মূল ঘোষণার শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সপ্তম অধ্যায়ে "বড় আট" দেশের নেতারা সম্মিলিত ভাবে ঘোষণা করেছেন যে, লিবিয়াতে শান্তিপ্রিয় জনসাধারনের উপরে শক্তি প্রয়োগ, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সিদ্ধান্ত পালন না করার জন্য তাঁরা হেগ শহরের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের লিবিয়া সংক্রান্ত কাজ এবং প্রধান অভিশংসকের তিনটি হুলিয়া জারি করাকে স্বাগত জানিয়েছেন. গাদ্দাফি ও তাঁর প্রশাসন লিবিয়ার জনগনকে রক্ষার কাজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং সমস্ত রকমের আইনের সঙ্গতি তারা হারিয়েছে. ভবিষ্যতের স্বাধীন, গণতান্ত্রিক লিবিয়াতে তাঁদের কোন স্থান নেই. তাঁকে অপসৃত হতে হবেই. সিরিয়া সম্বন্ধেও "বড় আট" দেশের সম্মিলিত ঘোষণা পত্রে বলা হয়েছে যে, সিরিয়ার সরকার জনতার দাবী মেনে যেন রাজনৈতিক সংস্কার করে ও অর্থ পূর্ণ সংশোধন করে এক গণতন্ত্রী সিরিয়া তৈরী করতে পারলেই তবে সিরিয়া এই অঞ্চলে একটি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারবে.

ইজরায়েল – প্যালেস্তানীয় শান্তি আলোচনা সম্বন্ধে "বড় আট" দেশের নেতারা একত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ১৯শে মে ২০১১ তারিখে করা ইজরায়েলের সীমান্ত সম্বন্ধে ধারণার ঘোষণা কে স্বাগত জানিয়েছেন, যেখানে ওবামা ইজরায়েল কে ১৯৬৭ সালের সীমান্তে ফিরে যেতে আহ্বান করেছিলেন. এই দলিলে সমস্ত পক্ষের সব বিষয় নিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনাকেই সমস্যা সমাধানের এক ও অন্যতম উপায় বলে ঘোষণা করা হয়েছে. ইয়েমেনে দীর্ঘ সময় ধরে চলা দেশকে বিধ্বস্ত করা শক্তি প্রয়োগের সম্বন্ধে "বড় আট" দেশের নেতারা তাঁদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতি সালেখ কে তাঁর দেওয়া আশ্বাস পালন করতে বলেছেন ও দেশের মানুষকে তাঁদের ন্যায্য দাবী অনুযায়ী সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার দিতে বলেছেন.

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান ব্যাখ্যা করে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন যে, "আমরা মনে করি না যে সিরিয়া ও লিবিয়ার পরিস্থিতি এক ও তা নিয়ে এই মূহুর্তে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে. তা ঠিক সময়ে হবে না খারাপই হবে. সিরিয়ার প্রশাসন রাজনৈতিক সংস্কারের প্রচেষ্টাই করছেন".

"আরব্য বসন্তের" উল্লেখ করে "বড় আট" দেশের যৌথ ঘোষণায় ইজিপ্ট (মিশর) ও টিউনিশিয়ার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং এই বারের দোভিল সম্মেলনে গঠিত "দোভিল সহযোগিতা" তহবিল থেকে সমস্ত আরব ও উত্তর আফ্রিকার গণতন্ত্রের পথে চলা দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে নির্দিষ্ট সহায়তা করা হবে.

    "বড় আট" দেশের পক্ষ থেকে ঘোষণায় আশা করা হয়েছে যে, জাপানের ১১ই মার্চের বিপর্যয়ের পরে জাপান তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে. তাছাড়া রাশিয়া ২০১১ সালের শেষের আগেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যুক্ত হতে পারবে.

    "বড় আট" দেশের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, জাপান, কানাডা ও ইতালি এবং রাশিয়া. এছাড়া ইউরোপীয় সংঘও এখানে সম্পূর্ণ ভাবে যোগদান করে থাকে. সম্মিলিত ভাবে এই দেশ গুলি থেকে বিশ্বে মোট রপ্তানী অর্থ মূল্যে শতকরা ৪৯ ভাগ করা হয়ে থাকে, শতকরা ৫১ ভাগ শিল্পোত্পাদন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শতকরা ৪৯ ভাগ অর্থ এই দেশ গুলির কুক্ষিগত. "বড় আট" দেশের বৈঠকের মূল কাজই হল বাস্তব আন্তর্জাতিক সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা ও সেই বিষয় গুলির সমাধান নিয়ে সহমতে আসার প্রচেষ্টা. আগামী বছরের শীর্ষবৈঠক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে হতে চলেছে সেই দেশেই.