আফগানিস্তানের এক ব্যক্তিগত টেলিভিশন সংস্থার খবর উদ্ধৃত করে "সিনহুয়া" এজেন্সী জানিয়েছে যে, পাকিস্তানে চরমপন্থী তালিবান আন্দোলনের নেতা মোল্লা ওমার ধ্বংস হয়েছে. কিন্তু এই চাঞ্চল্যকর সংবাদের কোনও সমর্থন এখনও পাওয়া যায় নি. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    "সিনহুয়া" সংস্থার খবরের অতি বাস্তব প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে. আফগানিস্তানের ব্যক্তিগত "তোলো" টেলিভিশন সংস্থা আফগানিস্তানের বিশেষ বাহিনীর উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে প্রকাশ করেছে. যারা নাকি জানিয়েছে যে, তালিবান আন্দোলনের নেতা পাকিস্তানে নিহত হয়েছে. কিন্তু এই খবর পাকিস্তানে সরকারি ভাবে স্বীকৃতী পায় নি. "আমি এটা সমর্থন করতে পারছি না" – নামোল্লেখ করা হবে না, এই রকমের কড়ার করে পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারি কর্মচারী এই কথা বলেছেন. তালিবান আন্দোলনের স্বীকৃত প্রতিনিধিরাও এই মোল্লা ওমার নিহত হওয়ার খবর সমর্থন করে নি. পশ্চিমের সংবাদ সংস্থা গুলিও চুপ করে আছে.

    কিন্তু ধরে নেওয়া যাক যে, তালিবান আন্দোলনের নেতা সত্যই ধ্বংস হয়েছে. তাহলে এই পরিস্থিতির কি প্রভাব এই অঞ্চলে পড়া উচিত্? ওসামা বেন লাদেনের নিহত হওয়ার পরে চরম পন্থী ঐস্লামিক দল গুলি পাকিস্তানে ও আফগানিস্তানে ঘোষণা করেছিল যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সরকারকে এই হত্যা কাণ্ডের প্রতিশোধ নিয়ে দেখাবে. পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশে বোমা বিস্ফোরণ হতে শুরু করেছিল, সামরিক বাহিনীর লোকেদের উপরে আক্রমণ শুরু হয়েছে. সোমবার ভোর রাতে পাকিস্তানের "মেহরান" সামরিক ঘাঁটিতে একদল তালিব যোদ্ধা আক্রমণ করেছে. এই আক্রমণের ফলে ১১ জন সৈন্য নিহত. পাকিস্তানে সক্রিয় তালিবদের প্রতিনিধি ব্যাখ্যা করেছে যে, আল- কায়দা দলের নেতা ওসামা বেন লাদেনের হত্যা কাণ্ডের প্রতিশোধ হিসাবে এই কাজ তারা করছে.

    মোল্লা ওমার ওসামা বেন লাদেনের চেয়ে এমনকি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের লোকেদের কাছের লোক. আফগানিস্তানের ঐস্লামিক আমীর শাহীর কয়েক বছর সে নেতাও ছিল, যা পাকিস্তান সহ বিশ্বের তিনটি দেশে স্বীকৃত ছিল. তাই তার হত্যায় স্থানীয় চরমপন্থীদের কাছ থেকে আরও তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া আশা করা যেতেই পারে বলে মনে করে রাশিয়ার পাকিস্তান বিশেষজ্ঞা নাতালিয়া জামারোয়েভা বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, এবারে ওসামা বেন লাদেনের হত্যা ঘিরে পাকিস্তানের তালিবান আন্দোলন, আফগানিস্তানের তালিবান আন্দোলন ও আল- কায়দার সম্মিলিত কাজ কারবারের চেয়ে মোল্লা ওমারের মৃত্যুতে তথাকথিত প্রতিশোধ আন্দোলন হবে আরও শক্তিশালী ও প্রসারিত. তাই যদি ওসামা বেন লাদেন আফগানিস্তানের ভূমি পুত্র না হয়ে থাকে, তবে মোল্লা ওমার স্থানীয় জনসাধারনের বহু স্তরের লোকের জন্য জাতীয় বীর. সন্ত্রাসের ঝড় বয়ে যেমন যাবে আফগানিস্তানের দক্ষিণ রাজ্য গুলির উপর দিয়ে, তেমনই যাবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে".

    মোল্লা ওমার কে এই সব দেশে এখনও মনে করা হয়ে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিমূর্ত প্রতিবাদ হিসাবে. এটা সত্য যে, গত কয়েক বছরে মোল্লা ওমার রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব একটা প্রকট হয় নি. কিন্তু তার আন্দোলন ন্যাটো জোট বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেছে. মোল্লা ওমার ঘোষণা করেছে যে, শান্তি আলোচনা আফগানিস্তানে শুরু হতে পারে শুধু বিদেশী সেনা বাহিনী আফগানিস্তানের মাটি ছেড়ে চলে গেলে তবেই. আর এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী আফগানিস্তানের বহু লোকেরই রয়েছে. তাই মোল্লা ওমারের আনুমানিক নিহত হওয়ার খবরও উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরী করতে পারে, আরও বেশী করে পরিস্থিতিকে তীক্ষ্ণ করে তুলতে পারে ও তালিবদের সঙ্গে আমেরিকানদের এর মধ্যেই শুরু হওয়া সরাসরি আলোচনাকে জটিল করতে পারে. এই রকম ধরলে মোল্লা ওমারের নিহত হওয়া আমেরিকার জন্য লাভজনক নয়. যদিও রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ঘোষণা করেছেন যে, পাকিস্তানে বা অন্য কোনও দেশে ওসামা বেন লাদেনকে মারার মতো আরও কোন তালিবান বা আল- কায়দা দলের নেতা ধ্বংস করার জন্য অপারেশন করতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৈরী আছে.