রাশিয়া আন্তর্জাতিক মাত্রায় দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে. মস্কো ঠিক করেছে এই জন্য তৈরী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার নিয়ম নীতিতে সই করার. প্যারিসে ২৫- ২৬শে মে এই সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এটা ঘটতে চলেছে.

   এই দলিল অনুযায়ী – নীতিতে স্বাক্ষরকারী সদস্য দেশ বাধ্যতা মূলক ভাবে বিদেশী দায়িত্বশীল কর্মচারীদের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চুক্তির ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করে থাকে. প্রত্যেক দেশই এই ক্ষেত্রে নিজেদের দেশের আইনের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে. এই নিয়ম নীতির চুক্তিপত্র ১৯৯৭ সালে তৈরী হয়েছিলও ১৯৯৯ সালে কার্যকরী হয়েছিল. বিগত সময়ে এই বিষয়ে অংশ নিয়েছে বিশ্বের ৩৮টি দেশ.

   আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রধান হোসে অ্যাঙ্খেল গুর্রিয়া ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার এই নিয়মাবলীতে যোগদান – এক প্রতীকী ঘটনা. তা অংশ গ্রহণকারী দেশ গুলির বর্তমানের একটি অন্যতম সমস্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করবে. এক্ষেত্রে হোসে গুর্রিয়া বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার আইন প্রক্রিয়া ব্যবস্থাও এই লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের গতি বৃদ্ধি করবে. এই সংস্থার প্রধানের সঙ্গে একমত হয়ে রাশিয়ার লোকসভার পররাষ্ট্র বিষয়ক পরিষদের উপ সভাপতি আন্দ্রেই ক্লিমভ বলেছেন:

   “আন্তর্জাতিক সমাজ এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে যে, কি করে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হবে. লোকে নানা ধরনের আপোষ করে চুক্তি করছে. রাশিয়াতে আমাদের রাষ্ট্রপতির ভাষণে একাধিকবার বলা হয়েছে যে, আমরা দুর্নীতি পরায়ণ রাষ্ট্রদের সঙ্গে এক হতে চাই না ও তাই প্রচেষ্টা করছি বুদ্ধি সঙ্গত ভাবে এই প্রসঙ্গে যেমন বিদেশী প্রশাসনের কার্যকরী বিভাগ গুলির সঙ্গে, তেমনই আইন প্রণেতাদের সঙ্গে একমাথে কাজ করার. আমরা যদি এই নিয়মাবলীর সঙ্গে অংশীদার হিসাবে ঢুকতে পারি, তবে, বোঝাই যাচ্ছে যে, আমাদের পক্ষে আভ্যন্তরীণ আইন ব্যবস্থার সঙ্গতি সাধন সহজ হবে. আর এই চুক্তির সরকারি ভাবে গ্রহণের পরে আমাদের এই নিয়মাবলীর সঙ্গে যে সমস্ত আইন গুলি, তার মধ্যে ফৌজদারী আইনও থাকবে এবং মিলবে না, সেগুলিকেও সংশোধন করতে হবে. কারণ আমাদের সংবিধান অনুযায়ী এই রকমের নীতি রয়েছে: আন্তর্জাতিক আইন, যে গুলি রাশিয়ার প্রশাসন গ্রহণ করেছে, তা দেশের ভিতরের প্রচলিত আইন গুলির চেয়ে বেশী অর্থবহ”.

   ইউরোপীয় সংঘে দুর্নীতির অর্থনৈতিক পরিমাপ কম করে হলেও সার্বিক জাতীয় আয়ের শতকরা এক শতাংশ. এই ধরনের তথ্য গত সপ্তাহে ইউরোপীয় সংঘের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কমিসার সেসিলিয়া মালস্ট্রেম উপস্থিত করেছেন. এই সংখ্যাকে আরও বেশী করে বিশ্বাস যোগ্য বলে মনে হয়েছে, যদি ধরা হয় যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিগত বছরের মূল্যায়ণের তথ্য অনুযায়ী ইউরোপীয় সংঘের সার্বিক জাতীয় আয় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী হয়েছিল. শ্রীমতী মালস্ট্রেম একই সঙ্গে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, গড়ে বিশ্বের দুর্নীতির পরিমাপ বিশ্বের সার্বিক আভ্যন্তরীণ উত্পাদনের শতকরা দুই ভাগ.

   রাশিয়ার এই নিয়মাবলীতে স্বাক্ষর ও অংশ গ্রহণ শুধু বিশ্বের দুর্নীতি মোকাবিলার বিষয়েই রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবদান নয়, এটা দেশের পক্ষ থেকে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদান হিসাবে. তা না হলে আধুনিক রাশিয়ার উন্নতি প্রয়োজনীয় হারে হতেই পারে না, এই কথা গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে ঘোষণা করেছেন:

   “দুর্নীতি – এটা একটা সামগ্রিক বিপদ সঙ্কেত. তা সব দেশেই রয়েছে. আর আমাদের উচিত্ হবে সমস্ত কিছুই করা যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় এই দুর্নীতির অংশের বিলোপ সাধনের জন্য. আমি মনে করি যে, রাশিয়ার নিজস্ব উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, সেই সমস্ত নীতিগত চুক্তি করা দরকার, যা দুর্নীতির মোকাবিলার কাজে নিবেদিত. আমরা তা গ্রহণ করবো. আশা করবো যে, পরবর্তী কালে এই চুক্তি আমাদের বৃহত্ আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলি, যেমন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা গুলিতে সদস্য পদ পাওয়ার জন্য সহায়তা করবে”.

   নিজের পক্ষ থেকে হোসে আঙ্খেল গুর্রিয়া বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়া খুব শীঘ্রই এই সংস্থার সম্পূর্ণ অধিকার সম্পন্ন সদস্য দেশ হতেই পারে. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৯০ সাল থেকেই এই সংস্থা রাশিয়ার বাজার নির্ভর অর্থনীতির মডেল গ্রহণে মস্কোকে সহায়তা করে এসেছে. আর বর্তমানে তৈরীও আছে রাশিয়াকে নতুন উন্নতির স্তরে অগ্রগামী হতে সহায়তা করতে.