পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানির চিন সফর চলছে. বুধবারে তিনি তাঁর চিনের সহকর্মী ভেন স্ঝিয়া বাও এর সঙ্গে দেখা করেছেন, শুক্রবারে দেখা হওয়ার কথা চিনের দেশ নেতা হু জিন টাও এর সঙ্গে. যার পরে অনেকেই আশা করেছেন বেশ কিছু নতুন চুক্তির. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্থান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা বৃদ্ধির সময়ে এই সফর শুরু হয়েছে, আর তিক্ততা বৃদ্ধির কারণ প্রথমে সি আই এ সংস্থার গুপ্তচর রাইমন্ড ডেভিসের লাহোর শহরে প্রকাশ্যে দুই পাকিস্তানী নাগরিককে হত্যা ও পরে তাকে বিনা বিচারে প্রত্যর্পণ এবং তার পরে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর পাকিস্তানের অনুমতির পরোয়া না করেই ইসলামাবাদ উপকণ্ঠে অ্যাবত্তাবাদে সন্ত্রাসবাদী নম্বর এক ওসামা বেন লাদেনকে হত্যা ও তারপরে ঘোষণা যে, পাকিস্তানের আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থা যে এই বিষয়ে অজ্ঞতার ভান তা একেবারেই অবিশ্বাস্য. আমেরিকা ও পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক আলোচনার সেখানেই ইতি ও শেষ অবধি অবস্থার হাল ধরতে মার্কিন সেনেটের পররাষ্ট্র পর্ষদের প্রধান জন কেরির পাকিস্তানে আগমন.

    এই রকমের একটা পরিস্থিতিতে গিলানির চিন সফরকে অনেকেরই মনে হয়েছে পাকিস্তানের চিনের তুরুপের তাস খেলা, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় দেখাতে প্রায়শই পাকিস্তান করে থাকে. পাকিস্তান যেন আমেরিকাকে দেখাতে চায় যে, যে কোন আবহাওয়াতেই চিন তাদের পরম বন্ধু. এবারেও গিলানি ও বাও এর সাক্ষাত্কারে এই মনোভাবকেই প্রকট করার চেষ্টা হয়েছে. রুশ প্রাচ্য বিশারদ গেন্নাদি চুরফিন অবশ্য চেষ্টা করেছেন এই চিন পাকিস্তান সম্পর্ককে অন্য ভাবে দেখতে, তিনি বলেছেন:

    "চিন ও পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহু দিন ধরেই দুই দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে. পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চিনের সহায়তায় রাস্তা বানানো, নানা রকমের জ্বালানী শক্তি প্রকল্পে চিনের তরফে অনুদান দেওয়া ও অন্যান্য বহু সামরিক ক্ষেত্রে সাহায্য. তাই মনে করার দরকার নেই যে, পাকিস্তান শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় দেখাতে চায়, যদিও পাক – মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে খুবই তিক্ত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের লবি বর্তমানে চেষ্টা করছে কংগ্রেসের থেকে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে বাড়তি কিছু অর্থ দেওয়ার".

    প্রসঙ্গতঃ যে কোন ভাবেই, ওয়াশিংটন খুবই মন দিয়ে পাক – চিন সম্পর্ককে দেখে, কারণ এই অঞ্চলে মার্কিন রাজনীতি চালাতে হলে তাদেরও পাকিস্তানের দিক থেকে যে কোন অবস্থাতেই সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে. বিশেষ করে যখন কথা হচ্ছে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা বাহিনীর প্রত্যাবর্তনের. এই একটা ব্যাপারে তারা পাকিস্তানের কাছে বাধ্য. চিন বিনা ঝামেলায় পাকিস্তানকে সব কিছুই দিয়ে থাকে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেওয়া নিয়ে ভাবতে বসে. যেমন, চাশমা তে গত সপ্তাহে চিনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বিতীয় ৩০০ মেগাওয়াটের পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প চালু হয়েছে. আরও দুটি চিনা রিয়্যাক্টর এখানে চিন বসাবে. তার ওপরে চিন ও পাকিস্তান একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা চুক্তিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে. কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে সে রকমের চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করে নি. তাই আপাততঃ চিন দিয়ে মার্কিন তাসকে পাকিস্তান মেরে বসে আছে. ওয়াশিংটনের কিছু বলার নেই.