লামিক জঙ্গীরা নিয়ন্ত্রণ করছে, যারা "আল- কায়দার" সাথে জড়িত.

    জিঞ্জিবার – ইয়েমেনের দক্ষিণে সমুদ্র তীরবর্তী শহর – শুক্রবারে ঐস্লামিক জঙ্গীদের দখলে এসেছে. এক উত্স থেকে বলা হচ্ছে যে, তারা শহরে ঢুকেছে, কোন রকমের সক্রিয় প্রতিরোধ ছাড়াই. অন্য একটি উত্স থেকে পাওয়া খবর – স্থানীয় প্রজাতির লোকেরা যারা "আল-কায়দার" জঙ্গীদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে, আর সামরিক বাহিনীর মধ্যে জোর লড়াই হয়েছে. এর মধ্যে বিরোধী পক্ষের প্রধান আঘাত হানার শক্তি, যারা এই শহরের উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় করেছে, তারা দেশের রাষ্ট্রপতি আলি আবদাল্লা সালেখের জন্মস্থানের প্রজাতি. হাসিদ প্রজাতি – দেশে সবচেয়ে বড় ও প্রভাব শালী.

    ইয়েমেন গৃহযুদ্ধের সামনে দাঁড়িয়েছে, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ গিওর্গি মিরস্কি বলেছেন:

    "চোখের সামনেই গৃহযুদ্ধের সমস্ত উপকরণ নজরে আসছে. প্রসঙ্গতঃ এটা বহু পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ. তার উপরে মনে রাখতে হবে যে, ইয়েমেন – এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ, যেখানে সকলেই সশস্ত্র, প্রতি ইয়েমেনের মানুষের হাতেই রয়েছে - মেশিনগান. এখানে ব্যাপারটা সকলের সঙ্গে সকলের যুদ্ধ অবধিও গড়াতে পারে, যখন বোঝা কঠিন হবে যে, কে কার বিপক্ষে. কারণ উত্তরের প্রজাতির – এক ধরনের দাবী, দক্ষিণের – অন্য ধরনের. আর "আল- কায়দা" দলের জন্য – যত খারাপ, ততই ভাল. তাদের স্বার্থ হল – এমন গোলমাল তৈরী করা, যাতে শেষে সকলেই যুদ্ধে মাতে, আর তাদের দল ক্ষমতায় আসে".

    এখানে বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেছেন যে, ইয়েমেন সামুদ্রিক পথে সৌদি আরবের তেল পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রধান পথ. তাই ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, তা বিশ্বের তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলবে. আজ ইয়েমেনের বিরোধী পক্ষ রাষ্ট্রপতি সালেখ কে দোষ দিয়েছে যে, তিনি জেনে শুনে জিঞ্জিবার শহর জঙ্গীদের হাতে তুলে দিয়েছেন. আর এটা এই জন্যই করেছেন, যাতে আন্তর্জাতিক সমাজ একেবারে চোখের সামনে দেখতে পায় এই অঞ্চলে গৃহযুদ্ধের পরিনাম ও রাষ্ট্রপতির শাসনের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করে. সালেখ এই দোষ অস্বীকার করছেন. এই পক্ষ ও অন্য পক্ষ দুই দলেরই নিজেদের ঠিক মনে করার কারণ রয়েছে. কিন্তু তারা সকলেই শেষ অবধি পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হতে পারে, যদি ইয়েমেনে ওসামা বেন লাদেনের সাঙ্গোপাঙ্গরা একবার ক্ষমতায় আসতে পারে.