সোমবার দিল্লী শহরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, সিয়াচেন হিমবাহ অঞ্চলের এলাকার সীমান্ত নির্ণয়ের উপলক্ষে.

    সিয়াচেন হিমবাহ ভারত, পাকিস্তান ও চিন দেশের এলাকার এমন এক জায়গায় রয়েছে, যার অঞ্চল তিনটি দেশই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, আর এই অঞ্চল এমন এক জায়গার মধ্যে পড়ে, যার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দুই দেশের স্বাধীনতার পর থেকেই লড়াই চলছে, তার উপরে সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে বিরোধ  - এর থেকেও বড় কাশ্মীর রাজ্যের সমস্যারই অংশ.

    আর যদিও বা বাকী কাশ্মীরের এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাই হোক কিছু একটা আপাত লক্ষ্যনীয় সহমত থেকেও থাকে, যা তথাকথিত বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখা বলে জানা আছে, তবুও সিয়াচেন হিমবাহ এলাকা নিয়ে ভারত বা পাকিস্তানের তরফ থেকে উভয় পক্ষের স্বীকৃত কোন প্রভাবের এলাকা আজও নেই. কারণ বোধগম্য যে, এই উঁচু পাহাড়ী জায়গা কোন রকমের সামাজিক অর্থনৈতিক ভাবে খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ. আর যদিও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে তিনবার যুদ্ধ হয়েছে (তার মধ্যে দুই বার কাশ্মীরের অধিকার নিয়ে), তবুও সিয়াচেন অঞ্চলে কোন যুদ্ধ হয় নি. কিন্তু স্ট্র্যাটেজি জনিত ও রাজনৈতিক কারণে এই অঞ্চলের খুবই গুরুত্ব বৃদ্ধি হয়েছে – আর তা একেবারেই প্রতীকী বিষয় নয়, এই কথা বলেছেন, রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক বরিস ভলখোনস্কি:

    "সিয়াচেন হিমবাহের নিয়ন্ত্রণ সুবিধা করে দেয় স্ট্র্যাটেজিক কারাকোরুম সড়কের উপর নিয়ন্ত্রণ করার, যা পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে যোগের রাস্তা. এছাড়া এখানে হিমালয় পর্বতের উঁচু পাহাড়ী এলাকায় বহু নদীর উত্স, যা পাকিস্তানের কৃষিকাজের উপযুক্ত জমিতে জল নিয়ে যায়. আর তাই, ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি থেকেই, দুই দেশই এখানে বেশ বড় মাপের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, যাদের মধ্যে প্রায়ই সশস্ত্র যুদ্ধ হয়ে থাকে. সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৯৯ সালে যখন পাকিস্তানের সেনারা (সম্ভবতঃ এই কাজের জন্য তারা আগে থেকেই কয়েক মাস ধরে তৈরী হয়েছিল), আক্রমণ করতে এসেছিল, চেষ্টা করতে চেয়েছিল এই এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে, যা নিয়ন্ত্রণ রেখার থেকে দক্ষিণে রয়েছে. কিছু বিশেষজ্ঞ এমনকি এই যুদ্ধকে নাম দিয়েছিলেন চতুর্থ ভারত – পাকিস্তান যুদ্ধ বলে".

    ২০০০ সালের শুরুতে দুই দেশই চেষ্টা করেছিল নিজেদের মধ্যে বিরোধ কম করতে, কিন্তু পরে ২০০৮ সালে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীরা মুম্বাই শহর আক্রমণ করে বহু নিরীহ দেশী বিদেশী লোকের মৃত্যুর কারণ হওয়ার পরে ভারত এই আলোচনা বন্ধ করে দেয়. আজও সিয়াচেন নিয়ে আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরই মদত পুষ্ট বহু ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদী দলের ঘাঁটি, যারা প্রায়ই এই সব গর্ত থেকে বেরিয়ে ভারতে আসে হামলা করতে.

    কাশ্মীরের সমস্যা – একটি সবচেয়ে পুরনো ও সমাধান না করা বর্তমানের বিতর্কিত অঞ্চল সংক্রান্ত সমস্যা. বাস্তবে এই নিয়ন্ত্রণ রেখাই রাষ্ট্রীয় সীমান্তে পরিনত হয়েছে, কিন্তু কোন পক্ষই এই রেখাকে আইন সঙ্গত কোন স্বীকৃতী দিতে রাজী নয়, প্রত্যেকেই মনে করেছে এই বিতর্কিত রাজ্যে সবটাই তাদের, তার উপরে অবিভক্ত ভারতে কাশ্মীর একটি অঙ্গ রাজ্যই ছিল. আর তাই, বোধহয়, আসন্ন কোন সময়ে এই সমস্যার কোন সমাধানও হবে না.

    কিন্তু এই সমস্যা নিয়ে আলোচনার সক্রিয়তা ও তার জন্য সুযোগ তৈরী হয়েছে. ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য হতে চেয়েছে. যদি এটা হয়, তবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এশিয়াতে একটি শক্তিমান কেন্দ্রে পরিনত হবে – সেটা যেমন অর্থনৈতিক ভাবে, তেমনই রাজনৈতিক ভাবে. আর আলোচনা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোতে হতে পারলে এমনকি এই ধরনের কঠিন কাশ্মীর সমস্যারও কোন সমাধান সূত্র তৈরী করা সম্ভব হতে পারে.