বাশকির রাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এক দিনের কম সময় লাগল বিপদ মোকাবিলা বাহিনীর. বৃহস্পতিবারে মধ্য দিনে এই বিপর্যয় শুরু হয়েছিল. পুরনো কামানের গোলা গুলিকে নষ্ট করার জন্য কাজ চলছিল খোলা আকাশের নীচে. নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা ঠিকঠাক পালন না করার জন্য একটি গোলা ফেটে যায়. এর পরেই শুরু হয় একের পর এক ১২০ মিলিমিটারের গোলা বিস্ফোরণ. আপাততঃ অনুসন্ধানের রিপোর্ট এটাই.

    বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের বাশকির রাজ্যের প্রধান কার্যালয়ের তথ্য দপ্তরের প্রতিনিধি আলিনা গানিয়েভা রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন যে, শুক্রবারে সকালে সামরিক ঘাঁটির মধ্যে অগ্নিকাণ্ড আয়ত্বে এসেছে. এ কথা সত্য যে, এখনও আলাদা করে গোলা বিস্ফোরণ চলছে, কিন্তু তা আর তত ভয়ঙ্কর নয়. জরুরী অবস্থার নিরসনে বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে. তার মধ্যে রয়েছে আগুণ নেভানোর ট্রেন ও উভচর বিমান বে – ২০০, যেগুলি গ্রীস, স্পেন ও ইজরায়েলে আগুণ নেভানোর জন্য অংশতঃ ব্যবহার করা হয়েছিল. শুক্রবার দুপুর থেকে ঘাঁটির ভিতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তিনটি রোবট পাঠানো হয়েছে, সেগুলি ব্যবহার করে বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারবেন পাইলট বিহীণ বিমান থেকে পাঠানো তথ্য ও মাটির উপরের তথ্য মিলছে কি না. সব মিলিয়ে ১৮৯ টি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলিনা গানিয়েভা.

    "সমস্ত বাহিনীর কাজকর্ম করা সম্ভব হয়েছে খুবই সুষ্ঠ ভাবে, তার মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রয়েছে. সমস্ত পরিষেবাই একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করতে পেরেছে. বিশেষ করে এখানে উল্লেখ করবো দমকল কর্মী ও ত্রাণের কাজ করা লোকেদের. বিস্ফোরণের ফলে খুবই বিপজ্জনক অগ্নিকাণ্ডের জায়গা থেকে তাঁরা খুবই দ্রুত মানুষ জনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে আনতে পেরেছেন".

    নিকটবর্তী উরমান গ্রামের লোকেদের সাহায্যের দরকার পড়েছিল. এই গোলার মধ্যে একটিও ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী বা রকেট ছিল না. কামানের গোলার টুকরো খুব বেশী হলে ৩০০ মিটার দূর পর্যন্ত উড়ে আসছিল. রেডিও রাশিয়ার তথ্য অনুযায়ী বিপজ্জনক এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২০০০ লোককে, তার মধ্যে ২৫০ বাচ্চা. এই কাজে সাহায্য করেছে হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া গাড়ী. বর্তমানে জনপদে আগুণ সম্পূর্ণ ভাবে নেভানো সম্ভব হয়েছে. পঞ্চাশের বেশী বাড়ী ঘর পুড়েছে, স্থানীয় লোকেদের মধ্যে কেউ নিহত হন নি, জানিয়েছেন আলিনা গানিয়েভা.

    "আপাততঃ পাওয়া খবর অনুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডে কেউ নিহত হন নি, ১২ জনের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সার জন্য এসেছিল, নয় জনকে জায়গাতেই চিকিত্সা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তিন জন হাসপাতালে. যাদের এই ঘটনায় আতঙ্ক হয়েছে, তাদের জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন. দমকল কর্মী ও উদ্ধার কারীরা স্থানীয় লোকেদের নিত্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজেরাই স্বেচ্ছায় সাহায্য করছেন".

    শুক্রবারে শুরু হয়েছে সাময়িক ভাবে স্বল্প কালীণ অনুদান দেওয়ার কাজ, বাশকির রাজ্যের প্রধান রুস্তেম হামিতভ ঘোষণা করেছেন যে, ক্ষতিপূরণ স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে দেওয়া হবে. ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রামের জায়গায় নতুন বাড়ী ঘর বানিয়ে দেওয়ার জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে. এই জায়গার চারপাশে দশ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত জায়গাতে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে. সেখানে এখন ২০টি মাইন উদ্ধার করী দল কাজ করছেন. এর পরে শুরু হবে জায়গার পুনরুদ্ধার, গ্রামের লোকেদের নিজেদের ঘর বাড়ীতে ফিরতে দেওয়া হবে.