ফ্রান্সের দোভিলে “বৃহত্ আট” দেশগুলির নেতারা নতুন আরব গণতন্ত্রগুলিকে সাহায্য দানের বিষয় আলোচনা করবেন. জাপানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির আলোকে পারমাণবিক নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা সংক্রান্ত উদ্যোগ প্রকাশ করবে রাশিয়া. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নেতার পদপ্রার্থী নিয়ে পাশ্চাত্য ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলির বিরোধিতার বিষয়টি “বৃহত্ আট” দেশগুলির নেতাদের যথেষ্ট সময় নিতে পারে. এ শীর্ষ সাক্ষাতে বিশ্ব অর্থনীতির সমস্যাবলি সম্পর্কে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লিবিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ স্থিতি প্রণয়ন করতে হবে. এ সব দেশের নেতাদের সিরিয়া এবং নিকট প্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতির প্রতিও মনোযোগ দিতে হবে, তাছাড়া টিউনিসিয়া ও মিশরকে সাহায্য দানের বিষয়ও আলোচনা করতে হবে. শীর্ষ সাক্ষাতের উদ্বোধনের প্রাক্কালে মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব হিলারী ক্লিন্টন বলেন, “টিউনিসিয়া ও মিশরের গণতন্ত্রে সফলভাবে উত্তরণ এবং তাদের গোটা অঞ্চলের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠা, আমাদের সাধারণ স্বার্থে. অন্যথায়, আমাদের এ সুযোগ হারানোর ঝুঁকি আছে”.

   বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সাক্ষাতের অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নেতার পদপ্রার্থীর বিষয়টির প্রতিও মনোযোগ দেবেন. বর্তমানে এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লীডারের স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিন লাগার্দ. ক্রেমলিনের মতে, এ বিষয়ে আলোচনা, সম্ভবত, বেসরকারী চরিত্র ধারণ করবে. পরম্পরাগতভাবে, এ তহবিলের নেতার পদ অধিকার করে এসেছে পশ্চিম ইউরোপের প্রতিনিধিরা, তবে, এখন ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলি, বিশেষ করে “ব্রিক্স”, এ পদের প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়. তারা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলির আরও ব্যাপক প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করছে.

   আশা করা হচ্ছে যে, মেদভেদেভ উত্তর আফ্রিকার একসারি দেশের পরিস্থিতির আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন. সর্বপ্রথমে এ কথা লিবিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, প্রাক্কালে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভোর্কোভিচ. এ দেশে দু মাসের উপর ন্যাটো জোটের বিমান অভিযানের দ্বারা গাদ্দাফির শাসন ব্যবস্থাকে উত্খাত করার জন্য আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন বিফল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে. রাশিয়া লিবিয়ার সঙ্কটে সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করছে এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের লিবিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালন করার দাবি করছে. মস্কো লিবিয়ায় অবিলম্বে অগ্নি সংবরণের পক্ষে মত প্রকাশ করছে এবং সে এ দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তির সংলাপ গড়ে তোলায় অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত. একই সঙ্গে, রাশিয়া মনে করে, উত্তর আফ্রিকার ঘটনাবলি সেই প্রচেষ্টাকে যেন দুর্বল করে না তোলে, যা গৃহীত হচ্ছে নিকট প্রাচ্য মীমাংসার ক্ষেত্রে.