রাশিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী আজ শনিবার(২৮ মে) পেশাগত দিবস পালন করছে.তাদের কর্তব্য সর্বদাই সম্মানযোগ্য বলে গন্য করা হয়। মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য তাদের শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষিত হওয়াটাই যথেষ্ট নয় বরং থাকতে হয় দৃড় মনবল । আধুনিক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অন্যতম কর্তব্যের মাঝে রয়েছে-সীমান্ত পথে সন্ত্রাসীদের দমন,মাদক চোরাচালান বন্ধ ও অবৈধ নৌ-যান আটক ইত্যাদি।

স্থালে কিংবা জল পথে এবং যে কোন আবহাওয়া সবুজ পোশাকের এই দল প্রতিটি সেকেন্ডে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করছে যা ইতিমধ্যে  বিশ্বের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা পেযেছে। রাশিয়ার সীমান্ত পথের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬১ হাজার কিলোমিটারেরও অধিক। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার হচ্ছে স্থল পথ। বিশ্বের যে কোন দেশের চেয়ে রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশের সংখ্যাও বেশী এবং তার সংখ্যা হচ্ছে ১৮ টি । প্রতিদিন সীমান্ত পথে ১১ হাজারেরও বেশী সীমান্তরক্ষী ইউনিট পাহারা দেয় এবং তাদের সাথে থাকে সীমান্তরক্ষী নৌ জাহাজ,হেলিকপ্টার ও বিমান।২১ শতকে রুশ ফেডারেশনকে সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু নতুন সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে।যার মধ্যে রয়েছে মাদক পাচার,অবৈধ পণ্য পরিবহন ও সীমান্ত পথ দিয়ে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ ইত্যাদি।এছাড়াও রয়েছে রাশিয়ার জল সীমায় বিনা অনুমতিতে মত্স শিকার।

পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতেই চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার সিমান্তরক্ষী বাহিনীতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।সীমান্ত পাহারায় বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন রয়েছে,প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা-যার সাহায্যে দূরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করা যায়। এর সাহায্যে খুব সহজেই সীমান্ত এলাকার সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ সম্পর্কে জানা যায়,এমনকি কতজন লোক কোন পথ দিয়ে যাচ্ছে।বিশেষত সীমান্ত এলাকার জন্য ‘কেএসপে’ নামের যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে তার কার্যক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশলী।টেলিভিশন পর্দা যা রাতের বেলাতেও পরিষ্কার তথ্যচিত্র দেখাতে সক্ষম.প্রযোজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই যন্ত্র সংকেত প্রদান করে। দূর্গম সীমান্ত এলাকায় নজরদারীর জন্য পাইলটবিহীন বিশেষ উড়ন্ত বাহন ব্যবহার করা হয়।এই যন্ত্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে তার তথ্য  সাথে সাথে কম্পিউটার অপারেটরকে পাঠিয়ে দেয়। উপকূলীয় এলাকা পর্যবেক্ষনের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য মোতায়েন রয়েছে ৫০০ এরও অধিক জাহাজ ও ট্রলার।এদের অধিকাংশই তৈরি করা হয়েছে সামরিক-নৌ বন্দরের আদলে। এই জাহাজসমূহের রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জা। তাছাড়া আরও নতুন নতুন জাহাজ নির্মাণ অব্যহত রয়েছে।এই ধরনের জাহাজ শুধুমাত্র যে জল সিমা রক্ষার কাজেই ব্যবহার করা যাবে তা নয় বরং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও জৈবিক সমস্যা সমাধানেও কাজ করবে।শুরুতে কৃষ্ণ সাগর এলাকার জাহাজসমূহ পরিবর্তন করা হবে যেখানে ২০১৪ সালের অলিম্পিক আয়োজনের নিরাপত্তা পদ্ধতি তৈরীতে ব্যবহার করা হবে।

  সীমান্তরক্ষী বাহিনী দিবস যা সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত ২ লাখ সবুজ পোশাকধারী সৈনিকদের দিবস.পুরো রাশিয়া জুড়েই দিবসটি উপলক্ষ্যে নান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে.বিকেলে উল্লেখযোগ্য শহরে আঁতশ বাজি ফোটানে হবে। তবে যাদের জন্য এই দিবস সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অধিকাংশ সৈনিক তাদের কর্মক্ষেত্রে দিনটি পালন করবেন।