রাশিয়াতে স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগ এজেন্সী তৈরী হওয়ার সময়ে প্রধান কাজ যা সামনে রাখা হয়েছে – তা হল দেশের মাঝারি মাপের ব্যবসার রক্ষা. এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরী এই প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে. রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে নিজেরা প্রশ্ন করতে পেরেছেন, তা শুধু সম্মেলন কক্ষে বসেই নয়, বিশেষ করে এর জন্য আবার ভিডিও সম্মেলনের আয়োজনও করা হয়েছিল.

    সাধারন ভাবে যেমন ভাবা হয় এই স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগ সংস্থা তেমন কোন সরকারি বা বেসরকারি সামাজিক সংস্থা নয়. বলা যেতে পারে এটা ব্যবসা ও তার সমস্যা সমাধান, যাঁদের উপরে নির্ভর করে, তাঁদের একটা কথা বলার জায়গা. ভ্লাদিমির পুতিন এই সংস্থার নীতি নিয়ে নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন.

    "প্রথমতঃ – এটা একটা খোলা জায়গা, যেখানে বহু স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের আকর্ষণ করা হবে, এখানে তথাকথিত ব্যুরোক্র্যাসী বিষয়কেই সবচেয়ে কম করা হবে, সমস্ত রকমের সরকারি কেতা ও প্রক্রিয়াকেই এখানে আসতে দেওয়া হবে না, এখানে থাকবে প্রকল্প ও তার জন্য কর্মী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হবে সবচেয়ে কার্য কারণ সম্বন্ধ রেখে. আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল অভিজ্ঞতাকে প্রসারিত করা ও মূল্যবান উদ্যোগ গুলিকে খুঁজে বার করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বের করা".

    এই সংস্থার সৃষ্টি এই জন্যেই করা হল, যাতে তা প্রশাসন ও মাঝারি মাপের ব্যবসার মধ্যে ফাঁককে পূরণ করতে পারে. ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন যে, এটার খুবই দরকার রয়েছে, কারণ এই ধরনের ব্যবসার প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে কাজ করার মতো কোন রকমের সম্পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্থা পান নি. এই সংস্থার প্রধান কাজ হতে চলেছে মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গুলিকে সহায়তা করা ও তাকে দেশের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক মাপে পৌঁছে দেওয়া. প্রসঙ্গতঃ এখানে কথা হয়েছে সেই ধরনের প্রকল্প নিয়ে যেগুলিকে সরকারের বাজেট থেকে কোন অর্থ দিতে হবে না, সাহায্য করতে হবে বিনিয়োগ খুঁজে পেতে.

    এই এজেন্সীর কাজ তিনটি ধারায় হবে নূতন ব্যবসা, অল্প বয়সী পেশাদার লোকেদের জন্য এবং সামাজিক প্রকল্প. প্রথম ও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় ব্যবসা প্রকল্পের কথা হচ্ছে, আর অল্পবয়সী পেশাদার লোকেরা যাতে তাদের ক্ষমতা মাঝারি ব্যবসাতে ব্যবহার করে দেখতে পারে. সামাজিক দিকে লক্ষ্য থাকবে স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে. সমস্ত রকমের জোটকে সাহায্য করা, যারা এ ধরনের কাজ করছেন এবং সমাজের জন্য উপকারী বিষয়কে তুলে ধরছেন.

    চেলিয়াবিনস্ক শহরের তপ্ত যন্ত্র নামের এক কারখানার প্রধান কনস্তানতিন জাখারভ তাঁর নিজের কারখানার সাফল্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন. কিন্তু উল্লেখ করেছেন যে, দেশের বাইরের বাজারে কাজ করার জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা কম রয়েছে বলে.

    "এই এজেন্সী শুধু প্রশাসনের মধ্যে না হয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর আওতায় হওয়াতে রুশ শিল্পের সম্ভাবনা বেড়ে গেল ও অনেক বেশী সংখ্যক দেশী কল কারখানা এবারে দেশের ও বাইরের অগ্রবর্তী চিন্তার সুফল পাবে. এটা উন্নতির জন্য প্রযোজনীয়. এখানে আশা করা কি যায় যে, আমাদের কল কারখানা গুলি এবারে আধুনিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গুলি ব্যবহার করে উন্নত হতে পারবে"?

    ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন যে, "এই লক্ষ্যের জন্যই এজেন্সী তৈরী করা হল. সব থেকে ভাল অভিজ্ঞতা বাছাই করা, তাকে সকলকে জানানো ও প্রসার করা এটাই কাজ. আমরা অবশ্যই এটা করবো. কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে যেমন আপনাকে দেশের বাইরের বাজারেও বেরোতে সাহায্য করা কথা উঠেছে, তাই আমরা এই প্রথম উচ্চ প্রযুক্তি সহ জিনিস রপ্তানীর জন্য সহায়তা করবো".

    ব্যবসা থেকেই এই সংস্থার চালানোর অর্থ আসবে. এজেন্সী তার উপরে আবার বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক সমিতি চালু করবে, যেখানে সরকারি কর্মী থাকবেই না, আর এই সংস্থার প্রধান বাছাই করা হবে মনে হচ্ছে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, যা ২৫ শে মে ঘোষিত হয়েছে. যে কোন ব্যবসায়ী এই এজেন্সীতে নিজেকে ইন্টার নেটের মাধ্যমে রেজিস্টার করে তাঁর ধারণা অনুযায়ী এই সংস্থার কাজ কেমন হওয়া উচিত্ তা জানাতে পারেন. এর উপযুক্ত প্রার্থী বেছে নেবেন বহু বিশেষজ্ঞ মিলে – সেখানে যেমন বিজ্ঞানী, তেমনই ব্যবসায়ীরা রয়েছেন. আর শেষ অধ্যায়ে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই অংশ নেবেন. গরম কালের শেষে এই সংস্থা পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করবে.