লিবিয়াতে হিংসার অবসান ঘটিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় শান্তি আনয়নের প্রয়োজন – মস্কোর এই অবস্থান উত্তর আফ্রিকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীক্ষ্ণ সঙ্কট গ্রস্ত দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য. আর তা শুনেছে যেমন গাদ্দাফির শিবিরে, তেমনই বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে.

    রাশিয়া এই প্রথম বলে নি যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের লিবিয়া সংক্রান্ত ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তের ন্যাটো জোটের বাস্তবায়নের পদ্ধতিকে সমর্থন করতে পারছে না. এই জোটের সদস্য দেশ গুলি এই দলিলের লিবিয়ার উপরে আকাশকে যুদ্ধ বিমান মুক্ত রাখা সম্বন্ধে বক্তব্যকে খুবই ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা করেছে. তারা স্রেফ এই দেশের উপরে বোমারু বিমানের হামলা করে চলেছে সরকারি সেনাবাহিনীর সক্রিয়তা দমনের উদ্দেশ্য নিয়ে, আর শেষ অবধি, গাদ্দাফিকে শারীরিক ভাবে ধ্বংস করতে. দুই মাস ধরে বোমা বর্ষণ করেও এই কাজের সমাধান সম্ভব হয় নি. কর্নেল বেঁচে আছেন, আর লিবিয়াতে চলছে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র লড়াই. প্রশাসন ও বিরোধীপক্ষ এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে চাইছে. আর তার পথও আছে: শুধু রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্তের স্পষ্ট বাস্তবায়নে ও আন্তর্জাতিক সমাজের শান্তি প্রয়াসে.

    মস্কোতে গত কয়েক দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে গাদ্দাফির প্রতিনিধিরা দেখা করেছেন, যাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আরও একবার রাশিয়ার লিবিয়া সংক্রান্ত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন. এই আলোচনার শেষে লাভরভ বলেছেন:

    "আমরা লিবিয়ার নেতৃত্বে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত যাতে মানে তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলেছি, যা শান্তিপ্রিয় জনসাধারনের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের সামরিক অস্ত্র ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করে. একই সঙ্গে লিবিয়ার পক্ষকে আফ্রিকার সংঘ প্রস্তাবিত "পথ নির্দেশ" বাস্তবায়িত করতে আহ্বান করেছি. অংশতঃ, শহরগুলি থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করার কথা বলেছি, নিরাপদ এলাকা তৈরীর কথাও বলেছি. লিবিয়ার প্রশাসন রাষ্ট্রসংঘের সাথে যেন মানবিক সাহায্যের জিনিস পৌঁছনোর কাজে সহায়তা করে, দেশে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেওয়া হয়, যাদের নিয়ে লিবিয়ার বিরোধের সমস্ত পক্ষই সন্তুষ্ট থাকতে পারে".

    গাদ্দাফির অনুগামীরা আফ্রিকার সংঘ প্রস্তাবিত "পথ নির্দেশ" মানতে রাজী হয়েছেন ও রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত মানতেও তৈরী. একমাত্র যে বিষয়ে ত্রিপোলি থেকে জোর দেওয়া হয়েছে, তা হল বিদ্রোহীদের তরফ থেকেও এই বিষয় মেনে নেওয়া ও ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে বোমা বর্ষণ বন্ধ করা. এর পরে বিরোধী পক্ষের পালা. তাদের প্রতিনিধি বেনগাজি শহরে ঘাঁটি গেড়ে বসা অস্থায়ী জাতীয় সভার তরফ থেকে ওমর আল- অফেইশি ঘোষণা করেছেন যে, মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ লিবিয়ার জনতার স্বার্থে র অনুকূলে ও ইতিবাচক ফল দিতে পারে. একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন: বিদ্রোহী পক্ষ যে কোন ধরনের উদ্যোগকেই স্বাগত জানাতে তৈরী আছে, যদি সেখানে গাদ্দাফির দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া থাকে. প্রসঙ্গতঃ লিবিয়ার লোকেরা নিজেরাই ঠিক করুক, কর্নেল কে নিয়ে কি করা হবে, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেক্সেই ভাসিলিয়েভ বলেছেন:

    "মস্কোতে বেনগাজি থেকে প্রতিনিধি দলের আসার অপেক্ষা রয়েছে. আর তাদের এই একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হবে, যা দেওয়া হয়েছে সরকারি ত্রিপোলির প্রতিনিধি দলকে. এক সময়ে বিরোধী পক্ষের লোকেরা আফ্রিকা সংঘ প্রস্তাবিত পথ নির্দেশ মানতে রাজী হয় নি ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে রাজী হয়নি, কারণ তাদের মূল দাবী – গাদ্দাফির নির্বাসন. কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময়ে হয়ত উল্লেখ করা হবে যে, লিবিয়ার সমস্যা সমাধান তাদের নিজেদেরই করা উচিত্. আর এটাই মস্কো পরামর্শ দেবে".

    প্রসঙ্গতঃ এক্ষেত্রে রাশিয়া নিজের উপরে কোন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে না.  এটা রাষ্ট্রসংঘ ও আফ্রিকার সংঘের প্রাথমিক দায়িত্ব. এখানে মুখ্য হল – শান্তি শুরুর সময় ও শর্ত নির্ণয়. মস্কোর অবস্থান হল, যেখানেই কোন রকমের সামাজিক সঙ্কট চলছে সে রকম যে কোন দেশেরই আভ্যন্তরীণ বিষয়ে, নাক না গলানো, একমাত্র মানবিক সাহায্যই করা যেতে পারে. তাই লিবিয়াতে পশ্চিমের দেশ গুলির রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কায়দা মস্কোর পছন্দ হয় নি. প্রসঙ্গতঃ, বিগত কিছু দিনে খুবই সক্রিয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে সিরিয়ার পরিস্থিতি উপলক্ষে একই ধরনের দলিল রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে নেওয়ার প্রশ্ন নিয়ে.রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এর আগেই ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া এই ধরনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে না, কারণ লিবিয়া সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্তকেই পশ্চিমের জোট স্বার্থ অনুযায়ী বদলে নিয়েছে, যা এই সিদ্ধান্তের দায়িত্বের বাইরে. আর যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে পছন্দ মতো পাল্টানো যায়, তবে তা রাষ্ট্রসংঘের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, এই কথা স্কোলকোভো শহরের সাংবাদিক সম্মেলনে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন.