ন্যাটো জোট তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডারের বৃদ্ধি করছে, তারা আশা করেছে অস্ত্র দিয়ে আভ্যন্তরীণ বিরোধের সমাধান সম্ভব. জানা গিয়েছে যে, কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৩০০ লেসার রশ্মি দিয়ে লক্ষ্য নির্দেশ প্রযুক্তি সমেত বিমান থেকে ফেলার উপযুক্ত বোমা বায়না দিয়েছে. জোটের শক্তি লিবিয়াতে তাদের সামনে উপস্থিত কাজের একটাও করতে না পেরে, হতেই পারে যে, এই দেশের জমিকে এবারে তাদের অস্ত্র পরীক্ষার মাঠ হিসাবে ব্যবহার করতে চলেছে.

    কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগ ৫০০ পাউন্ডের এই বোমা গুলি কিনছে লিবিয়ার উপরে ফেলার জন্য. প্রতিটি বোমার দাম কম করে হলেও এক লক্ষ ডলার. সাধারন অঙ্ক কষেই দেখা যাচ্ছে, যে কানাডা ১৩ কোটি ডলার খরচ করতে রাজী আছে লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ বিবাদের সমাধানে এক ধরনের নিজের তরফ থেকে দান হিসাবে দিতে. এই তথ্য ন্যাটো জোটের বর্তমানে খুবই বড় রকমের অস্ত্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে পাওয়া খবরের মধ্যেই উদয় হয়েছে. সেই ভাবে, লিবিয়া ও সমস্ত বিশ্ব সঙ্কেত পেয়েছে যে, পশ্চিমের জোট, এমনকি অর্থ সঙ্কট দেখা দিলেও, নিজেদের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে রাজী নয় ও মুহম্মর গাদ্দাফি আর তার সমর্থকদের আন্তর্জাতিক আইন ও সভ্যতার নিয়ম কে এড়িয়ে মারতে উন্মুখ. ন্যাটো জোটের জন্য শক্তি দেখা যাচ্ছে এখনও শেষ কথা.

    একই সময়ে জোটের সামরিক বিমান বাহিনীর সমস্ত "যান্ত্রিক" শক্তি লিবিয়াতে এখন অবধি তাদের অকেজো অবস্থাই দেখাতে পেরেছে, এই কথা মনে করে রাশিয়ার সামাজিক – রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ বলেছেন:

"লিবিয়ার সমস্যা নূতন সমরাস্ত্র কিনেই সমাধান করা সম্ভব নয়. অনেক ক্ষেত্রেই তার শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার নিকটতম জোটের দেশগুলি, প্রাথমিক ভাবে ফরাসী দেশ ও গ্রেট ব্রিটেন, লিবিয়ার ভিতরের গৃহযুদ্ধে মাথা গলিয়েছে. আর, দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় যুদ্ধ করেও কোন ফল হয় নি. এটাই আগে থেকে বোধগম্য ছিল. শুধু বিমান আক্রমণ করেই এই ধরনের সমস্যার সমাধান হতে পারে. এর আগে জানানো হয়েছিল যে, লিবিয়ার ভিতরে অনেক আধুনিক অস্ত্রই ব্যবহার করা হচ্ছে. বাস্তবে লিবিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে পরীক্ষা ক্ষেত্র হিসাবে. তার মধ্যে অনেক আগাতই তার লক্ষ্যে পৌঁছচ্ছে না. শান্তিপ্রিয় সাধারন মানুষের মধ্যে বহু হতাহত হচ্ছেন".

একই সময়ে ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, লিবিয়াতে তাদের সামরিক কাজকর্মের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে. পশ্চিমের সামরিক বাহিনীর লোকেদের মতে, তার লক্ষ্য ছিল জামাহিরির পরিস্থিতিকে "স্থিতিশীল" করা. দেখা যাচ্ছে লক্ষ্যে সাফল্যের সঙ্গে পৌঁছনো গিয়েছে. যেমন বলা হয়ে থাকে, আকাশ থেকেই বেশী দেখা যায়. পরবর্তী ধাপ – গাদ্দাফির শক্তির নেতৃত্ব দেওয়ার কেন্দ্র গুলিকে ধ্বংস করা. সেগুলি ধ্বংস করা এবারে সম্ভবতঃ হবে খুবই নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করে. আর তাই আবার বড় প্রশ্নের উদয় হয়েছে এই ধরনের কৌশলের ফল নিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ বলেছেন:

"কোন অন্য ধরনের অস্ত্র থাকলেও তা পরিস্থিতি পাল্টানোতে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না. গাদ্দাফির সেনা বাহিনীও একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে, যা বিরোধীদের কাছে পৌঁছেছে. এটা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অসামরিক গাড়ী, যার উপরে অস্ত্র, যেমন, ভারী মেশিনগান বসানো যায়. আর এই ধরনের জিনিস আকাশ থেকে ধ্বংস করা খুবই কঠিন. কারণ বোঝা সম্ভব নয়, ও গুলো কাদের. তাছাড়া, দেখা যেতে শুরু করেছে, যে গাদ্দাফির শক্তি ও বিরোধীদের মোটামুটি একই রকমের. আর এটা ন্যাটো জোট যখন সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের হয়ে লড়াই করছে, তখন".

এই ধরনের পরিস্থিতিতে এক আতঙ্কের খবর পাওয়া গিয়েছে যে, মে মাসের শুরুতে এক বিশেষ ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছে ন্যাটো বাহিনীর পক্ষ থেকে ত্রিপোলি শহরে. বিশেষজ্ঞরা এই ক্ষেত্রে বাদ দেন নি যে, এখানে কথা হয়েছে তথাকথিত বায়ু শূণ্য অস্ত্রের, যার ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনে জনপদে নিষিদ্ধ. প্রসঙ্গতঃ এই সব আইন মানার দরকার পশ্চিমের মানবিক আদর্শে গর্বিত ও গণতান্ত্রিক সেনাবাহিনীর লোকেদের বোধহয় নেই, দেখাই য়াচ্ছে যে, তাদের জন্য এটা আবশ্যিক নয়.