ইতিহাস বহু দিন আগেই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, যদি শত্রু হয় অনেক, ক্ষমা হীণ আর সম্পূর্ণ রকমের সশস্ত্র, তবে তার সঙ্গে যুদ্ধের সবচেয়ে ভাল উপায় হল গেরিলা যুদ্ধ. আফগানিস্থানের মাদক পাচার বিপদের প্রধান লক্ষ্যের দিক হল রাশিয়ার উত্তর ককেশাস ও স্তাভরোপোল রাজ্য. ভয়ঙ্কর এই বিপদের প্রতিরোধে স্তাভরোপোল রাজ্যের বাসিন্দারা তৈরী করেছেন মাদকাসক্তদের পুনরায় সমাজে সুস্থ ভাবে যোগদানের জন্য সামাজিক চিকিত্সা কেন্দ্র, যা এই রাজ্যের বহু দুর্গম এলাকাতে তৈরী হয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্তর ইভানভ গত সপ্তাহে এক দপ্তরের বাইরে সম্মেলন করতে গিয়েছিলেন স্তাভরোপোল রাজ্যে আর মাদক বিপদের প্রতিরোধে তৈরী এমনই একটি "গেরিলা প্রতিরোধ কেন্দ্রও" ঘুরে দেখেছেন. এখন থেকে এই ধরনের সামাজিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার কেন্দ্র গুলিও সরকারি সাহায্য পাবে.

    ভিক্তর ইভানভ ছাড়া এই দপ্তরের বাইরে সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন স্তাভরোপোল রাজ্যের রাজ্যপাল ভালেরি গায়েভস্কি ও তাঁর সহকারী উপ রাজ্যপালেরা, তার সঙ্গে ছিলেন রুশ অর্থোডক্স গির্জার স্থানীয় প্রধান কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা, যাঁরা এই স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্রের কাজ দেখাশোনা করেন.

    নিজের বক্তৃতায় ভিক্তর ইভানভ রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের উপরে নেমে আসা ভয়ঙ্কর নির্দয় মাদক যুদ্ধের সম্মুখ ভাগের প্রসারের পরিমাপ দেখিয়েছেন. প্রতি বছরে আফগানিস্থানে তৈরী হচ্ছে এত পরিমানে হেরোইন, যে তা দিয়ে ১৫ হাজার কোটি একবারে নেওয়ার মত ডোজ তৈরী করা যেতে পারে, তার অর্থ হল বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য ২৫ টি করে ডোজ. আর যদি এর সঙ্গে ধরা হয় যে, দুই আমেরিকা মূলতঃ কলম্বিয়া দেশে উত্পাদিত কোকেইন ব্যবহার করে থাকে, তবে আফগানিস্থানের হেরোইনের আঘাতের শক্তি রাশিয়া ও ইউরোপের উপরে বাস্তবে দ্বিগুণ হয়েছে.

    এই বিষয়ে কারও সহায়তার আশা করে লাভ হয় নি. ন্যাটো জোটের শক্তি যারা এখন আফগানিস্থানে রয়েছে, তারা বর্তমানে আফিমের চাষ ধ্বংস করতে অস্বীকার করেছে, ভয় পেয়েছে পাছে তার জন্য প্রতিশোধ নেয় বা আরও সেনার প্রাণ বলি দিতে হয়. আফগানিস্থানের সরকারও দুর্বল, মাদক মাফিয়ার সঙ্গে লড়াইতে তারা পেরে উঠছে না: এই দলের প্রতি বছরের আয় এক হাজার কোটি ডলার, আর আফগানিস্থানের বার্ষিক বাজেট  - একশ বিশ কোটি ডলার, যার মধ্যে একশ কোটি হল বাইরের দেশ থেকে পাওয়া অনুদান.

    রাশিয়া সম্পূর্ণ ভাবেই আফগানিস্থানের সরকারকে শুধু অর্থ দিয়ে নয়, এমনকি সেখানকার পুলিশ বাহিনীকে মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো আরও অনেক কাজ করতে সাহায্য করছে. নিজেদের দেশের সীমান্তের মধ্যেও রাশিয়ার সরকার একেবারে আপোষ বিহীণ লড়াই করে চলেছে আফগানিস্থানের মাদক পাচারের সঙ্গে, বহুদিন ধরেই রাশিয়া এটাকে মনে করে সারা বিশ্বের জন্যই বিপদ আর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও এই সম্বন্ধে চেতনা জাগাতে.

    ততটাই মূল্যবান হয়েছে সেই সামাজিক সহায়তা, যা রাষ্ট্রীয় মাদক বিরোধী রাজনীতি বিগত কয়েক বছর ধরে পেয়েছে, অংশতঃ স্তাভরোপোল রাজ্যে. চেরনোলেসস্কায়া গ্রামের স্পাসো – প্রিঅবরাঝেনস্কি কেন্দ্র আজ ছয় বছর হল কাজ করছে, আর এই সময় জুড়ে এখানে চিকিত্সা পেয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে সক্ষম হয়েছে এক হাজারেরও বেশী প্রাক্তন মাদকাসক্ত লোক. শুধু গত বছরেই এখানে টেলিফোন করে কথা বলেছেন ১৫৬৪ জন, তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশী লোক পরে এখানে এসেছিলেন পরামর্শ শুনতে, আর ৪৬১ জন এখানে সুস্থ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন.

    আপাততঃ এই কেন্দ্র চালু ছিল বহু লোকের দানে ও রুশ অর্থোডক্স গির্জার থেকে পাওয়া অনুদানে. রুশ রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানের দপ্তরের বাইরের সম্মেলনের পরে ঠিক হয়েছে যে, এই ধরনের কেন্দ্র গুলির জন্য আঞ্চলিক বাজেট থেকে অর্থ দেওয়া হবে.

    স্তাভরোপোল রাজ্যের কালো মাটির এলাকার দুর্গম জায়গার এই কেন্দ্র পরিদর্শনের অব্যবহিত পরেই ভিক্তর ইভানভ তাঁর অনুভূতি সম্বন্ধে আমাদের সাংবাদিককে বলেছেন:

    "আমরা এই কেন্দ্র সম্বন্ধে আগেও অনেক ভাল কথা শুনেছি, জানতে পেরেছি যে, এখানে সেই সমস্ত লোকেদের সত্যিকারের সাহায্যই করা হয়ে থাকে, যারা এই কষ্টের মধ্যে পড়েছে. আর আমি রাষ্ট্রীয় মাদক প্রতিরোধ সংস্থার সভাপতি হিসাবে মনে করেছি যে, আমার এঁদের সঙ্গে একেবারে কেন্দ্রেই পরিচয় করা দরকার, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা দরকার, যাঁরা এখানে চিকিত্সা পাচ্ছেন, তাঁদের আত্মীয় পরিজন, মাদের সঙ্গেও কথা বলা দরকার, যাঁরা এখানে আসেন. রুশ রাষ্ট্রপতি আমাদের সামনে এক কাজ দিয়েছেন – জাতীয় চিকিত্সা ব্যবস্থা তৈরী করা, যেখানে লোকে সুস্থ হয়ে আবার সামাজিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন ও মাদক নির্ভরতার হাত থেকে উদ্ধার পাবেন. আমাদের কাছে বর্তমানে এই ভয়ঙ্কর বিপদের সঙ্গে লড়াই করার উপযুক্ত বিশ্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে. আর আমি বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাই যে: যা আজ আমি দেখলাম, যার সঙ্গে পরিচয় হলো – তা সম্পূর্ণ ভাবে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও মেলে. আজ আমরা এখানে এই জন্যেই এসেছি, যাতে এই ধরনের কেন্দ্র গুলির জন্য একটা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়মাবলী তৈরী করা যায়. আজ এই সমস্ত কেন্দ্রের উন্নতি সম্বন্ধে বলার মতো সময় অবশ্যই আসে নি. আমরা এমনকি এখানে খুবই কষ্টকর ভাবে পৌঁছতে পেরেছি, বলা যেতে পারে শুধু ট্রাক্টর চড়েই এখানে আসা চলে. এখানে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করেন. আমার ইচ্ছা করে ওঁদের অন্ততঃ পক্ষে ধন্যবাদ জানাতে. ভগবানের কৃপা যে, আজ আমরা এই বোধে পৌঁছতে পেরেছি যে এই ধরনের কেন্দ্র গুলিকে অর্থ সাহায্য করা দরকার. আর এই ধরনের ব্যবস্থা আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করবো".

    উত্তর ককেশাস – বিশ্ব মাদক পাচারের আক্রমণের সবচেয়ে সামনে রয়েছে. তাই বোধহয় এখানের সামাজিক প্রতিরোধও শুরু হয়েছে সবার আগে ও সক্রিয় ভাবে. তার সঙ্গে রাশিয়ার সমাজেও সরকারের মাদক প্রতিরোধ রাজনীতির প্রতি সমর্থন বেড়েই চলেছে. ভিক্তর ইভানভ এই রকমের সংখ্যা তুলে ধরেছেন: গত বছরে শতকরা ৫৮ ভাগ রুশী লোক মাদক বিপদের সঙ্গে লড়াই কে দেশের জন্য এক নম্বর কাজ বলে উল্লেখ করেছিলেন. এই বছরের মে মাসে সামাজিক পরিসংখ্যাণ দেখিয়েছে যে, এই ধরনের লোকেদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত.