পাকিস্তান উত্তর ওয়াজিরস্থানে হাক্কানি দলের তালিব যোদ্ধা দের বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. এই বিষয়ে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়েছে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্তানের সেনা বাহিনী স্থির করেছে বোমারু বিমান হামলা দিয়ে শুরু করবে, আর তার পরে পাঠাবে পদাতিক বাহিনী. সঠিক দিনক্ষণ জানানো হয় নি. জানা নেই যে, পাকিস্তানের বাহিনী একাই আক্রমণ শুরু করবে, নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সাথে একসঙ্গে হামলা চালাবে, অথবা ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী, বর্তমানে যা আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে. এই প্রশ্ন, পাকিস্তানের সংবাদ পত্রে যা লেখা হয়েছে, তা থেকে মনে হয়েছে যে, পাকিস্তান মার্কিন সংযুক্ত নেতৃত্ব পরিষদের প্রদান মাইকল মাল্লেন ও মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব শ্রীমতী হিলারি ক্লিন্টনের সফরের সময়ে আলোচনা হয়েছে. কিন্তু শেষ অবধি সিদ্ধান্ত এখনও হয় নি. যদি পাকিস্তান আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা আন্তর্জাতিক জোটের সেনাদের সঙ্গে একসাথে যুদ্ধ করতে তৈরী হয়, তবে এটা হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আন্তর্জাতিক জোটের সাথে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রথম সম্মিলিত প্রয়াস.

    হাক্কানি দলের যোদ্ধারা একটি সবচেয়ে বড় ও যুদ্ধে সক্ষম তালিব জঙ্গীর দল. তারা পাকিস্তানের মাটিতে কোন যুদ্ধ করে নি, কিন্তু মার্কিন ও ন্যাটো জোটের বাহিনীকে আফগানিস্তানে কম কষ্ট দেয় নি. পর্যবেক্ষকরা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, হাক্কানি জঙ্গী দলের সাথে "আল – কায়দা" দলের খুবই গভীর সংযোগ রয়েছে ও তারা এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন থেকে নানা ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ, তাদের বহু দিনের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনী আই এস আই এর সাথে. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা একাধিক বার মত প্রকাশ করেছেন যে, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করার পরেই পাকিস্তান এই হাক্কানি দলের সঙ্গে নিজেদের পুরনো সম্পর্ক ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের কথা ভেবেছে.

    কিন্তু এই সামরিক অপারেশন কি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আর হাক্কানির জঙ্গীদের মধ্যে এক অদ্ভূত ভারসাম্য নষ্ট করবে না? তা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে যুদ্ধকে আরও ছড়িয়ে দেবে না? সম্ভবতঃ এটাই ইসলামাবাদে সবচেয়ে বেশী ভয় পাওয়া হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    "এই অপারেশন আরও কি প্রমাণ করে দেবে যে, পশ্চিমের তরফ থেকে চাপ সৃষ্টির এটা একটা অন্যতম সাফল্যই শুধু নয়? পাকিস্তান যে তালিবদের সম্বন্ধে নিজেদের সম্পর্ক এক সন্ত্রাসবাদী দলের সঙ্গে সম্পর্ক বলে স্বীকার করবে ও আফগানিস্তানে ন্যাটো জোট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুযুধান এই শক্তির সঙ্গে নিজেদের যোগাযোগ স্পষ্ট করবে, সেটা কি ঠিক. তাদের জন্য এটা সহজ হবে না. এই অপারেশন চলবে আভ্যন্তরীণ বিবাদের মধ্যেই, দেশের ভিতরেই হিংসার বৃদ্ধির মধ্যে. বিগত কিছু দিন আগেই পাকিস্তানের উত্তরে ও কেন্দ্রে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে বহুল পরিমানে. তা স্বত্ত্বেও, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরী হয়েছে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীকে চরমপন্থী আদর্শের সমর্থক মুক্ত করতে. এটা খুব সহজ হবে না, কারণ রাজনৈতিক দল ও সামরিক বাহিনীর মধ্যেই খুবই শক্তিশালী দল রয়েছে, যারা সন্ত্রাসবাদের আদর্শে বিশ্বাসী, যারা এমনকি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলির সঙ্গে মৈত্রী সম্বন্ধ স্থাপন করেছে".

    ওয়াশিংটনের তরফ থেকে প্রবল চাপ স্বত্ত্বেও পাকিস্তান বহু দিন ধরেই উত্তর ওয়াজির স্থানে হাক্কানি জঙ্গীদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করে আসছে. কিন্তু সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, অবশেষে তাদের আপোষ করতে হল, যাতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অবস্থান না হারায়. পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই আক্রমণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের পাকিস্তান সফরের অব্যবহিত পরেই.

0     অ্যাবত্তাবাদে "আল – কায়দা" দলের নেতা ওসামা বেন লাদেনকে ধ্বংস করার পরেই পাকিস্তান খুবই অসুবিধা জনক অবস্থায় পড়েছে. ওয়াশিংটন তাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে, কি করে সন্ত্রাসবাদীদের নেতা এত বছর ধরে পাকিস্তানের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পেরেছে, বাস্তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যেই. ইসলামাবাদের কাছে এর কোন সত্য উত্তর ছিল না. এই চাপের মধ্যে পড়ে তারা মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘণ ও আমেরিকার রাষ্ট্রপতির ঘোষণা যে, এই ধরনের পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব আবারও ক্ষুণ্ণ হতেই পারে, তা হজম করতে হয়েছে. এবারে তাদের উত্তর ওয়াজিরস্থানে সামরিক আক্রমণ করতেও রাজী হতে হয়েছে, যার অর্থ হতে পারে পাকিস্তানের জমিতেই আফগানিস্তানের যুদ্ধকে টেনে আনা. কথায় আছে মূর্খে ঠেকে শেখে.