রাশিয়া চায় যে, লিবিয়া এক স্বাধীন, স্বতন্ত্র, সার্বভৌম একক রাষ্ট্র হিসাবেই থাকুক. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন দোভিলে "বড় আট" দেশের শীর্ষ বৈঠকের পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. রাশিয়ার নেতা বলেছেন যে, এই আট দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময়ে লিবিয়ার সমস্যা সম্বন্ধে তিনি রাশিয়ার তরফ থেকে "মধ্যস্থতা" করার প্রস্তাব করেছেন.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, "আমরা সবসময়েই এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বলে এসেছি সবচেয়ে বড় মাপের আলোচনার মাধ্যমে, যেখানে সেই সমস্ত লোকেরা অংশ নিলেই পারত, যারা বর্তমানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার আগে থেকেই বিরুদ্ধে, আর গাদ্দাফির সমর্থকরাও. আমাদের দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রয়েছে".

    একই সঙ্গে এমন কি আফ্রিকার দেশ গুলিতে মনে করা হয়েছে যে, মুহম্মর গাদ্দাফির পদত্যাগ অনিবার্য. আর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, "এটা হিসাবের মধ্যে রাখা দরকার". কিন্তু লিবিয়ার নেতার ভাগ্যের পরিনাম নির্বিশেষে মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, সামরিক অপারেশন লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সমস্ত আন্তর্জাতিক আইনের ও নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে খুবই ঘৃণ্য কাজ. বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাব শালী নেতাদের মধ্যে অন্য কিছু বিষয় নিয়েও কোন সম্পূর্ণ সহমত হয় নি. অংশতঃ রাশিয়ার কাছ থেকে পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলি আশা করেছে যে, সিরিয়াতে বাশার আসাদের প্রশাসনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে. কিন্তু মস্কো রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে. দিমিত্রি মেদভেদেভ আবার বিশেষ করে বলেছেন যে, এই বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে আলোচনার কোন প্রয়োজন তিনি দেখছেন না.

    আরও একটি প্রশ্ন, যা রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে এক পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হল সারা বিশ্ব জোড়া রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে মত ভেদ. সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যে, এই বিষয়ে সহমতে আসার পথ খুব সহজ হবে না. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, "এই বিষয়ে চুক্তির প্রয়োজন খুবই দ্রুত".

    দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, "আমরা সময় নষ্ট করছি. ২০২০ সালের পরে, যদি আমরা এখনই সহমতে না আসতে পারি, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য রকমের হবে. তাই আমি সকলের সঙ্গেই এই বিষয়ে কথা বলেছি, আর তা শুধু রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সঙ্গেই নয়. আমি চেয়েছি যে, আমাদের উদ্বেগ যেন সকলেই শুনতে পায়".

    আরও বেশ কিছু প্রশ্ন নিয়ে এই শীর্ষ বৈঠকে সহমতে আসা হয়েছে. সমস্ত পক্ষই স্বীকার করেছে যে, আরব দেশ গুলিকে যারা এখন গণতন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে, তাদের অর্থ সাহায্য করার দরকার রয়েছে. তা বেশ কয়েক লক্ষ কোটি ডলার হতে পারে. এখানে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনা সম্বন্ধে. "বড় আট" দেশের নেতারা সকলেই জাপানের সঙ্গে সহায়তার কথা বলেছেন. জাপানের পারমানবিক কেন্দ্র "ফুকুসিমা -১" এ মার্চের বিপর্যয়ের পরে বহু জনতার মৃত্যু হয়েছে. এই পারমানবিক বিপদের পরে সকলের নজর পড়েছে পারমানবিক নিরাপত্তা প্রশ্নে. দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন এই শীর্ষ বৈঠকে বেশ কিছু রুশ উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন "আমাদের ধারণা পারমানবিক কোন ঘটনা সম্বন্ধে জানানোর জন্য আরও ভাল ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে দেশ গুলি, যারা পারমানবিক শক্তিকে জ্বালানী শক্তি উত্পাদনের পথ হিসাবে নিয়েছে, তারা এই বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে এবং কেন্দ্র নির্মাণ ও প্রকল্প ব্যবহারের বিষয়ে আরও গভীর ভাবে পরীক্ষা করে তবেই কাজ করে. সেই সমস্ত দেশ যারা প্রথম এই শক্তি নিয়ে কাজ করার কথা ভাবছে, তারাও এই দায়িত্ব নিতে বাধ্য".

    ইজরায়েল – প্যালেস্তানীয় শান্তি আলোচনা সম্বন্ধে "বড় আট" দেশের নেতারা একত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ১৯শে মে ২০১১ তারিখে করা ইজরায়েলের সীমান্ত সম্বন্ধে ধারণার ঘোষণা কে স্বাগত জানিয়েছেন, যেখানে ওবামা ইজরায়েল কে ১৯৬৭ সালের সীমান্তে ফিরে যেতে আহ্বান করেছিলেন. ইজরায়েলে এই ঘোষণা খুবই তীক্ষ্ণ সমালোচনার ঝড় তুলেছে, কিন্তু দোভিলে তা সমর্থন পেল. দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া প্যালেস্টাইন দেশকে বহু দিন আগেই স্বীকৃতী দিয়েছে.

    শীর্ষ বৈঠকের আলোচনার মাঠে ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের রেশ নিয়েও কথা হয়েছে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথের সন্ধান করা হয়েছে. "বড় আট" দেশের নেতারা ঘোষণা করেছেন যে, বাজেট ঘাটতি নিয়ে যে সমস্যা ইউরোপের বেশ কিছু দেশকে দেউলিয়া করতে চলেছে, তার মোকাবিলা করার প্রয়োজন, আর তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও হয়েছে একটি গুরুতর সমস্যা.