আফগানিস্তান থেকে মাদক চোরাচালানকে বিশ্বব্যাপী হুঁমকি স্বরুপ বলে বিবেচনা করার জন্য রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহবান জানিয়েছে।রাশিয়ার ফেডারেল ড্রাগ কাউন্সিল সার্ভিসের(এফএসকেএন) প্রধান ভিকতর ইভানভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন।সম্প্রতি প্যারিসে জি-৮ ভুক্ত দেশসমূহের মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মধ্য এশিয়া দেশসমূহ থেকে আফিম পাচার রোধে করণীয় শীর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।ঐ বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে একটি নতুন আন্তঃজাতীয় সংস্থা গঠনের প্রস্তাব জানানো হয়।

আফগানিস্তানের অধিক মাত্রায় উত্পাদিত হিরোইনের বিরুদ্ধে রাশিয়া সারা পৃথিবীতে  আন্দোলন গড়ে তুলছে ।প্রতিবছর এই ভয়ঙ্করী মাদকদ্রব্যের সরবরাহের পরিমান হচ্ছে ৮২০ টন।স্বভাবতই এই চিত্র বিশ্বের জন্য মারাত্বক হুমকির।কিন্তু তা মোকাবেলায় কাগজ-কলমে এখন পর্যন্ত কোন একমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি,যা আফিমের পাচার রোধের কার্যক্রমকে পুরোমাত্রায় ব্যহত করছে।বলছিলেন এফএসকেএন’র প্রধান ভিকতর ইভানভ।তিনি বলছেন,একত্রিকরন কাজ ছাড়াও প্রতিটি দেশ নিজ নিজ পেক্ষাপটের ভিত্তিতে মাদক চোরাচালান রোধে কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহন করবে।ভিকতর বলছেন,রাশিয়া ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার(সিএসটিও) প্রতিনিধিরা চলতি বছরের শুরুর দিকে জাতিসংঘ বরাবর একটি প্রস্তাবনা পাঠায়।সিএসটিও’র রাষ্ট্র প্রধানরা আফগানিস্তানের হিরোইন উত্পাদনের ব্যপাক পরিমান যা শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুঁমকি প্রদান করছে।তবে আইনগতভাবে এই ঘোষণা দেওয়ার অধিকার রয়েছে শুধুমাত্র একটি সংস্থারই এবং তা হচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

হিরোইনের বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রমে রাশিয়ার দীর্ঘ সীমান্ত যা ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।রাশিয়ার ফেডারেল ড্রাগ কাউন্সিল সার্ভিসের মতে,রাশিয়ার ভূখন্ড ব্যবহার করেই প্রতিবছর ৪০০ টন হিরোইন পাচার করা হয়।মস্কো ও মধ্য এশিয়ার সহযোগি রাষ্ট্রসমূহ একত্রিত হয়ে এই চোরাচালান রুটে নিয়ন্ত্রনে দেয়াল গড়ে তুলার চেষ্টা করছে।আফগানিস্তানের মাদকদ্রব্য যাতে পৃথিবীর অর্ধেক সীমানা জুড়ে বিস্তৃত হতে পারে তার জন্যই রাশিয়া ও ইউরোপকেই বেছে নেওয়া হয়।একইভাবে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কোকাইন রাশিয়ায় প্রবেশ করছে।মাদক সরবরাহ বৃদ্ধি যা বিশেষজ্ঞদের ক্রমান্বয়ে আরও ভাবিয়ে তুলেছে,বলছিলেন ভিকতর ইউানভ।তিনি বলছেন,সর্বশেষ গত ১০ বছরে মাদক পাচারের হার ৪ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।বর্তমানে ইউরোপে কোকাইনের বাজার দর বছরপ্রতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে তা হচ্ছে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।পর্যবেক্ষনে জানা যায়,রাশিয়ার ভূখন্ড হয়ে কোকাইনে  সরবরাহের পরিমান প্রতিবছর ৩ গুন বৃদ্ধি পাচ্ছে।আমরা এই বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ উদ্দোগে কাজ শুরু করেছি।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে,মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধে বিভিন্ন অভিযান ও নানা কার্যক্রম শুরু হলেও বড় বড় দেশসমূহে তা এখনও সমান্তরালভাবে চালু হয় নি।