পারমানবিক নিরাপত্তা, নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উন্নতি – এই বিষয় গুলিকেই অর্থনৈতিক ভাবে "আটটি বড়" দেশের শীর্ষবৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা নাম দিয়েছেন মুখ্য বলে. বৃহস্পতিবারে ফ্রান্সের দোভিল শহরে এই সব দেশের ও প্রশাসনের নেতৃত্বের বৈঠক শুরু হতে চলেছে.

    ফরাসী দেশ, এই বছরে আট বড় দেশের সম্মেলনের সভাপতির পদে রয়েছে, প্রাথমিক ভাবে তারা ঘোষণা করেছিল যে, মাদক পাচারের সমস্যা, তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি ও ইন্টারনেটে অপরাধের প্রসঙ্গ হবে মুখ্য. কিন্তু পরপর বেশ কয়েকটি ঘটনা আলোচনার তালিকায় পরিবর্তন ঘটিয়েছে. ফলে খুবই মনোযোগ দিয়ে দোভিল শহরে পারমানবিক নিরাপত্তা, নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে.

    জাপানের বিপর্যয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে বোধ হয়েছে যে, বর্তমানে পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র প্রকল্প নির্মাণ, স্থাপন ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন খুবই কঠোর নিয়মানুবর্তীতা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে দাবী. এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি ব্যবহার সম্বন্ধে উদ্যোগ সম্বন্ধে ধারণা ব্যক্ত করেছেন, আর তারই সঙ্গে পারমানবিক কেন্দ্র গুলি সম্পর্কে প্রশাসন ও কার্যকরী কোম্পানী গুলির কাজ কর্মের যোগ সাধন করার কথা বলেছেন. এই প্রস্তাব গুলিই দোভিল শহরে আলোচিত হবে, এই কথা বলে রুশ রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন:

    "আন্তর্জাতিক পারমানবিক নিরাপত্তা নিয়ম সংক্রান্ত চুক্তির সম্ভাব্য পরিবর্তনের পথ নিয়ে আলোচনা হবে, যা জুন মাসে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে আলোচিত হবে. আমরা আমাদের জাপানের সহকর্মীদের কাছ থেকেও পারমানবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাব পেয়েছি. সব মিলিয়ে তা আমাদের ধারণার খুবই কাছাকাছি. শীর্ষবৈঠকের শেষে গৃহীত হওয়ার জন্য দলিলের প্রকল্পে আমাদের সমস্ত ধারণাই লেখা হয়েছে, আর সহকর্মী দেশ গুলি রাশিয়ার প্রস্তাবিত পথ নির্দেশের বিষয়ে একমত".

    এর পরে পূর্বের আরব দেশ গুলির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে. এই বিষয়ে শীর্ষ বৈঠকে বেশ কয়েকটি অধিবেশন আলাদা করে আয়োজন করা হয়েছে, প্রসঙ্গতঃ আলোচনা গুলিতে সেই সমস্ত দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন, যেখানে এই সমস্ত বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটেছে ও এখনও উত্তেজনা চলছে. এখানে কথা হবে যেমন দ্বিপাক্ষিক ভাবে, তেমনই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা গুলির সাহায্য নিয়ে অর্থনৈতিক সহায়তা, কাজের জায়গা তৈরী ইত্যাদি বিষয়ে.

    মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, "আট বড়" দেশের সকলেই নিকট প্রাচ্যের বিরোধের মীমাংসার জন্য একমত. রাশিয়া ও জার্মানী লিবিয়া সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, যা লিবিয়ার আকাশকে যুদ্ধ বিমান মুক্ত রাখার ও শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, তা গ্রহণের সময়ে কোন মত দেয় নি. পরিস্থিতির মূল্যায়ণের ক্ষেত্রেও বর্তমানে সম্পূর্ণ ভাবে একমত হওয়া সম্ভব হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে দ্ভরকোভিচ বলেছেন:

    "রাশিয়া মনে করে যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলির সম্পূর্ণ রকমের পালন আবশ্যিক. আমরা মনে করি যে, লিবিয়ার প্রসঙ্গে নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় সমস্যা রয়েছে. আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী ব্রিকস সংস্থা গৃহীত ঘোষণা পত্রে খুবই স্পষ্ট করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে. এখানে কথা হচ্ছে যে, শক্তি প্রয়োগ বিষয়টিকে এড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, প্রত্যেক দেশেরই স্বাধীনতার মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সীমান্তের অখণ্ডতা মানা দরকার".

    তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ে প্রশ্নগুলির সম্বন্ধে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইন্টারনেটে বুদ্ধি প্রসূত বিষয়ের মালিকানা ও তথ্য বিষয়ে সুরক্ষার সম্বন্ধে নির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে, যার ভিত্তি অধিকার সম্পত্তির মালিক ও ব্যবহারকারীদের স্বার্থের ভারসাম্য রেখেই করা হয়েছে. সেগুলি দোভিল শহরে পেশ করা হবে, একই সঙ্গে থাকছে রুশ বিশেষজ্ঞদের ইন্টারনেটে অপরাধ বিষয়ে প্রস্তাবও, অংশতঃ যা সন্ত্রাস ও সামরিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে যুক্ত.

    দুই দিনের শীর্ষবৈঠকের যথেষ্ট পরিকল্পিত অধিবেশন ছাড়াও পরিকল্পনা রয়েছে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও. উদাহরণ হিসাবে, দিমিত্রি মেদভেদেভের জন্য সেই রকম পরিকল্পিত রয়েছে পাঁচটি. সরকারি ভাবে বৈঠক শুরুর আগে তিনি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজির সঙ্গে দেখা করবেন, তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতা বারাক ওবামার সঙ্গে. একই ভাবে তাঁর আলোচনা করার কথা রয়েছে জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান এবং গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে. এই সাক্ষাত্কার গুলি যেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বিশ্ব মানের প্রশ্নাবলী নিয়ে আলোচনার জন্যও প্রয়োজন. অংশতঃ বারাক ওবামার সঙ্গে আলোচনার সময়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নিয়ে. আমাদের দেশে ওয়াশিংটনের বর্তমান সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও মাদক পাচার সংক্রান্ত কাজকর্ম ইতিবাচক ভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে. কিন্তু জটিলতা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও রয়ে গিয়েছে. তার একটি হল বর্তমানের রকেট বিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা. এই বিষয়, সন্দেহ নেই যে, রুশ মার্কিন সহযোগিতার প্রধান বিষয়. যেমন তা রুশ ইউরোপ আলোচনার ক্ষেত্রেও রয়েছে. কারণ পারমানবিক নিরাপত্তা, তা সে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনকি কাল্পনিক শত্রুকে প্রতিরোধ করা হলেও – এমন এক ধারণা, যা সকলের জন্যই একই রকম প্রয়োজন.