গত সপ্তাহের আলোচিত সংবাদগুলোর মধ্যে অবশ্যই শীর্ষ অবস্থানে ছিল উদ্ভাবনী কেন্দ্র স্কোলকভায় রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সংবাদ সম্মেলন।রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৮০০ জন সাংবাদিক ঐ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।প্রায় আড়াই ঘন্টার সংবাদ সম্মেলনে মেদভেদেভ ৪০টিরও বেশী প্রশ্নের উত্তর দেন।গনমাধ্যমগুলোর কাছে সবচেয়ে আগ্রহের যে বিষয়টি ছিল তা হচ্ছেঃআগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দিমিত্রি মেদভেদেভ অংশ গ্রহন করবেন কি না?।তবে ঐ দিন এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলে নি।

আলোচিত এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া গেলেও এই বিষয়টিই ছিল সে দিনের সংবাদ সম্মেলনের প্রধান আলোচ্যসূচী।এমনই মনে করছেন রাশিয়া-ইউরোপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কীয় স্বাধীন পরামর্শ পরিষদের সদস্য এবেরহার্দ শনেইদার।তিনি বলছেন যে,মেদভেদেভ এবং পুতিনের রয়েছে একই আদর্শ।তারা একজন অপরজনকে গত ২০ বছর ধরে চিনে।তাদের উন্নয়নে উভয়রই রয়েছে একমুখী কৌশলগত নীতিমালা।তবে তার অর্থ এই নয় যে,সব প্রশ্নের ক্ষেত্রে তাদের উভয়রই একই মতামত যা অনেকটাই যুক্তিযুক্ত নয়।মেদভেদেব বলেছেন যে,তার এবং পুতিনের মধ্যে কিছু বিষয়ে ভিন্নধর্মী ধারনা রয়েছে তবে তা খুব একটি বেশী নয়।

যদি আগামী ১ বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মেদভেদেভ খোলামেলা ভাবেই বলেছেন, যেখানে গুরুত্ব বেশী সেখানেই আমাদের বিশদ আলোচনা করা উচিত।পররাষ্ট্র সংক্রান্ত আলোচনায় যে বিষয়গুলি প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে সেগুলো হলঃ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা পরিস্থিতি,ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন ইত্যাদি।সিরিয়া বিষয়ে মেদভেদেভ সরাসরি বলেন,দেশটির ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা অনুসরন করা হচ্ছে না।তিনি বলেন,১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের নিষেধাজ্ঞা অনেক দেশ অমান্য করেছে।যদিও রাশিয়া তার একটিকে সমর্থন জানিয়েছিল এবং সর্বশেষ ঘটনাবলী থেকে দেখা যাচ্ছে যে,ঐ ধরনের নিষেধাজ্ঞা যা নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মসূচী হিসাবে পরিচালনা করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেক্সেই মাকারিন বলছেন যে, সিরিয়া ও লিবিয়া বিষয়ে মেদভেদেভকে অনেকটা শক্ত অবস্থানে দেখা গেছে।আলেক্সেই বলছেন,সমাজ চাচ্ছে না যে,পশ্চিমাদের সাথে কোনরুপ সংঘর্ষ ঘটুক,তবে সমাজ চাচ্ছে যে রাশিয়া আরও অনেক প্রভাবশালী হোক।যার সাথে আরব দেশসমূহের ঘটনাবলীও রয়েছ।

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপনকে বিশেষজ্ঞরা মেদভেদেভের আলোচনার গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।ন্যাশন্যাল স্ট্যাটেজী জার্নালের সম্পাদক আজহার কুরতোব বলছেন,যখন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপনাকে অবশ্যই রাষ্ট্র প্রধানকে চিন্তিত করে তুলবে।রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও এর সহযোগি পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহেকে অনেকবারই বলেছেন যে, তারা উত্তর কোরিয়া ও ইরানের কারণে যে যুঁকির কথা ভাবছেন সেই রকম অস্ত্র ঐ দুই দেশের(উত্তর কোরিয়া ও ইরান) নেই।স্বভাবতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ কার্যক্রম যা রাশিয়া নিজেদের জন্য যুঁকি বলে মনে করবে।

যুক্তরাজ্যের ‘বিপি’ ও রাশিয়ার ‘রসনেফট’ কোম্পানির মধ্যে চুক্তি সাক্ষর না হওয়া নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয় তার জবাবে মেদভেদেভ বলেন,চুক্তি সাক্ষর হলে তা রাশিয়ার জন্যই সুফল বয়ে আনত তবে তা সম্ভব হয় নি আইনগত কিছু জটিলতার কারণে।

সামগ্রিকভাবে রাশিয়া ও বিদেশী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মেদভেদেভের দেওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েছেন।তার উত্তরে মূলত প্রকাশ পেয়েছে যে,রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে উত্তর প্রদানে অস্বস্থি রয়েছে এমন বিষয় নেই।এমনটি মনে করছেন ইউরোপীয়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবেরহার্দ শনেইদার।তিনি বলছেন,প্রেসিডেন্ট হিসাবে দিমিত্রি মেদভেদেভের এটিই প্রথম সংবাদ সম্মেলন।যা থেকে স্পষ্ট জানা গেছে যে,তিনি যে কোন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।এমনকি সবচেয়ে অনাকাঙ্খিত প্রশ্নেরও।

গনমাধ্যমের সাথে আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান যে,রাশিয়ার জন্য বিগত কয়েকটি বছর তেমন সহজ ছিল না।বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং পরবর্তিতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি যা দেশের অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলেছিল।কিন্তু তারপরও রাশিয়া উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পথ থেকে ছিটকে পরে নি।দিমিত্রি মেদভেদেভ সাংবাদিকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন,যে সব সাংবাদিক তাদের প্রশ্নের উত্তর জানতে পারে নি,পরবর্তি সংবাদ সম্মেলনে তারা ঐ সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন।