মে মাসের কয়েকটি দিনে মস্কো বিশ্বের হেলিকপ্টার নির্মাণের কেন্দ্র হতে চলেছে. "হেলিরাশিয়া ২০১১" প্রদর্শনীতে (১৯ থেকে ২১ শে মে) ইউরোপের একটি বৃহত্তম প্রদর্শনী কমপ্লেক্স "ক্রোকুস এক্সপো" চত্বরে প্রথম সারির হেলিকপ্টার কোম্পানীরা তাদের নিয়মিত উত্পাদিত ও ভবিষ্যতের মডেলের ঘুরন্ত ডানা ওয়ালা যন্ত্র দেখাতে নিয়ে আসছেন.

    এই বছরে রেকর্ড সংখ্যক কোম্পানী অংশ নিতে চলেছেন, ১৬টি দেশের ১৬১ টি কোম্পানী. তাদের মধ্যে রয়েছে – রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, জার্মানী, কানাডা. এই বারে প্রথম আমেরিকার সিকোরস্কি এয়ারক্র্যাফ্ট কর্পোরেশন রাশিয়াতে তাদের তৈরী যন্ত্র প্রদর্শনী করতে নিয়ে আসছেন.

    যেমন বড় গাড়ীর প্রদর্শনী গুলিতে হয়ে থাকে, তেমনই হেলিরাশিয়া প্রদর্শনীও নতুন মডেল দেখানো থেকে বাদ যাবে না. ইউরোপে প্রথমবার দেখানো হতে চলেছে হাল্কা হেলিকপ্টার. সেটা উপস্থিত করছে সুইজারল্যান্ডের কোম্পানী মারেনকো সুইস হেলিকপ্টার. তাছাড়া, প্রদর্শনীতে প্রথমবার দেখানো হতে চলেছে ইউক্রেনের নির্মাতা "আয়েরোকপ্টার" ডিজাইন ব্যুরোর যাত্রী বাহী হেলিকপ্টার এ কে ১- ৩, ফ্রান্সের ই সি ১৩৫ ইউরোকপ্টার ও আমেরিকার কোম্পানী রবিনসন হেলিকপ্টারস এর তৈরী গ্যাস টারবাইন সমেত হেলিকপ্টার আর ৬৬, এই কথা উল্লেখ করে হেলিকপ্টার শিল্প সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি মিখাইল কাজাচকোভ বলেছেন:

    "বিদেশী উত্পাদকদের নতুন যন্ত্র প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে রবিনসন আর ৬৬ হেলিকপ্টার. ইউরোপীয় মহাদেশে একমাত্র হেলিরাশিয়া ২০১১ প্রদর্শনীতেই তা প্রথমবার দেখানো হতে চলেছে, এটা প্রদর্শনীর সাফল্যকেই বিশেষ করে উল্লেখ করে. এটা আর ৪৪ হেলিকপ্টারের গ্যাস টারবাইন সমেত রকমফের, যা এমনকি রাশিয়ার বাজারেও খুবই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত দেখছে".

    "রাশিয়ার হেলিকপ্টার" হোল্ডিং কোম্পানী, যারা এই বছরে সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী করছে, তারাও বেশ কয়েকটি নতুন মডেল দেখাবে. তার মধ্যে – অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে লড়াই করার হেলিকপ্টার, খোঁজ ও উদ্ধারের হেলিকপ্টার. পৃথিবীতে বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডের মোকাবিলা করার জন্য হেলিকপ্টারের চাহিদা ক্রমশই বাড়ছে – গত বছরে দাবানল শুধু রাশিয়াতেই হয় নি, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশেও হয়েছে, হয়েছে আমেরিকা ও এশিয়ার দেশ গুলিতেও. "রাশিয়ার হেলিকপ্টার" কোম্পানীর নূতনত্ব নিয়ে বলেছেন কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর দিমিত্রি পেত্রভ:

    "এখানে কা – ৩২ হেলিকপ্টার দেখানো হবে. এর একটি ধরনে নতুন চিকিত্সা করার উপযুক্ত অংশ জোড়া হয়েছে, দ্বিতীয়টিতে রয়েছে ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে জল ছোঁড়ার কামান থেকে জলের স্রোত দিয়ে আগুণ নেভানোর ব্যবস্থা. বিশেষজ্ঞদের মতে, আগুণ নেভানোর জন্য হেলিকপ্টার গুলির মধ্যে এটি সেরা".

    বহু দেশেই আগুণ নেভানোর কাজের জন্য কা – ৩২ ধরনের হেলিকপ্টার বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে, এই হেলিকপ্টার আবার বিপর্যয় ও দূর্ঘটনা গ্রস্ত জায়গা থেকে আহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের উদ্ধার ও ত্রাণের কাজেও লাগে. একই সময়ে রাশিয়াতে নতুন মডেলের হেলিকপ্টার তৈরীর কাজও চলছে, যা বিশ্বের বাজারে প্রয়োজনীয় হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি পেত্রভ যোগ করেছেন:

    "কা – ২২৬টি হেলিকপ্টার আমেরিকায় তৈরী চিকিত্সা করার উপযুক্ত মডিউল লাগানো অবস্থায় – একেবারেই নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার. ২০১২ সালে এই হেলিকপ্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়া উচিত্ ও ইউরোপীয় সংস্থার কাছ থেকে সার্টিফিকেট পাওয়ার কথা. কা – ২২৬টি হেলিকপ্টারে ফ্রান্সের টুরবোমেকা কোম্পানীতে তৈরী ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে. আমাদের এই সমস্ত কোম্পানীদের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ. আমরা একই ভাবে খুব শীঘ্রই বিখ্যাত মি – ৮ হেলিকপ্টারের আধুনিক এক মডেল তৈরী করা শুরু করতে চলেছি".

    বর্তমানে বিশ্বের হেলিকপ্টারের বাজার সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসছে. নতুন ও নিয়মিত মডেলের জন্য চাহিদা বাড়ছে. মস্কোর ফোরাম দেখাবে, কি ধরনের মডেল তৈরী হতে চলেছে আগামী বছর গুলিতে.