লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফি নিজের আইন সঙ্গত থাকা নিজেই নষ্ট করেছেন, আর প্রয়োজন হচ্ছে, তাঁকে চলে যেতে সাহায্য করা, মস্কো এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করতেই পারে. এই বিষয়ে আজ দোভিলে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন. বৃহত্ আট দেশের শীর্ষ বৈঠকের পরে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে অংশগ্রহণকারী দেশ গুলির নেতারা মত প্রকাশ করেছেন যে, গাদ্দাফি ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক লিবিয়াতে কোন জায়গা পেতে পারেন না, আর তিনি সরে যেতে বাধ্য. এর আগে "বৃহত্ আট" দেশের মধ্যে রাশিয়ার সহকর্মী দেশ গুলি মস্কোর কাছে লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে.

    দোভিলে শীর্ষ বৈঠকে আলোচনার একটি অন্যতম বিষয় হয়েছে নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ. লিবিয়াতে পরিস্থিতি এখনও সমাধানের থেকে অনেক দূরে. গাদ্দাফির সেনা বাহিনী ও বিরোধী পক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে, জোটের দেশ গুলির বিমান বাহিনী অবিরল বোমা বর্ষণ করেই চলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারন মানুষ. আর এই পরিস্থিতিতে যে রাশিয়াকেই মধ্যস্থতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা স্বাভাবিক ও হঠাত্ করেই নয়, এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

    "এটা "বৃহত্ আট" দেশের মধ্যে শুধু রাশিয়াই রয়ে গিয়েছে প্রচলিত কথা অনুযায়ী "অকলঙ্কিত". সেই দিক থেকে যে, রাশিয়া, লিবিয়ার বিরুদ্ধে কোন রকমের সামরিক কাজকর্ম করে নি. ন্যাটোর দেশ গুলি এই একই সময়ে বিষয়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে. খুবই স্বাভাবিক লিবিয়ার গাদ্দাফি প্রশাসন অবশ্যই সেই সমস্ত লোকেদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না, যাদের তারা মনে করে নিজেদের দেশের "নাগরিকদের হত্যাকারী". আর রাশিয়া এখানে অন্ততঃ মধ্যস্থতা করতে পারে শুধু একটি বড় কারণের জন্যই যে, বিরোধের সমস্ত সময় জুড়েই রাশিয়া নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছে".

    আর তা সত্যও. যদিও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর লিবিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে কোন মত দেওয়া থেকে বিরত ছিল, আর যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জোটের বাহিনী লিবিয়ার ভূমিতে অবস্থিতি সামরিক কেন্দ্র গুলিতে বোমা বর্ষণ শুরু করেছিল, তার মধ্যে গাদ্দাফির বাস ভবনও ছিল, তবুও একই সময়ে কোন স্থলপথে অপারেশনের বিরুদ্ধে রাশিয়া খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে আপত্তি জানিয়েছিল. তাছাড়া রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কয়েক দিন আগের ঘোষণা যে, লিবিয়াতে অবিলম্বে অগ্নি বর্ষণ বন্ধ করে আলোচনায় বসা উচিত্, তা প্রমাণ করে যে, রাশিয়া নিজেই মধ্যস্থতা কারীর ভূমিকা নিতে সক্ষম. কিন্তু তা হতে পারে শুধু এক নির্দিষ্ট পরিস্থিতির শর্ত মেনে তবেই. সেই ধরনের শর্তের একটি হল – যেমন জোটের পক্ষ থেকে সামরিক কাজকর্ম বন্ধ করতে হবে, তেমনই যারা নিজেদের লিবিয়াতে বিরোধী পক্ষ বলছে, তাদের পক্ষ থেকেও গৃহযুদ্ধ বন্ধ করতে হবে বলে, মনে করেছেন বিশেষজ্ঞ. স্বাভাবিক যে, এটা লিবিয়ার নিয়মিত বাহিনীর কাজকর্মের সম্বন্ধেও বলা যেতে পারে, যারা কর্নেলের বিশ্বাসভাজন. আরও একটি সমস্যা হল – গাদ্দাফির অপসরণের শর্ত. ইসায়েভ বলেছেন:

    "এটা সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন, কারণ হল যে, এর মধ্যেই হেগ ট্রিব্যুনাল থেকে ম্যানডেট দেওয়া হয়ে গিয়েছে. আর গাদ্দাফি খুব ভাল করেই বুঝতে পারছেন ও মনে করতে পারছেন এর আগে যাদের নামে এই ম্যানডেট দেওয়া হয়েছিল তাদের পরিণতি, যেমন মনে করা যাক সের্বিয়ার রাষ্ট্রপতি মিলোশেভিচের পরিণতি. তাই মনে তো হয় না যে, তিনি এই পথে যাবেন. সুতরাং এখানে প্রশ্ন ওঠে যে, তাঁকে ব্যক্তিগত কোন ভরসা বা আশ্বাস দিতে হলে এই ম্যানডেট প্রত্যাহার করতে হবে ও তাকে কোন একটি দেশে, যারা তাঁকে গ্রহণ করতে রাজী হবে, সেখানে রাজনৈতিক নির্বাসনে যেতে দিতে হবে. সম্ভবতঃ এটা হবে আফ্রিকার বা আরবের কোন দেশ, কিন্তু তিনি কি এই পথে যাবেন"?

    রাশিয়া ছাড়া এই ধরনের মধ্যস্থতা করতে পারে অন্যান্য দেশ ও সংস্থাও, এই কথা মনে করেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ. ব্যাপার হল, আফ্রিকার অনেক গুলি দেশ, যাদের সঙ্গে লিবিয়ার সব সময়েই খুব একটা খারাপ সম্পর্ক ছিল না, যেমন কেনিয়া, নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতেই পারতো.স্বাভাবিক হবে, যদি মধ্যস্থতা করার জন্য আরব দেশ গুলির লীগ অংশ নেয়. সেখানে আফ্রিকার ঐক্য সংস্থার থেকেও প্রতিনিধি থাকা দরকার, আর তার সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরাও, সেখানে প্রসঙ্গতঃ থাকা দরকার নিরপেক্ষ দেশ গুলির প্রতিনিধিদের, যেমন চিন. তাহলে এই প্রক্রিয়া একটা অবস্থানের পরিবর্তন করতে পারে, আর পরিস্থিতির মোড় ফেরানো সম্ভব হতে পারে. এটা আপোষের প্রশ্ন, যা গাদ্দাফি ও তাঁর সমর্থকেরা করতে বাধ্য, আর সেই সমস্ত ছাড়, যা ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়া লিবিয়ার প্রতিপক্ষও করতে বাধ্য.