পাকিস্তানের করাচী শহরের কাছে নৌবাহিনীর বিমান ঘাঁটি 'মেহরান' আক্রমণে এই কথাই প্রমাণিত হয় যে, সন্ত্রাসবাদীরা এই দেশে ও দেশের বাইরে বহুল প্রসারিত ও বিপজ্জনক সব অপারেশন করার জন্য মতলব করছে. "আমরা খুবই মনোযোগ দিয়ে পরিস্থিতিকে লক্ষ্যে রেখেছি এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাই নিচ্ছি. আমাদের সমস্ত বাহিনীই তৈরী রয়েছে নিয়মিত ভাবে", এই কথা বলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরাক্কাপারামবিল এন্টনি. ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র সম্ভারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন.

বিষয়টি নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পাকিস্তানে করাচী শহরের কাছে মেহরান নৌবাহিনীর ঘাঁটিকে একটি অন্যতম সুরক্ষিত জায়গা বলে সবসময়েই মনে করা হতো. তা স্বত্ত্বেও খুবই স্বল্প সংখ্যক সন্ত্রাসবাদী জঙ্গী, বিশ জনের কম লোকের দল আক্রমণ করে এই ঘাঁটিতে জায়গা নিতে পেরেছিল. তাদের দল প্রায় ১৬ ঘন্টা পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনীর প্রতি আক্রমণ রুখে দিয়েছিল ও নিজেরা ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত আতঙ্কে রেখেছিল সারা দেশ. স্বস্তির বিষয় হল, এখানে কোন পারমানবিক অস্ত্র ছিল না. কিন্তু তা ছিল মেহরান থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরের আরেক বিমান বাহিনীর ঘাঁটি 'মসেরুর' ঘাঁটিতে, এই তথ্য বিশেষজ্ঞদের. এই বিষয়ে সন্ত্রাসবাদীরা কি আগে থেকে জানতো? সম্ভবতঃ হ্যাঁ, কিন্তু তারা ঠিক করেছিল তাড়াহুড়ো না করে ভাল করে তৈরী হতে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, মেহরান ঘাঁটিতে জঙ্গী হামলায় ভিতর থেকে সাহায্য করেছে এই ঘাঁটিতেই কাজ করা কোন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর লোক. ব্রিটেনের রয়্যাল আর্মি ইনস্টিটিউটের কর্মী শশাঙ্ক জোশী উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডার রক্ষার কাজে নিরত রয়েছে প্রায় দশ হাজার সেনা, কিন্তু এই সমস্ত জায়গার লোকেদের পরীক্ষা খুব কড়া করে করা হয় মাত্র পাঁচ শতাংশ কর্মীর, যাদের কাজ পারমানবিক অস্ত্রের সঙ্গেই জড়িত. ঐস্লামিক চরমপন্থীদের পাকিস্তানে খুব কম সমর্থক নেই, তার মধ্যে উচ্চ পদস্থ সেনাবাহিনীর কর্মীও আছে. সম্ভবতঃ এই কারণেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব এর মধ্যেই মেহরান ঘাঁটির সমস্ত উচ্চ পর্যায়ের কর্মীকে সরিয়ে দিয়েছে. তার ওপরে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানের প্রশাসন এই ঘাঁটিকে এক কোটি আশি লক্ষ লোকের শহরের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে. কিন্তু এই ধরনের কাজ করলে নিরাপত্তা কি বাড়বে? কারণ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীরা বহু দিন ধরেই দেশের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারে পৌঁছনোর পথ খুঁজছে. তাদের এই কাজের জন্য রয়েছে কিছু বিশেষ সম্ভাবনা, আর তারা মনে তো হচ্ছে, এর জন্যই তৈরী হচ্ছে.

করাচী শহরের কাছে মেহরান ঘাঁটি সেই আতঙ্ককেই আরও বাড়িয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীরা এর মধ্যেই কৌশল গত উপায় বের করে ফেলেছে, যেখানে প্রাথমিক তথ্য যোগাড় করতে পারছে, সামরিক বাহিনীর পোষাক ব্যবহার করতে পারছে, বেশ কয়েকটা জায়গা দিয়ে একই সময়ে ঢুকে পড়তে পারছে. এটা পারমানবিক ভাণ্ডারে ঢোকার সময়েও ব্যবহার করতে পারে – এই কথা মনে করেন ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড কলেজের পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান শন গ্রেগোরী. নিজের পক্ষ থেকে বিখ্যাত রুশ বিজ্ঞানী ও প্রাচ্য দেশ সমূহের বিশেষজ্ঞ গেন্নাদি চুরফিন মনে করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার এই এলাকার পরিস্থিতি আরও বেশী করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে. তিনি বলছেন:

"এখন এই এলাকার পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, পাকিস্তানের দ্রুত বেড়ে ওঠা পারমানবিক ক্ষমতায় বিশ্বের উদ্বেগকেও বাড়িয়ে দিয়েছে. বোমার সংখ্যার হিসাবে এই দেশ বর্তমানে ভারত ও ইংল্যান্ডকে পার হয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে. এই পরিস্থিতিতে পারমানবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন শুধু আর এই দেশেরই থাকছে না, তা বিশ্বের বহু দেশের জন্য সমস্যায় পরিনত হয়েছে. করাচী শহরের ঘটনা নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ঘোষণা ও এই বাস্তব ঘটনা যে, সন্ত্রাসবাদীরা সামরিক ঘাঁটিতেও ঢুকতে পেরেছে, তা অবশ্যই খুবই উদ্বিগ্ন করে এবং আতঙ্কিত করে. এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়".

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী দলগুলির কাজকর্ম, তাদের পারমানবিক অস্ত্র বাগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা, বড় শিল্প কেন্দ্র ও সামরিক কেন্দ্রে আক্রমণে প্রয়োজন পড়েছে প্রতিরক্ষার বিষয়ে সফল পদক্ষেপ নেওয়ার. তাই সম্ভবতঃ দরকার হল, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় বিশেষ আন্তর্জাতিক আলোচনা পরামর্শ করার. সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র পড়া বন্ধ করার জন্য সমস্ত রকমেরই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে.