সেন্ট পিটার্সবার্গে স্কোলকোভো তহবিলের প্রথম বড় মাপের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন শুরু হয়েছে. এই প্রতিনিধিত্ব মূলক সম্মেলনে দেড়শো জনেরও বেশী বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক, বড় কোম্পানীর প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ সমাজের লোক অংশ নিয়ে জ্বালানী শক্তি ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন.

এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফলিত বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক গতি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যত উন্নয়নের সম্ভাবনা গুলি নিয়ে আলোচনা. সম্মেলন প্রাঙ্গণে উপস্থিত করা হয়েছে জ্বালানী সাশ্রয় এবং আই টি প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিশিষ্ট প্রকল্প ও বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ. বর্তমানের প্রকল্প গুলির বাস্তব গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন.

২০১০ সালে রাশিয়াতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কেন্দ্র তৈরী করার মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের বিষয়ে পাঁচটি প্রধান দিক চিহ্নের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ যে ঘোষণা করেছিলেন, তার মধ্যে জ্বালানী ও তথ্য প্রযুক্তি ছিল. দেশের নেতা উল্লেখ করেছিলেন যে, এখানে কাজ করা হবে টেলি যোগাযোগ, জৈবঔষধি, মহাকাশ গবেষণা ও পারমানবিক প্রযুক্তি নিয়ে.

আমেরিকার সিলিকন ভ্যালির মতো রুশ জায়গা তৈরী করার কথা হয়েছিল মস্কো উপকণ্ঠের স্কোলকোভো শহরে. এখানে খুব শীঘ্রই এক উদ্ভাবনী কেন্দ্র শহর তৈরী হয়ে যাবে, যা রাশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক রাজনীতি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার এক বিশালতম মহড়া ক্ষেত্র হবে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার এক প্রধান ব্যবসায়ী ভিক্তর ভেকসেলবের্গ বলেছেন:

“সবার আগে বুঝতে হবে যে, আমরা এখানে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়া গুলিকে সহায়তা করার জন্য এক পরিবেশ তৈরী করছি. এই পরিবেশের মুখ্য বিষয় হবে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, অথবা, আমরা যার নাম দিয়েছি স্কোলোকোভো প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট. অর্থাত্ এটা হবে সেই সমস্ত কর্মী তৈরী করার কামারশালা, যাঁরা বুদ্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে পরবর্তী কালে নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সহ প্রকল্প তৈরী করবেন ও নতুন বিনিয়োগের ব্যবসার সৃষ্টি করবেন”.

স্কোলকোভোতে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির আবিস্কারের জন্য বিশেষ ধরনের পরিস্থিতি তৈরী করা হচ্ছে, আর তারই সঙ্গে নতুন ধারণাকে ব্যবহার যোগ্য করার ব্যবস্থা হচ্ছে. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রধান ইনস্টিটিউট গুলি এই বিশাল সরকারি প্রকল্পকে সমর্থন করেছে স্কোলকোভো তহবিলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে, আর তার সঙ্গে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক কোম্পানী গুলি, যেমন, নোকিয়া, মাইক্রোসফট, সিমেনস ও বোয়িং কর্পোরেশন ইত্যাদিও যোগদান করেছে. এই প্রকল্পের একটি প্রধান সাফল্য হয়েছে এখনই বাস্তবে নতুন প্রকল্প বাছাই শুরু হয়েছে, যা এই উদ্বাবনী কেন্দ্রের জমিতে বাস্তবায়িত করা হবে. কিন্তু মূল বিষয় হল, স্কোলকোভো আধুনিক অর্থনীতির নূতন আদর্শ তৈরীতে সহায়তা করছে, এই কথা সেন্ট পিটার্সবার্গের সম্মেলনে স্কোলকোভো বৈজ্ঞানিক পরিষদের সহ সভাপতি ও নোবেল প্রাউজ বিজেতা ঝোরেস আলফিওরভ বলেছেন:

“আমার জন্য স্কোলকোভো – এটা কোনও জায়গা নয়, এটা একটা আদর্শ, যা রাশিয়ার সর্বত্রই উন্নতি করতে বাধ্য. সেখানে ভাল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ব্যবসায়িক উন্নতির আঁতুড়ঘর যাই হোক না কোন, তার অর্থ এই নয় যে, সকলেই স্কোলোকোভো তে থাকতে বাধ্য. স্কোলোকোভো – এটা উন্নতির আদর্শ, সিলিকন ভ্যালিতে যেরকম রয়েছে, সেই রকমই – বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের মাধ্যমে রোজগার করা. এই আদর্শ স্কোলকোভোর ভিত্তিতেও রয়েছে”.

স্বাধীন বিশেষজ্ঞরাও এই ধরনেরই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: যাতে অর্থনীতির উন্নতি হয় অপ্রত্যাবর্তন যোগ্য, স্কোলকোভোর আদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার সারা রুশ দেশ জুড়ে. অন্য কথায় বলতে হলে রাশিয়াতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সহ কোম্পানী গুলির বিশ্বে তুলনীয় হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরী করা. কি করে তা করা হবে – তাই রাশিয়ার উত্তরের রাজধানীতে উদ্বোধন হওয়া আম্তর্জাতিক সম্মেলনে আজ আলোচনা হচ্ছে.