চিন এর মধ্যেই পাকিস্তানের সবচেয়ে খাস অস্ত্র সরবরাহ কারী দেশ হয়েছে, এই দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র দীর্ণ দেশে তারা কাউকে রাস্তা ছেড়ে দিতে রাজী নয়. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানির চিন সফরের সময়ে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার আরও একটি নূতন দিগন্তের উদ্বোধন করা হয়েছে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    আমেরিকার "ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল" পাকিস্তানের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উচ্চপদস্থ সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধির কথা উল্লেখ করে লিখেছে যে, এই সফরে চিনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে আরও পঞ্চাশটি জে এফ – ১৭ (ঝড়) যুদ্ধ বিমান দেওয়ার চুক্তি হয়েছে. এর আগে দেওয়া বিমান গুলির সঙ্গে এগুলি যোগ হতে চলেছে. এই বিমান গুলি এক পাইলট দ্বারা চালিত ও বহু রকমের কাজের উপযুক্ত, তার উপরে দাবী রয়েছে যে, এগুলি "স্টেলস্" প্রযুক্তি সমৃদ্ধ. এই ধরনের একেকটি বিমানের দাম প্রায় এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ডলার. পাকিস্তানের সামরিক বিমান বাহিনী আগামী কয়েক বছরে এই ধরনের বিমান পেতে চলেছে প্রায় আড়াইশো. ১৯৯৯ সালে পাকিস্তান ও চিন এই ধরনের বিমান এক সঙ্গে তৈরী করার জন্য চুক্তি করেছিল ও লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পশ্চিমের উপরে নির্ভরতা কমানোর. গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পাকিস্তান এই ধরনের চোদ্দটি বিমান দিয়ে প্রথম বাহিনী গড়েছে.

    চিনের সামরিক সমর সম্ভার বর্তমানে আরও বেশী করে ভাল হওয়ার দাবী করেছে, আর চিনের বহু অস্ত্রের নমুনাই বর্তমানে পশ্চিমের অস্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করছে. তাছাড়া, চিন পাকিস্তানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়কে কোন ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য উদ্দেশ্যের সঙ্গে জড়ায় নি, কারণ তারা তাদের চিরন্তন শত্রু ভারতের বিরুদ্ধে একসাথে লড়াই করতে চায়, দুই বার, দুই দেশই হেরেছে ও পরাজয়ের গ্লানি ভোলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তা সেই যুদ্ধ গুলি তাদের পক্ষ থেকে যতই কূপ্রতিবেশী সুলভ এবং হিংসাত্মক হয়ে থাকুক না কেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে অস্ত্র দেওয়ার সময়ে সব সময়েই নিজের স্বার্থ আগে দেখেছে, তাদের উদ্দেশ্য এই অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, তাই এক সময়ে পাকিস্তানকে পারমানবিক অস্ত্র প্রযুক্তি চুরি করা নিয়েও কিছু বলে নি. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ এই সব দেখে শুনে মস্কো শহরে মন্তব্য করেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায়শঃই পাকিস্তানের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হয়েছে, তা পারমানবিক বোমার পরীক্ষা, মানবাধিকার রক্ষায় অভাব, দুর্নীতি ইত্যাদি নানা কারণে. পাকিস্তানের সামরিক সরকার, তাই অস্ত্র ও তার রসদ না পেয়ে চিনের দ্বারস্থ হয়েছে. আর চিন তাই ভারত বিরোধীতার আরও একটা সুযোগ পেয়েছে. তারা সস্তায় নানা দেশের থেকে নকল করে তৈরী করা অস্ত্র পাকিস্তানকে বিক্রী করছে, কারণ সেই ধরনের অস্ত্রের উপরে প্রযুক্তিগত প্রকৌশল চুরির কথা আর যেই হোক পাকিস্তান কখনও বলবে না. তাই চিনও ভাল ক্রেতা পেয়েছে".

    পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে, চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত করবে না. পাকিস্তান ও চিনের সম্পর্ককে বহুদিন ধরেই "সমস্ত আবহাওয়ার উপযুক্ত" (রতনে রতন চেনে) বলা হয়ে থাকে. এই কথা চিন সফরে গিয়ে রেজা গিলানি বহুবার উচ্চারণ করেছেন. তার উপরে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক প্রায় আদায় – কাঁচকলায়. বেন লাদেনকে পাকিস্তানের ভিতরে জেনে শুনে লুকিয়ে রাখা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা করে নি ও তাদের দেশে গিয়েই নিজেরা "সন্ত্রাসবাদী নম্বর এক" কে মেরে এসেছে. পাকিস্তান ও চিনের সম্মিলিত সন্ত্রাসবাদী মধু মাস তাই আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে.

0     যদিও চিন ঘোষণা করেছে যে, তারা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াইতে সাহায্য করবে ও ভারতের দাবী অনুযায়ী মুম্বাই হামলার নাটের গুরু দের ভারতীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার কোন দরকার বোধ করতে বারণ করেছে তবুও তারা স্বীকার করেছে যে, তারা শুধু বর্তমানে একে অপরকে সম্মান করে ও একে অপরের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আরও সন্ত্রাসবাদী নিজেদের দেশ গুলিতে পালন করবে.