বিদ্রোহী যোদ্ধা ও গাদ্দাফি প্রশাসনের মধ্যে মিটমাট করানোর পথ খোঁজা চলছে. এই ঘটনার প্রামাণ্য স্বরূপ খুবই আচমকা ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমা পৌছে গিয়েছেন ত্রিপোলিতে. তিনি আফ্রিকা সংঘের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন, আর এই বছরের এপ্রিল মাসে প্রচেষ্টা করেছিলেন লিবিয়ার ভিতরে এক আলোচনার ব্যবস্থা করতে.

    বাস্তবে জ্যাকব জুমা ত্রিপোলিতে সেই সমস্ত প্রস্তাব আবার নিয়ে এসেছেন, যা এক মাস আগেও করেছিলেন. এখানে কথা হচ্ছে লিবিয়ার শান্তির পথে নিয়ন্ত্রণের এক "পথ নির্দেশের", যা অগ্নি বর্ষণ বন্ধ করা ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আগে অস্থায়ী সময় জারী করা. এখানে মনে করা হয়েছে যে, ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকেও এই দেশের উপরে বোমা বর্ষণ বন্ধ হবে. বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিরা – অস্থায়ী জাতীয় সভা – এই "পথ নির্দেশ "প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তাতে মুহম্মর গাদ্দাফির পদত্যাগ নিয়ে কিছু বলা ছিল না. আফ্রিকা সংঘের উদ্যোগ পশ্চিমের জোটেরও পছন্দ হয় নি.

    তা স্বত্ত্বেও আফ্রিকার সংঘ নিজেদের প্রস্তাবে জোর দিয়েই যাচ্ছে, ন্যায্য ভাবেই চিন্তা করে যে, গাদ্দাফির ভবিষ্যত নির্ণয়ের আগে দরকার হল রক্ত ক্ষয় বন্ধ করা. জ্যাকব জুমা নিজে ত্রিপোলিতে কর্নেলের সঙ্গে আলোচনার শেষে ঘোষণা করেছেন যে, এই বিরোধকে চলতে দেওয়া যেতে পারে না. তা ক্রমশই জটিল হচ্ছে ও লিবিয়ার জন্য যেমন, তেমনই গাদ্দাফির জন্যও তা খুবই দুঃখজনক ভাবে শেষ হতে পারে. জুমা এখানে স্পষ্টই কর্নেলের প্রাণের কথা উল্লেখ করেছেন. কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানের সফর হয়েছে ন্যাটো জোটের তরফ থেকে ক্রমাগত বোমা বর্ষণের মধ্যেই. এখানে সবচেয়ে প্যারাডক্স বা উল্টো মত হয়েছে বরং আন্তর্জাতিক সমাজের পথের কাঁটা হওয়া সেই মত, যার সঙ্গে এখন সবাই একমত: কর্নেল একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য, তিনি বিশ্বাস বা আস্থা হারিয়েছেন. এক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল শক্তি প্রয়োগ করে চাপ দেওয়া, অন্যদের কাছে – আলোচনার প্রক্রিয়া. আর সেই সময়ে রক্তপাত চলছেই, নির্দোষ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কর্মী বরিস দোলগভ বলেছেন:

    "বোঝাই যাচ্ছে যে, শুধু আকাশ পথে বোমা বর্ষণ করে গাদ্দাফির প্রশাসনকে ছুঁড়ে ফেলা যাবে না. আজ দুই মাস হতে চলেছে বিমান হানা শুরুর পর থেকে. আর, সব মিলিয়ে, সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন বোঝার মত সাফল্য দেখা যাচ্ছে না. আমার মনে হয়েছে, সবই সেই সমস্ত দেশের নেতৃত্বের অবস্থানের উপরে নির্ভর করছে, যারা বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছেন. অন্য কথা হল – গাদ্দাফি কি করে সরে যাবেন, কারণ এই সরে যেতে হবে বলে প্রশ্ন এখন জবাবের অপেক্ষা রাখে না. গাদ্দাফির ব্যক্তিত্ব এত বেশী করে নামানো হয়েছে যে, বর্তমানের বাস্তবের সঙ্গে তাঁর ক্ষমতায় আসীন থাকা আর মিলছে না".

গত কয়েকদিন আগে বড় আট দেশের শীর্ষ বৈঠকে প্রস্তাব করা হয়েছে রাশিয়াকে লিবিয়া সমস্যায় মধ্যস্থতা করার. এটা অবশ্যই আফ্রিকার জোটের সক্রিয়তায় বাধা দেয় না. কিন্তু বিগত কালের ঘটনা দেখিয়েছে যে, মস্কোই শান্ত ভাবে যেমন বিদ্রোহী পক্ষের সাথে, তেমনই গাদ্দাফির প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে পারে. মধ্যস্থতা অর্থে বলা হয়ে থাকে নির্দিষ্ট দরাদরি. আর এখানে খুবই জায়গা মতো হতে পারে আফ্রিকার সংঘের প্রস্তাবিত "পথ নির্দেশ", যাতে জামাহিরির নেতাকে সরে যেতে দেওয়া যেতে পারে সসম্মানে. তার উপরে এটা তাঁর আশে পাশের লোকেরাও বুঝতে পারছেন. আর এমনকি পশ্চিমেও সামাজিক মত রয়েছে শান্তির পথে সমাধানের. বিখ্যাত ফরাসী অ্যাডভোকেট জাক ভেরঝেস ও রোলাঁ দ্যুমা, যাঁরা আগে ফরাসী দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে প্রধান ছিলেন, তাঁরা ন্যাটো জোটের বোমা হামলায় নিহত লিবিয়ার লোকেদের পরিবার বর্গের তরফ থেকে হেগ শহরের আন্তর্জাতিক ফরিয়াদী আদালতে মামলা পেশ করার ব্যবস্থা করছেন. রোলাঁ দ্যুমা খুবই ন্যায্য ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জোটের মিশন, লিবিয়ার শান্তিপ্রিয় মানুষের রক্ষার্থে করতে গিয়ে, শেষ অবধি তাঁদের ধ্বংসের কারণই হয়েছে.